|
লন্ডনের জি-২০ ঘিরে উত্তেজনা
অব্যাহতঃ প্লিমাউথে গ্রেফতার পাঁচ জন
বিশ্বের
সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতাদের উপস্থিতি-সমৃদ্ধ লন্ডন জি-২০ সম্মেলনে 'বিঘ্ন'
ঘটানোর প্রস্তুতি গ্রহণের অভিযোগে সোমবার
ইংলিশ চ্যানেল তীরবর্তী
প্লিমাউথ শহর ও
তার
আশে-পাশের এলাকা থেকে
পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার
করার হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে,
গ্রেফতার হওয়া
ব্যক্তিরা লন্ডনের
প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আতশবাজি ব্যবহার করার
মাধ্যমে সম্মেলনকে বিঘ্নিত করার
প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
যাদেরকে গ্রেফতার করা
হয়েছে, তারা
কেউ 'সন্ত্রাসবাদী' সংগঠনের
সাথে জড়িত নন।
খবরে
প্রকাশ, প্লিমাউথ ও
পাশ্ববর্তী স্থান থেকে
যারা গ্রেফতার হয়েছেন,
তাদের মধ্যে তিনজন ২৫,
১৯ ও ১৬ বছরের পুরুষ।
অন্য দু-জন
নারী, যাদের উভয়ের বয়স
২০।
এদের মধ্যে একজন বিদেশী
শিক্ষার্থী থাকলেও
তিনি
কোন দেশের বা
কোন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা
করেন, তা জানানো হয়নি।
জানা গেছে, এদের
প্রত্যেকেই সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে,
গ্রেফতারের সময়
বাসভবনে তল্লাশী চালিয়ে
বিস্ফোরণ-যোগ্য যে-সব
বস্তু পাওয়া
গেছে,
সেগুলো আতশবাজি
ব্যবহার করে
বানানো হয়েছে।
কাউকে আহত-নিহত করা নয়
বরং এসব
বস্তু ব্যবহার
কর
উত্তেজনা তৈরী করাটাই
লক্ষ্য ছিলো বলেও
জানানো হয়েছে।
ডেভন ও কর্নওয়েলের
এসিস্ট্যান্ট চীফ কনস্টেবল পল
নেথার্টন সংবাদ-মাধ্যমকে জানান,
গ্রেফতারকৃতদের কাছ
থেকে
আতশবাজির
বিস্ফোরক ছাড়াও
কয়েকটি
নকল
হ্যান্ডগান ও
কালাশনিকভ রাইফেল
পাওয়া
গেছে।
তবে এগুলোর কোনটিই
‘গুরুতর’
কিছু নয়
বলে
জানিয়েছেন।
এগুলোর কোনো ধরণের
‘প্রাণঘাতী’
ক্ষমতা না
থাকার
কথাও জানানো হয়েছে।
এসব সত্ত্বেও পাঁচ
তরুণকে
সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনে
গ্রেফতারের স্পষ্ট কারণ
জানা যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
গ্রেফতার হওয়া
ব্যক্তিদের কাছে
থেকে 'ভিন্ন' রাজনীতিক
মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত
বস্তু-সামগ্রী পাওয়া
গেছে।
তবে
এ-ব্যাপারে বিস্তারিত
কিছু
জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য,
বৃহস্পতিবারের জি-২০ সম্মেলনকে ঘিরে
নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
গড়ে তুলেছে
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
ইতোমধ্যে লন্ডন
মেট্রৌপলিটান পুলিসের
সকল
ছুটি
বাতিল
করা
হয়েছে।
এছাড়াও
মাঠে নামানো হয়েছ
প্রচুর সংখ্যক
রিজার্ভ
পুলিস।
গত
কয়েক দিন
ধরেই
লন্ডনে 'রেড এলার্ট'
জারী থাকার
কথা
জানানো
হয়েছে।
শনিবারে হাইড
পার্কে জি-২০ বিরোধী
প্রথম সমাবেশটিতে
অর্ধ-লক্ষের মতো
মানুষের সমবেত
হয়েছেন।
সম্মেলন শুরুর
ঠিক আগের
দিনটি উপলক্ষ্যে
যে-কর্মসূচির ডাক
দেয়া
হয়েছে, তাতে লক্ষ-লক্ষ
মানুষ যোগ দিবেন বলে
ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ-বিরোধী,
বিশ্বায়ন-বিরোধী,
পরিবেশবাদী ও
বামপন্থী সংগঠনগুলো ডাকে
লন্ডনের প্রধান
অর্থনৈতিক এলাকা সিটী অফ লন্ডনের বাণিজ্যিক ভবনগুলো
ঘেরাও
করার
কথা
আছে।
বিশ্ব-মন্দা
পরিস্থিতির ব্যাপক
প্রকোপের মুখে
বড়ো-বড়ো
কৌম্পানীগুলোকে
বাঁচিয়ে
দেয়ার
নীতির
পরিবর্তে
সাধারণ
মানুষ-জনকে
রক্ষা করায়
এগিয়ে
আসার
জন্য
দাবী
জানাচ্ছেন
বিক্ষোভ কর্মসূচির
আয়োজকরা।
আয়োজকরা এবার
বুধবার ,
অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম দিনটিকে,
'এপ্রিল ফুল'-এর
পরিবর্তে 'ফুলস ডে' হিসাবে
পালন
করছে।
লন্ডনঃ ৩০ মার্চ
২০০৯ |