London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

শাফির মায়ের করুণ আকুতি

মাসুম রেজা

শাফি আহমেদ খান একজন বাঙালী যুবক, বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেইনে এসেছিলেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চ্যারিটি অর্গ্যানাইজেশন 'অক্সফাম' এ চাকরির সুবাদেবিলেতে আসার আগে শাফি দিল্লিতে অক্সফামের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় কর্মরত ছিলেনহিসাববিদ হিসাবে অসাধারণ কর্মদক্ষতা দেখানোর ফলে ২০০৫ এর জুলাই মাসে অক্সফামের প্রধান কার্যালয় অক্সফোর্ডে তাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ-দেশে আসার পরপরই শাফি 'সাবারাখনইড হেমোরেজ গ্রেইড ফৌর'-এ আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের কিং জর্জ হাসপাতালে ভর্তি হন। 

'সাবারাখনইড হেমোরেজ গ্রেইড ফৌর' এর কারণ মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ আক্রান্ত হওয়ার পরদিন শাফির জ্ঞান ফিরে আসে কিন্তু সেদিন রাতে পুনরায় রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে জীবন রক্ষাকারী মেশিনের সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়এরপর নানা হাসপাতালে স্থানান্তর এবং নানা ধরণের চিকিৎসা করা হয়যেহেতু শাফি ব্রিটিশ নাগরিক নন, তাই কোন্‌ সংস্থা তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে সবসময়ই এ-প্রশ্ন দেখা দিয়েছেযেহেতু শাফি বিলেতে আসার পরপরই রোগে আক্রান্ত হন, ফলে তিনি অক্সফামে জয়েন করতে পারেননি কিন্তু অক্সফাম কর্তৃপক্ষ অবগত ছিলো যে, শাফি বিলেতে এসেছেন এবং পরদিনই কাজে যোগ দেবেন

এনএইচএস-এর পক্ষ থেকে সংশয় ছিলো অক্সফাম তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে কি-নাসেটা যাই হোক, শাফি এদেশে এসেছিলেন অক্সফামের ওয়ার্কপারমিটের অধীনে, সুতরাং এনএইচএস-এর চিকিৎসা পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার তার ছিলো, আছে এবং তিনি তা পাচ্ছেনও শাফি বর্তমানে মিডোকৌর্ট নার্সিংহৌমে চিকিৎসাধীন আছেনকিছুদিন আগে শাফিকে রিহাবের জন্য 'অক্সফোর্ড সেন্টার ফর এনাবলমেন্ট, ন্যুফীল্ড'-এ পাঠানো হয়সেখান থেকে ফিরে শাফির লেভেল অফ এ্যওয়ারনেস এবং এলার্টনেস এখন কিছুটা উন্নতির দিকেদুএকটা কথাবার্তাও বলেন, 'হ্যা-না' বলে কথার উত্তরও দিতে পারেনঠিকমতো রিহ্যাব হলে শাফি আরো উন্নতি করবেনশাফির প্রধান সমস্যা হলো তিনি এখনও মুখ দিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন না; ফলে তাকে বিশেষ ব্যাবস্থায় টিউবের সাহায্যে বা পিইজি (পেগ) ফীডিং করাতে হয়

এরই ভিতরে শাফির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছেহৌম অফিসে  ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্যে আবেদন করা হলে তারা তার আবেদন নাকচ করে শাফিকে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যে বলেছে আপীলের জন্যে সুযোগ থাকলেও হৌম অফিস যেসব কারণ দেখাচ্ছে, তাতে মনে শাফির জন্য আর কোনো পথ যেন খোলা নেই।  অথচ শাফিকে যে-পদ্ধতিতে খাওয়ানো হয়, তার কোন সুব্যবস্থা বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালে নেই এবং বিশেষ একটি মেডিসিন বাংলাদেশে পাওয়া যায় নাহৌম অফিস থেকে খোঁজ নিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্কয়ার এবং এ্যাপোলো হাসপাতালে 'পিইজি' (পেগ) এর ব্যবস্থা আছেকিন্তু স্কয়ার হাসপাতাল লিখিতভাবে জানিয়েছে, তাদের 'পেগ ফীডিং' মেশিন থাকলেও 'সোয়ালোইং ফাংশান' এবং 'সাইক্রিয়াটিক ও কগনিটিভ ফাংশান' পরিমাপ করার মতো কোনো 'ক্লিনিক্যাল নিও থেরাপিস্ট এবং স্পিস থেরাপিস্ট' না থাকার ফলে শাফির মতো রোগীকে সেখানে চিকিৎসার তেমন কোনো সুযোগ নেই

বাংলাদেশের এ্যাপোলো হাসপাতাল থেকেও একই রকম কথা বলা হয়েছেবাংলাদেশের ডাক্তারদের মতে, এ-জাতীয় থার্ড গ্রেইডের রোগ তাদের হাসপাতালগুলোতে বাঁচানো কঠিন, আর শাফি হলেন ফৌর্থ গ্রেইডের রোগী এ-অবস্থায় শাফিকে দেশে ফেরত পাঠানো অর্থ তার নিশ্চিত মৃত্যু

এছাড়াও আছে চিকিৎসার ব্যয়ভার, যা শাফির মা সাইদা সরওয়ারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নাচিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে ব্যয় হবে প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকাসাফিকে এদেশে রেখে তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখার জন্য ব্রিটিশ হৌম অফিসের কাছে আকুতি জানিয়েছে শাফির মা সাইদা সরওয়ারের শাফির মায়ের আকুতি ব্রিটিশ হৌম অফিসের কানে পৌঁছুবে কি-না কে জানে?

মাসুম রেজাঃ  লেখক ও নাট্যকার

আপলৌড ২৪ অক্টোবর ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.