|
মাংস-ভোজীদের
চেয়ে নিরামিষ ও মাছ-ভোজীদের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কম
মাংস-ভোজীদের
চেয়ে নিরামিষাশী ও মাছ-ভোজীদের মানুষদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি
অনেকটাই কম থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বারো বছর ধরে পরিচালিত গবেষণার-ভিত্তিতে
বুধবার উপরোক্ত তথ্যটি প্রকাশ করেছে অক্সফৌর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার রিসার্চ
ইউকে ইপিডেমিওলজী ইউনিট। ব্রিটিশ জার্নাল অফ ক্যান্সারে
গবেষণা থেকে
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, মাংস-ভোজীদের তুলনায় মাছ-ভোজীদের রক্তে ক্যান্সারে আক্রান্ত
হবার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ কম। বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে লিউকেমিয়া, মাল্টিপল মিয়েলৌমা ও
নন-হডকিন লিম্ফৌমার মতো রক্তের ক্যান্সারগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। গবেষণাতে দেখা
যায়, রক্তের ক্যান্সার ছাড়াও যে-কোনো ধরণের ক্যান্সারের আক্রান্ত হবার ক্ষেত্রেও
নিরামিশভোজীদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। রক্তে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে
ঝুঁকি কম থাকার ব্যাপারে গবেষণা-প্রতিবেদনের সহ-লেখক নাওমী এ্যালেন জানান, প্রমাণ
পাওয়া গেলেও ঠিক কী কারণে নিরামিষাশীরা কম ঝুঁকিতে থাকেন, তা এখন পর্যন্ত জানা
সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি হিসাব করার
ক্ষেত্রে ধূমপান, এ্যালকৌহল ও মুটিয়ে যাবার মতো ব্যাপারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া
হয়নি। এ্যালেনের মতে, অধিক পরিমাণে আঁশ, ফল বা সবজি খাবার কারণে নিরামিষাশীরা রক্তে
ক্যান্সার আক্রান্ত হবার ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিতে থাকেন কি-না, তা আরও গবেষণা করে দেখতে
হবে।
উল্লেখ্য, ১২ বছর
ধরে সর্বমোট ৬১ হাজার মানুষের উপরে গবেষণার ভিত্তিতে গবেষণা-পত্রটি প্রকাশ করা
হয়েছে। গবেষণা সময়-কালটিতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৫০ জন। এদের মধ্যে
৬৮ শতাংশ (২ হাজার ২০০৪) মাংস-ভোজী, ২৪ শতাংশ (৮
শো)
নিরামিষাশী ও সাড়ে ৯ শতাংশ (৩ শত) মাংস পরিহার করা মাছ-ভোজী মানুষ। ক্যান্সার
আক্রান্ত মাংস-ভোজীদের মধ্যে ১৮০ জন, নিরামিষাশীদের ৪৯ জন ও মাছ-ভোজীদের ২৮ জন
রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।
অক্সফৌর্ডের
গবেষণাটির ব্যাপারে মত প্রকাশ-কালে যুক্তরাজ্যের ভেজেটারিয়ান সৌসাইটীর চীফ
এক্সিকিউটিভ এ্যানেটি পিনার বলেন, আমারা বলছি না-যে নিরামিষের অভ্যাসটির মাধ্যমে
ক্যান্সারের ব্যাপারটিকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেয়া যায়, তবে এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা
সঠিক পথের দিকে পরিচালিত হয়।
লক্ষণীয় ব্যাপার,
অক্সফৌর্ড থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হচ্ছে মাংস পরিত্যাগ করে নিরামিষে অভ্যস্থ
হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে গবেষকদের পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ প্রমাণ। স্মরণ করা
যেতে পারে, গত জাতিসংঘের ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেইঞ্জের পক্ষ
থেকেও নিরামিষ-ভোজী হয়ে যাবার আহবান জানানো হয়েছিলো। জাতিসংঘের সংস্থাটির প্রধান ডঃ
রাজেন্দ্র পাচৌরির মতে সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন নিরামিষ ভোজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক
উষজ্ঞতা রোধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
লন্ডনঃ
১ জুলাই
২০০৯ |