|
পাকিস্তানে নাওয়াজ শরিফকে পাঞ্জাব
ছেড়ে দিলেন আসিফ জারদারি
অধুনা
প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম লীগ নেতা নাওয়াজ শরিফের হাতে পাঞ্জাব প্রদেশের দায়িত্ব-ভার
তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। গত সপ্তাহে
শরিফদের দাবীর মুখে পারভেজ মুশাররফের আমলে বরখাস্ত হওয়া প্রধান বিচারপতি-সহ সর্বমোট
একষট্টি বিচারককে স্বপদে ফিরিয়ে নেয়ার পর শুক্রবারের ঘোষণাটির মধ্য দিয়ে বিরোধীদের
সাথে আরেক দফা আপোষের ইঙ্গিত দিলেন চাপের মুখে থাকা জারদারি।
শনিবার পাক-পার্লামেন্টের
যৌথ-অধিবেশনে ভাষণ দান-কালে জারদারি জানান, শরিফকে পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের
শাসন-ক্ষমতায় ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়ার ব্যাপারে তিনি প্রস্তুত আছেন। জারদারি
জানান, সরকার এ-ব্যাপারে অচিরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ
করেন, শরিফের পাকিস্তান মুসলীম লীগ যাকে খুশী মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করতে
পারে। উল্লেখ্য, জানুয়ারী মাসে সুপ্রীম কৌর্টের পক্ষ থেকে নাওয়াজ শরিফ ও তার ভাই
শাহবাজ শরীফকে পার্লামেন্টারীয়ান পদের জন্য অযোগ্য হিসাবে ঘোষণার পর থেকেই
পাকিস্তানের রাজনীতি নতুন করে সংঘাতের রাস্তার দিকে চলে যায়। সুপ্রীম কৌর্টের
ঘোষণার পর-পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নাওয়াজ শরিফের ছোটভাই শাহবাজ শরিফকে
সরিয়ে দেয় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকার।
এরপর থেকেই
শরিফের মুসলিম লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণে পাকিস্তানে সরকার-বিরোধী
আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। বিশেষ-করে মুশাররফের আমলে পদচ্যুত হওয়া বিচারকদের স্বপদে
ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ আইনজীবী সমাজের সাথে রাজনীতিক দলগুলোও মাঠে
নামলে পিছু হটতে বাধ্য হন জারদারি। কয়েক দিন আগে বিচারকদের পদ ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে
নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের ঘোষণা দেয় সরকার। উল্লেখ্য, গত বছর নির্বাচনের আগে
বিচারকদের পদে ফিরিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছিলো পিপিপি। তবে সরকার গঠনের পর থেকে
এ-ব্যাপারটি নিয়ে পিপির মধ্যে অনুৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। কয়েক দিন আগে বিচারকদের
ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জারদারির ঘোষণাটির মাধ্যমে পাকিস্তানের রাজনীতি বড়ো ধরণের
বিপর্যয় থেকে রেহাই পায় বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। এছাড়াও জারদারির ঘোষণাটির
ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন সাধুবাদ জানায়।
শরিফের সাথে
আপোষ প্রসঙ্গে জারদারী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেন, পাকিস্তানের নানাবিধ সমস্যা আছে।
তবে গণতন্ত্রের ভিতর থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবার কোনো দরকার আমাদের নেই।
জারদারীর ঘোষণার ব্যাপারে মন্তব্য করে শরিফের দল থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য
জুলফিকার খোসা বলেন, এটা এমন এক পরিস্থিতি যা তারাই তৈরী করেছেন। এখন তারা বুঝতে
পেরেছেন এর অবসান ঘটানো দরকার এবং এটা খুব ভালো একটা ব্যাপার।
এদিকে শনিবারের
ঘোষণাটিকে ব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকে সাধুবাদ জানানো হলেও, এটি প্রেসিডেন্ট পদের
ক্ষমতা কমানোর জন্য বিরোধী দলগুলো সরকারের যে-চাপ তৈরী করেছে, তা কাটিয়ে উঠার জন্য
জারদারির কোনো কৌশল কি-না, সে-ব্যাপারেও কোনো-কোনো মহ্ল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
লন্ডনঃ
২৮ মার্চ ২০০৯
|