London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে শান্তি গেলো কোথায়?

শামসুল আলম মেহেদী

এমন কোনো বাঙালী পাওয়া কঠিন, যার কাছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আদরণীয় নন। রবীন্দ্রনাথ গত হয়েছে অনেক যুগ আগে, কিন্তু আজও তাঁকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি রেখে গেছেন তাঁর স্বপ্নের সৃষ্টি শান্তিনিকেতনকবিগুরুর ভক্তকুল মনের টানে থেকে-থেকে ছুটে যান শান্তিনিকেতনে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্ত যে-কেবল বাঙালী, তা নয়। বিশ্ব-সাহিত্যের খোঁজ-রাখা যে-কোন জাতির মানুষ চিনেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকে। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য থেকে একজন ইংরেজ শিক্ষক গিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনেফিরে এসে তিনি তাঁর ছাত্রদের বলেছিলেন, 'আমি একটা শান্তির জায়গা দেখে এসেছি, যেখানে আসলেই শান্তি রয়েছে।' শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে শিক্ষকটি বললেন, 'তোমরা চাইলে দেখে আসতে পারো সে-স্থানটি, যার নাম শান্তিনিকেতন।' ইংরেজ মাষ্টার সাহেবের কথা সেদিন একজন সাংবাদিক পত্রিকার পাতায় তুলে ধরার ফলে আমি পড়তে পেরেছিলাম। পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

যারা শান্তিনিকেতনে গিয়েছেন এবং লিখেছেন, তাদের কাছে বক্তব্য থেকে একটা উপলব্ধি বেরিয়ে আসে যে, কবিগুরুর পছন্দের বিদ্যাপীঠটির শান্তি নিকেতন নামটি একটি সার্থক নামকরণ। তিনি তাঁর জীবনের সবটুকু দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন শান্তি নিকেতন। তিনি সফল কবি এবং সফল স্বপ্নদ্রষ্টা। শান্তি নিকেতনই তার স্বপ্ন। কবিগুরুর স্বপন এবং স্বপ্নের জগৎ এখন আমাদের হাতেতাঁর স্বপ্নের ও শান্তির জগতকে ধরে রাখা আমাদের কর্তব্য

কিন্তু যেদিন কবিগুরুর শান্তিনিকেতন থেকে নোবেল-পদক চুরি হলো, সেদিন অন্যান্যদের মতো আমার বুকেও আঘাত লেগেছিলো। মনে হয়েছিলো শান্তি নিকতনেও কি কেউ চুরি করতে পারে? তাও কি-না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পদক? কিন্তু বিধাতা পুরুষ হয়তো সে-দিন মনে-মনে হেসে বলেছিলেন দেখার তো আর বাকী আছে! অপেক্ষা করো।

বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি চুরির চেয়েও জঘন্যতর ঘটনা শোনার জন্য। ৬ জানুয়ারী রোবারে দুপুরে আমরা সবাই চমকে উঠে শুনলাম শান্তি নিকেতনে খুনের ঘটনা।

জানা গেলো, বহিরাগত এক যুবক শান্তিনিকেতনের একটি হোস্টেলে ঢুকে গুলি করে হত্যা করেছে সঙ্গীতভবনের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শাশ্বতী পালকেআততায়ী যুবক অমরেশ কুন্ড শাশ্বতী পালের প্রণয়-প্রত্যাশী ছিলেন দীর্ঘদিন ধরেপুলিশ সূত্রে প্রকাশ, শ্বাশতীর সাথে অন্য একজনের সম্পর্কের সংবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে খুন করেছে অমরেশ!

আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন এই ভেবে যে, কবিগুরুও শান্তিনিকেতনে আজ শান্তি গেলো কোথায়। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে যে, শান্তি নিকতেন চুরি হচ্ছে, খুন হচ্ছে - এ সংবাদ যদি জীবদ্দশায় কবিগুরু শুনতেন, কী কষ্টটাই না পেতেন তিনি!

শান্তি নিকেতনের মতো স্থানে শিল্প ও সঙ্গীতের বিদ্যার্থীরা নিরাপদ নয়, একি ভাবা যায়। তপোবনে রক্তপাত!

রাষ্ট্র লঘু সম্পদের নিরাপত্তার জন্য কতো ব্যয় করে। রাষ্ট্র কি পারে না অমূল্য সম্পদ শান্তি নিকেতনকে নিরাপদ ও নিষ্কন্টক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে?

শান্তি নিকতনে শান্তি ফিরে আসুক - কবিগুরু রবি ঠাকুরের স্বপ্নের সৃষ্টি অটুট থাকুক - এই আমাদের প্রত্যাশা।

শামসুল আলম মেহেদী, সিলেটের ডাকের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

sylheterdak.news@yahoo.co.uk

১০ জানুয়ারী, ২০০৮

   

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.