|
লন্ডনে পুঁজিবাদ-বিরোধী
বিক্ষোভঃ কর্ম-ন্যায্যতা-পরিবেশ রক্ষার
দাবী
দেড়শোরও
বেশি কর্মজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের
যুক্ততায় গড়ে ওঠা
'রেইনবৌ
এালায়েন্সের'
তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শনিবার বিপুল সংখ্যক মানুষ নেমেছেন
লন্ডনের রাস্তায়। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন
প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে প্রথম আয়োজনটিকে ঘিরে এ-বিপুল সংখ্যক মানুষ পথে নেমেছেন।
'পুট পিপল
ফার্স্ট' শীর্ষক মার্চটির উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচির দাবী হচ্ছে
'কর্ম, ন্যায্যতা ও পরিবেশ' রক্ষা। আর এ-দাবী তিনটিকে একটি বার্তা হিসাবে জি-২০
উপলক্ষ্যে লন্ডনে জড়ো হতে যাওয়া বিশ্ব-নেতাদের সামনে উপস্থাপন করাটাই হচ্ছে লক্ষ্য।
শনিবারের কর্মসূচির আয়োজক-সংগঠনগুলোর অন্যুতম টিইউসির জেনারেল সেক্রেট্যারী
ব্রেন্ডন বারবের সংবাদ-মাধ্যমের সাথে আলাপকালে জানান, শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে যতোগুলো
সংগঠন একসাথ হয়েছে, তেমনটি আগে আর কখনও ঘটেনি। পুঁজিবাদী অর্থনীতির সাম্প্রতিক
সঙ্কট প্রসঙ্গে বিশ্ব-নেতাদের উদ্দেশ্যে বার্তা পৌঁছে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
নিয়ন্ত্রণহীন মুক্ত-বাজার অর্থনীতির পুরোনো ধারণাটি কাজ করছে না এবং এর ফলে
বিশ্ব-অর্থনীতি প্রায় ভেঙ্গে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে চলে গেছে। বারবার আরও জানান,
চলতি ব্যবস্থাটি দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েছে এবং লৌ-কার্বন ইকৌনমীর পথে
এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে এটি অতি-সামান্যই সাফল্য দেখাতে পেরেছে। বারবার উল্লেখ করেন
জি-২০ একদিনের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান করে দেবে এমন নয়, কিন্তু বিশ্ব-অর্থনীতিকে
চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে নেতারা যে-কাজ করে যাচ্ছেন, এ-কথা প্রমাণ করতে হবে।
পুলিস
জানিয়েছে, শনিবার লন্ডনের কর্মসূচিগুলোতে কমপক্ষে ৩৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছেন। তবে
উদ্যোক্তাদের দাবী যোগদানকারী মানুষের সংখ্যা ছিলো অনেক বেশি। প্রত্যক্ষদর্শীদের
মতে, শনিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেয়া লোকেদের অনেকেই ব্যান্ড-ড্রাম, রং-বেরংয়ের
ব্যানার-পতাকা-সহ রাস্তায় নামেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী লোকেরা লন্ডন শহরের
এমব্যাংকমেন্ট এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে চার মাইল পায়ে হেঁটে হাইড পার্কে হাজির
হন। জানা গেছে, হাইড পার্কের সমাবেশটিতে ব্রিটেইনের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ-জন
এসে জড়ো হন।
ট্রেইড ইঊনিয়ান
নেতা ডেরেক সিম্পসন সংবাদ-মাধ্যমগুলোকে জানান, অর্থনীতিক মন্দা-পরিস্থিতি এমন এক
অবস্থায় পৌঁছেছে, যখন বড়ো ধরণের অর্থনীতিক সংস্কারের ব্যাপারটি অপরিহার্য হয়ে
উঠেছে। তার মতে, এটা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয় নয়, এটা হচ্ছে জনগণের ব্যাপার।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে শনিবারের কর্মসূচিতে অন্যান্য লোকজনের মধ্যে কমপক্ষে দুশো
'নৈরাজ্যবাদী' অংশ নেন। এদের মধ্যে অনেকে শনিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় 'বার্ন
দ্য ব্যাংকার্স ' শ্লৌগান দেন। একশন এইড নামের একটি সংগঠনের কর্মী ক্লেয়ার
মেল্যামেড জানান, শনিবারের কর্মসূচিতে মানুষ-জনের যে-পরিমাণ উপস্থিতি লক্ষ্য করা
গেছে, তাতে তারা ভীষণভাবে উদ্বেলিত। তার দাবী জি-২০ কে সাধারণ মানুষ-জনের যে-ভাষ্য,
তা অবশ্যই শুনতে হবে।
উল্লেখ্য,
জি-২০ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক দিন লন্ডন শহরে বড়ো ধরণের
প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সম্ভাবনায় বড়ো ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে লন্ডন মেট্রৌপলিটন
পুলিস। মেট-পুলিস জানায়, জি-২০কে ঘিরে যে-প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, তা সংগঠনের
দীর্ঘ-সময়ের ইতিহাসে অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী।
এ-দিকে চিলিতে
সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন লন্ডনের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে শনিবারে বলেছেন,
'আজ লন্ডনে যা ঘটছে, সে-বিষয়ে জি-২০ বৈঠকে আমাদের সাড়া দিতে হবে বলে আমি মনে করি।'
লন্ডনঃ ২৮ মার্চ ২০০৯
|