চে গুয়েভারার ৪০তম মৃত্যু-বার্ষিকীঃ বধ্যভূমিতে পদযাত্রা

লাতিন আমেরিকার কমিউনিস্ট বিপ্লবী চে গুয়েভারের চল্লিশতম মৃত্যু-বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বলিভিয়ার লা হিগুয়েরাতে জড়ো হয়েছেন হাজার-হাজার মানুষএছাড়াও জানা গেছে যে, ৯ অক্টোবর চে'র মৃত্যুদিবস স্মরণে লা হিগুয়েরা অভিমুখে ষাট কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন কয়েকশো মানুষ

খবরে প্রকাশ, রোববার প্রচন্ড খারাপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে আসা মানুষজন ভ্যালিগ্রানদে টাউন থেকে লা হিগুয়েরার দিকে যাত্রা শুরু করেনরাতের বেলা শুধুমাত্র টর্চলাইটের আলো সম্বল করে এসব চে-প্রেমী দূর্গম পথটুকু পাড়ি দেন

সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রশ্নের জবাবে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা জানান যে, চে'র স্মরণে এটুকু পথ হাঁটতে পেরে তারা গর্বিততাঁরা আরো উল্লেখ করেন যে, চে হচ্ছেন তাদের নেতা, আদর্শ ও আইকন। 

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর সিআইএ'র সহযোগিতায় বলিভীয়-বাহিনী চে গুয়েভারা ও তাঁর সহযোগীদের হত্যা করে লা হিগুয়েরা গ্রামে১৯৯৭ সালে ভ্যালিনগ্রাদের একটি গণ-কবরে চে ও তাঁর সহযোদ্ধাদের দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়

সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, গত শুক্রবার থেকে হাজার-হাজার লোক লা হিগুয়েরাতে চে গুয়েভারার স্মরণ-মেলাতে অংশ নিচ্ছেনবলিভিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামটি গত কয়েক দিন ধরে পূর্ণ হয়ে আছে চে-প্রেমীদের ভীড়ে

সোমবার চে গুয়েভারর স্মরণ-মেলার শেষ দিনটিতে অজস্র চে-প্রেমীর সাথে আরো উপস্থিত লিওনার্ডো নুনেজ ও এমিলিও মোরালেসনুনেজ চে এর সাথে বলিভিয়াতে বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেনসিআইএর সহযোগিতায় বলিভীয় সেনাবাহিনী চে গুয়েভারাদের উপরে লা হিগুয়েরাতে যে-হামলা চালিয়েছিলো, তাতে মাত্র তিনজন বিপ্লবীর জীবন বেঁচেছিলোনুনেজ তাঁদের একজন

চে'র উদ্দেশে শ্রদ্ধা প্রকাশ-কালে বিপ্লবী জীবনে 'আর্বানো' নামে পরিচিত নুনেজ বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে এ-পৃথিবীর প্রভূ মনে করে।' কিউবার বিপ্লবে চে'র সাথে অংশ নেয়া এমিলিও মোরালেস বলেন, 'সশস্ত্র সংগ্রাম এখনও প্রয়োজনীয়উল্লেখ্য, স্মরণ-মেলায় আগত অনেক মানুষ চে গুয়েভারার ইমেজের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জ্ঞাপন করেছেন এদের একজন একটি সংবাদ-সংস্থাকে বলেন, আমরা সবাই চে'র সন্তানতিনি আমাদের মাঝে জীবিতের চেয়ে বেশি কিছু হয়ে উপস্থিত আছেন

বলিভিয়া সরকারের পক্ষ থেকেও চে'র স্মৃতির প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে সোমবাররাষ্ট্রপ্রধান ইভো মোরালেস ভ্যালিগ্রানদেতে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে নেতৃত্ব দেনপরে তিনি লা হিগুয়েরাতে উপস্থিত হন চে'র স্মরণে মোরালেস বলেন, 'চে'র জীবনের ঔজ্জ্বল্য ম্লান করে দেয়াটা অসম্ভবকেউ চাইলেও তা পারবে না।' মোরালেস আরো বলেন, 'মানবতার স্বার্থে জীবন উৎসর্গ করার পর কেউ নিজেকে চে'র উত্তরসূরী হিসাবে দাবী করতে পারে।'

এদিকে কিউবাও চে'র মৃত্যু-দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদার মাধ্যমে পালিত হয়েছেসংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার-হাজার মানুষ সান্তা ক্লারা শহরের চে গুয়েভারার সমাধি-স্থলে এসে শ্রদ্ধা-জ্ঞাপন করেন এবং রাষ্ট্রীয় স্মরণ-অনুষ্ঠানে অংশ নেন

উল্লেখ্য, চে গুয়েভারে সান্তা ক্লারাতে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সহযোদ্ধা হিসাবে বিপ্লবী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেনকিউবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো সোমবারের স্মরণ-অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেনসান্তা-ক্লারার অনুষ্ঠানে চে'র স্মরণে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর একটি বাণী পাঠ করে শোনানো হয়ক্যাস্ত্রো চে গুয়েভারাকে 'ব্যতিক্রমী এক সৈনিক' হিসাবে বর্ণনা করেনভেনিজুয়েলা থেকেও চে এর মৃত্যু-বার্ষিকী পালনের খবর পাওয়া গেছেচে গুয়েভারাকে 'অনিঃশেষ বিপ্লবী' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ

৮ অক্টোবর, ২০০৭

আগাম-নির্বাচন বিষয়ক জটিলতার দায়-দায়িত্ব স্বীকার ব্রাউনের

গত এক-দেড় সপ্তাহ ধরে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিটেইনের রাজনীতিতে যে-ঝড় বয়ে গেছে, তার সকল দায়-দায়িত্ব নিজের উপরে নিয়ে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন

সোমবার সংবাদ মাধ্যমগুলোর সাথে আলাপকালে ব্রাউন স্বীকার করেন যে, নির্বাচন না হবার সিদ্ধান্তটি  আর আগে ঘোষণা করলেই ভালো হতোএকই সাথে তিনি নির্বাচন বিষয়ক সিদ্ধান্তটিকে সঠিক হিসাবে উল্লেখ করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেনউল্লেখ্য, ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েনিবার ব্রাউন উল্লেখ করেন যে, এ-বছর তো হবেই না, এমনকি সামনের বছরেও পার্লামেন্ট নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই

সোমবার ডাউনিং স্ট্রীটে সাংবাদিকদের সাথে নিয়মিত মাসিক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ-কালে গর্ডন ব্রাউন উল্লেখ স্বীকার করেন যে, নভেম্বর মাসের নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে 'সম্ভবত' তাঁর পক্ষ থেকে আরো আগেই হস্তক্ষেপ করাটা সঙ্গত ছিলোঘোষণার বিলম্ব-জনিত কারণে সৃষ্ট জটিলতার সকল দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে নেন ব্রাউন

নিজের ঘোষণার ব্যাপারে যুক্তি বিস্তৃত করে ব্রাউন বলেন, 'দলগুলির বার্ষিক সম্মেলনের মৌসুম শেষ হবার পরে সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে আমি মনস্থির করেছিলাম।' এ-ব্যাপারে বর্তমান ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সম্ভবতঃ আরও আগেই আমার এটা করা উচিত ছিলো।' তবে নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচের ঘোষণার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পক্ষে ও বিপক্ষের কথাবার্তা শোনার পর তিনি সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছেন

ব্রাউন উল্লেখ করেন যে, মাঝে একবার তিনি নির্বাচনের কথা ভেবেছিলেনতবে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন দেশের জনগণের কাছে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো তুলে ধরা এবং সে-গুলোর বাস্তবায়ন ঘটানোর দিকেপ্রধানমন্ত্রী দাবী করেন যে, দলের সর্বমহলে এবং জনগণের সাথে তিনি কথাবার্তা বলেছিলেন এবং জয়লাভের ব্যাপারে নিশ্চয়তা পেয়েছিলেন

নিজের দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর ব্যাপারে কথা বলতে যেয়ে ব্রাউন উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুরো গ্রীষ্ম-জুড়ে ফুড এন্ড মাউথ রোগ, বন্যা, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক সঙ্কটের দিকে নজর করতে যেয়ে তিনি স্বাস্থ্য, আবাসন ও শিক্ষা-সহ ব্রিটেইনের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ব্যাপারে এখনও যথাযথভাবে দৃষ্টি দিতে পারেননিব্রাউন দাবী করেন যে, এসব কারণেই তিনি নির্বাচনের পথে হাঁটেননি

পুরো বিষয়টি যথাযথভাবে পরিচালনা করা হয়েছে কি-না সে-ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে গর্ডন ব্রাউন কৌতুক-সহকারে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার মনে হয় আমার চেয়ে এবার আপনাদের উইক-এন্ড ভালো কেটেছে।' সোমবারের আলাপচারিতায় পর পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, ২০১০ সালে মেয়াদ পূর্ণ হবার আগে পর্যন্ত লেবাররা আর নির্বাচনের রাস্তায় হাঁটবে নানির্বাচনী ইস্যুতে সঙ্গী-সাথীদের কাছ থেকে ঠিকমতো শলা-পরামর্শ পেয়েছেন কি-না, সাংবাদিকদের পক্ষ এহেন প্রশ্নের উত্তর পাশ কাটিয়ে যেয়ে ব্রাউন বলেন, যা কিছু ঘটেছে, তার দায়-দায়িত্ব সর্বাংশে আমার প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবার কারণে এবার তিনি সাংবিধানিক সংস্কার এবং সিটিজেনস জুরী প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দিতে পারবেন

৮ অক্টোবর, ২০০৭

ইরাক থেকে আড়াই হাজার ব্রিটিশ-সেনা কমিয়ে আনা হবে

আগামী বছর বসন্ত কালের ভেতরে ইরাক থেকে আড়াই হাজার ব্রিটিশ সেনা কমিয়ে আনা হবে।  সোমবার কমন্স সভায় দেয়া এক বিবৃতিতে তথ্যটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনউল্লেখ্য, ক্রিসমাসের আগেই এক-হাজার সেনা ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো কিছুদিন আগে

সোমবারের ঘোষণায় ব্রাউন জানান, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় চারটি প্রদেশের তিনটির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশরা সরকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেবাকী একটি প্রদেশ, অর্থাৎ বসরার দায়-দায়িত্বও এভাবে ইরাকীদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে জানান তিনিঅন্যান্য প্রদেশের মতো বসরাতেও ব্রিটিশ সেনারা শুধুমাত্র দেখাশোনার কাজে নিযুক্ত থাকবেনএ-প্রসঙ্গে ব্রাউন বলেন, 'পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে আঠারোটি প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়ার ব্যাপারে ২০০৪ সালে আমি ইরাক সরকারের সাথে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম।' তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে তেমন একটি পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে

পরিকল্পনা অনুসারে, তিন পর্যায়ে আড়াই হাজার সেনা কমাবে ব্রিটেইনপ্রথম ধাপে বর্তমানে সাড়ে ৫ হাজার সেনা-সংখ্যা কমিয়ে সাড়ে ৪ হাজার করা হবে; দ্বিতীয় ধাপে আরো পাঁচশো সেনা হ্রাস করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আড়াই হাজারে নিয়ে আসা হবেব্রাউন কমন্স সভাকে আরও জানান যে, সেনা সংখ্যা হ্রাসের পর থেকে ইরাকের বাইরেও পাঁচশো সেনার একটি দলকে সহযোগী হিসাবে রাখা হবেতবে আশেপাশের কোন দেশে প্রস্তাবিত পাঁচশো সেনাকে কোথায় রাখা হবে তা জানাতে অস্বীকার করেন ব্রাউন

এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেইভিড ক্যামেরোন কমন্স সভায় বৃক্ততা-কালে উল্লেখ করেন যে, ইরাক থেকে সেনা-প্রত্যাহারের ব্যাপারটি নিয়ে কূট-কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেনক্যামেরোন আরো দাবী করেন যে, এ-ব্যাপারে ব্রাউনের আচরণ 'অগ্রহণযোগ্য'।

৮ অক্টোবর, ২০০৭