London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুরে দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

বাংলাদেশে স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার দাবী

বাংলাদেশের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও তাদের সমর্থনকারী কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা দেশটির জন্য 'প্রত্যাশিত' শিক্ষানীতির একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। সকলের জন্য প্রথম শ্রেণী থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রবর্তনের দাবী জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্মিলিত এ-বামপন্থী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা 'মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রত্যাশিত শিক্ষানীতি' শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রস্তাব-সমূহ তুলে ধরেন

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটীর সভাপতি ফখরুদ্দিন কবীর আতিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোল-টেবিল বৈঠকটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক ও শিক্ষা-আন্দোলকেরা বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা-ব্যবস্থা ও নীতির সমালোচনা করে একটি বিজ্ঞান-ভিত্তিক, সর্বজনীন, সেক্যুলার ও সমন্বিত শিক্ষার প্রস্তাব করেন।

শুরুতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটীর সাধারণ সম্পাদক জনার্দন দত্ত নান্টুর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং এর উপর ভিত্তি করে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা তাদের  বক্তব্য তুলে ধরেন।

দীর্ঘদিনের শিক্ষা-বিষয়ক আন্দোলনকারী গণ-সংগঠন শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডঃ অজয় রায় বলেন, 'সত্যিকারের সেক্যুলার শিক্ষা চাইলে, সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজন নেই।' তিনি ধর্ম-শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত প্রকাশ করে বলেন, 'আমাদের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাতেই সেই সিস্টেম থাকবে, যেখানে কেউ চাইলে আরবী-ফারসী-বেদ-বাইবেল পড়তে পারবে, আলেম হতে পারবে।'

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা-ব্যবস্থা ও নীতিকে সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠিত দাবী করে শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ডঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, 'সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আজ যে-রকম শিক্ষা চায়, তাদের স্বার্থে সে-রকম শিক্ষায় তারা অন্য দেশের উপর চাপিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, 'মৌলবাদ এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্ত না হতে পারলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ব্যবস্থা পাবো না।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এইচকেএস আরেফিন শিক্ষার বর্তমান গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বলেন, 'লেখাপড়ার স্বাভাবিকতা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছেশিক্ষার সাথে সাংস্কৃতির বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় তা অনুপস্থিত'

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও প্রাক্তন ছাত্র-নেতা সাইফুর রহমান তপন বলেন, 'পরিকল্পিত শিক্ষানীতির জন্য পরিকল্পিত অর্থনীতি প্রয়োজন।' তিনি বলেন, 'সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে পরিকল্পিত অর্থনীতি এবং ১৭ নং অনুচ্ছেদে সবার জন্য শিক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে তাঁর প্রয়োগ নেই'

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডঃ খন্দকার বজলুল হক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাবার্তার সম্পাদক এএন রাশেদা, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ্‌ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সুফি মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পুষ্টি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডঃ আবিদুর রেজা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব সিদ্দিকুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক আনোয়ার উল্লাহ্‌ ভূঁইঞা, সম্মিলিত নারী সমাজের আইনজীবী সুলতানা আক্তার রুবী, খিলগাঁ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা বেগম প্রমুখ।

বৈঠকে নিম্নলিখিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে প্রণীত শিক্ষানীতিই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার পরিপূরক বলে দাবী করে এর প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়ঃ

  • প্রতি দুশো পরিবারের জন্য অন্তত একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবেপ্রথম শ্রেণী থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত একই ধারার অবৈতনিক বাধ্যতামূলক সম্বনিত শিক্ষা চালু করতে হবে

  • বাধ্যতামূলক শিক্ষার আওতায় শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম-পোশাক, নাস্তা, খাবার, বই-সহ শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন, স্থায়ী ডাক্তার নিয়োগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী সকলকে হেলথ্‌ কার্ড প্রদান ও চেক-আপের ব্যবস্থা করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব বেসরকারী সংস্থার হাতে অর্পণ করা চলবে না

  • উচ্চশিক্ষা হবে সবার জন্য অবারিত উচ্চশিক্ষায় কোনো প্রকার বেতন-ফী আরোপ করা যাবে না বাণিজ্যিক-ভিত্তিতে কোনো প্রকার কৌর্স চালু করা চলবে না প্রত্যেক জেলায় কমপক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে

  • শিক্ষার বিষয়বস্তুকে হতে হবে সেক্যুলার ও বিজ্ঞান-ভিত্তিক শিক্ষার্থীরা যাতে সংস্কৃতি-অপসংস্কৃতির পার্থক্য বুঝতে পারে এবং সুস্থ ও সবলভাবে দেহে-মনে বাড়তে পারে, সে-জন্য প্রাইমারী থেকে সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রকলা, অভিনয়, আবৃত্তি, শরীর-চর্চা ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষা কৌর্সে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

  • স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়-সহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারী হস্তক্ষেপ-মুক্ত করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ১৯৬১-র বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের অগণতান্ত্রিক বিধান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বিশ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র ও আমব্রেলা এক্ট-০৭ বাতিল করে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে

  • মেধাবী ও দেশ-প্রেমিক ছাত্রদের শিক্ষকতা পেশায় নিয়ে আসতে হবে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

  • পরীক্ষাকে পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার বিষয়বস্তু ও শিক্ষা পদ্ধতির মান যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে

  • শিক্ষার্থীর শারীরিক-মানসিক সর্বাঙ্গীন বিকাশের উপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন সুনিশ্চিত করতে হবে

  • পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র  জাতিসত্ত্বার সাংবিধানিক স্বীকৃতি-সহ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবেএকটা নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত নিজ-নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে শিক্ষাক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা বিধানের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

  • শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে

ইমরান হাবিব রুমন, ঢাকা থেকে

৩০ মার্চ ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.