|
ইরাকের শহরগুলো থেকে সরে গেছে মার্কিন বাহিনীঃ দেশজুড়ে উল্লাস
আগ্রাসন
শুরু করার ছয় বছর পরে এসে রাজধানী বাগদাদ-সহ
ইরাকের প্রধান শহরগুলো থেকে সরে গেছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার ঘড়ির কাঁটা মধ্য-রাতের
ঘর অতিক্রম করার ঠিক আগে-আগে পূর্ব-সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইরাকী বাহিনীর হাতে দায়িত্ব
ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে। ইরাক সরকার
এ-ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের পুনরুজ্জীবন হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। এদিকে, মার্কিনী
বাহিনীর দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষ্যে জনসাধারণের আনন্দ-উল্লাসের সময়টিতেই দেশের
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরকুকে এক বোমা হামলাতে অন্তত ৪০ ব্যক্তির প্রাণহানির খবর
পাওয়া গেছে।
প্রধান-প্রধান
শহর-নগর থেকে মার্কিন বাহিনীর সরে যাওয়া উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালিকির
উপদেষ্টা সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে করণীয়গুলো সম্পন্ন করার পরে সকল
শহর থেকে মার্কিন সেনাদেরকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি জানান, ইরাক এখন
সার্বভৌমত্ব পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ব্যাপারটি উদযাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী মালিকির পক্ষ
থেকে আসা এক ঘোষণাতে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের ঘটনাকে দেশের জন্য একটি
‘টার্নিং
পয়েন্ট’
হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। খবরে প্রকাশ, মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়া উপলক্ষ্যে
বাগদাদ-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইরাকীরা আনন্দ-উল্লাস প্রকাশের জন্য রাস্তায় নেমে
আসেন। অনেক স্থানে লোকজন আতশবাজি পুড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ-ঘটনাটি উদযাপন করেন।
বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে প্রতিথযশা শিল্পীরা দেশাত্মক সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ
ইরাকীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস তৈরী হলেও, সদ্য দায়িত্ব-প্রাপ্ত ইরাকী বাহিনীর মধ্যে
নিরাপত্তা-নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গেছে, দায়িত্ব
পাবার পরপরই বাগদাদ-সহ বিভিন্ন শহরে ইরাকী বাহিনী টহল দিতে শুরু করা ছাড়াও
স্থানে-স্থানে রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, মার্কিন
সেনাবাহিনী সরে যাবার সাথে-সাথেই উত্তরাঞ্চলের কিরকুক শহরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে
কমপক্ষে ৪০ ব্যক্তি প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া গেছে। এ-ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামনের
দিনগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন্ দিকে মোড় নেয়, সে-ব্যাপারে পশ্চিমের কোনো-কোনো
সংবাদ-মাধ্যমে এক ধরণের আশঙ্কা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এ-ধরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে
সাবেক ইরাকী কূটনীতিক
মাহমুদ আল
মুসাফির মিডিয়াকে বলেন, ‘এগুলো
হচ্ছে মার্কিন প্রচারণা, তারা এসব কথা-বার্তা সারা বিশ্বের কাছে বিক্রি করতে চাইছে।’
মুসাফির জানান, ‘দুঃখজনক
হলেও এটাই সত্য যে মার্কিনীদের প্রচার-প্রচারণা সারা বিশ্বে ভালোভাবেই বিকোচ্ছে।’
লন্ডনঃ
৩০ জুন
২০০৯ |