|
অভিবাসন
চাঙ্গা রাখতে
পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহবান ওইসিডির
মন্দার
প্রকোপে অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হয়ে ওঠা
সত্ত্বেও
অভিবাসনকারী আগমন প্রক্রিয়া বন্ধ না করে দেয়ার জন্য পশ্চিমা ধনী দেশগুলোর প্রতি
আহবান জানিয়েছে প্যারিস-ভিত্তিক বাজার-অর্থনীতি বান্ধব সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর
ইকৌনমিক কৌ-অপারেশন এ্যান্ড ডিভোলাপমেন্ট
(ওইসিডি)। অভিবাসী-বান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ
করার জন্যও ত্রিশটি ধনী দেশের সদস্য-পদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংস্থাটি। ওইসিডি মনে
করে,
সদস্য-রাষ্ট্রগুলোরে শ্রম ও দক্ষতা অভাব পূরণের স্বার্থেই অভিবাসনের দরজা খোলা রাখা
উচিৎ।
মঙ্গলবার
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওইসিডি জানায়,
অর্থনৈতিক মন্দা ও সরকারগুলোর পক্ষ থেকে আরোপ করা কড়া নিয়ম-নীতির কারণে
পশ্চিমের অনেক দেশেই অভিবাসী আগমন সংখ্যা এখন পড়তির দিকে। এছাড়াও
মন্দার প্রকোপে পড়ে মূল-ধারার জনগোষ্ঠীর তুলনায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ-জনই
চাকুরী হারানোর ব্যাপারে অধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকে বলে জানানো হয়েছে
বার্ষিক ইন্টারন্যাশনাল
মাইগ্রেশন আউটলূক
শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে। উল্লেখ্য, মন্দা শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেইন ও
আয়ারল্যান্ডের মতো
দেশগুলোতে বেকারত্বের হার প্রায় দ্বিগুণ
হয়ে গেছে। অভিবাসনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে প্রতিবেদনে বলা হয় পশ্চিমা দেশগুলোতে
বয়স্ক-লোকের
সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকার ফলে অভিবাসনকারী গ্রহণের
ব্যাপারটি একটি বাস্তবতা; এমতাবস্থায় অভিবাসীদের জন্য ভালোভাবে প্রশিক্ষণ-দান
এবং তাদেরকে সমাজ-ব্যবস্থার সাথে
সংহত করে নেয়ার উপরে জোর
দিয়েছে ওইসিডি।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে দেয়া ভাষণে ওইসিডি সেক্রেট্যারী
জেনারেল
এ্যাঞ্জেল গুরিয়া বলেন, অভিবাসন
প্রক্রিয়া জলের
ট্যাপের মতো
কোনো
ব্যাপার নয়,
যা কিনা চাইলেই খোলা বা বন্ধ করা যায়।
এছাড়াও
ওইসিডি জানিয়েছে,
অর্থনৈতিক মন্দার পরিণতিতে
চলতি বছরটিতে ধনী দেশগুলোতে অভিবাসন গ্রহণকারীর
সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কমে যেতে পারে। ১৯৮০ এর দশকের পরে এ-ধরণের ঘটনা এ-প্রথমবারে
মতো
ঘটবে বলেও জানিয়েছে ওইসিডি। অভিবাসনকারীর সংখ্যা কমতে থাকার প্রমাণ
দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইইউ ৮ নামে পরিচিত পূর্ব-ইউরৌপের ৮টি দেশ থেকে যুক্তরাজ্য ও
আয়ারল্যান্ডে আসা অভিবাসনকারীর সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় চলতি বছরটিতে
অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। একই সময়-কালে
অস্ট্রেলিয়াতে অস্থায়ী ভিত্তিতে আসা স্কিলড-মাইগ্র্যান্টের
সংখ্যা ২৫ শতাংশের অধিক হ্রাস পাবার তথ্য দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
অভিবাসন-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে
ক্যানাডার
অবস্থানকে ইতিবাচক চিহ্নিত করে ওইসিডি জানায়,
দেশটি এখন অবধি অভিবাসীর সংখ্যা সংক্রান্ত টার্গেট নিম্নমুখী
করেনি; ক্যানাডার
মানুষ-জনের মধ্যে সেভাবে অভিবাসী-বিরূপ
মনোভাব না থাকার কথাও জানানো হয়েছে একই সাথে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়,
আগের আমলে আসা অভিবাসীদের তুলনায় সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আসা অভিবাসীদেরকে বেশি
দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
নতুন
অভিবাসীদের জন্য প্রতিকূল দিকগুলো উল্লেখ-কালে
ভৌগলিক বিচ্ছিন্নতা ও দেশী-মানুষদের চেয়ে তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলেছে
ওইসিডি। তবে এতো
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও
অভিবাসীদের সাফল্যের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেছে ওইসিডি। প্রতিবেদনে বলা
হয়ঃ প্রতিকূলতাগুলো সত্ত্বেও
সকল দেশেই অভিবাসী ও তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে সাফল্যের বহু নজীর।
অভিবাসীরা যে-ধরণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য ও গতিশীলতা তৈরী করায় সক্ষম
হয়েছে,
তা না থাকলে অভিবাসী গ্রহণকারী
ভিন্ন ও দরিদ্রতর হতো বলে মত-প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে
অভিবাসনের ব্যাপারটি নিয়ে রাজনীতি ফায়দা তোলার সমালোচনা করা হয়েছে ওইসিডির পক্ষ
থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ অভিবাসীদের ব্যাপারটি রাজনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর একটি
ইস্যু যা খুব সহজেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়।
লন্ডনঃ
৩০ জুন ২০০৯ |