|
রাজকীয় উত্তরাধিকার-বৈষম্য ঘুচাতে রাণীর সাথে ব্রাউনের বৈঠক
ব্রিটিশ
রাজতন্ত্রের কিছু সংস্কার প্রসঙ্গে আলাপের জন্য শুক্রবার বাকিংহাম প্রাসাদে বৈঠকে
করছেন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে রাজ-পরিবারের
নারী-সদস্যদের জন্য সমানাধিকার নিশ্চিত করা এবং রৌমান ক্যাথলিকের সাথে বিয়ের বন্ধনে
আবদ্ধ হলে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবার সুযোগ নস্যাৎ হয়ে যাবার মতো বিষয়গুলো নিয়ে
বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
খবরে
প্রকাশ, বাকিংহ্যাম-পরিবারের সাথে আলাপে ব্রাউন জানান, রাজতন্ত্রের ক্ষেত্রে
যে-বৈষম্যগুলো বিরাজ করছে, তার অবসান দেখতে চায় জনগণ। প্রধান বিরোধী দল কনসার্ভেটিভ
পার্টির নেতা ডেইভিড ক্যামেরৌনের সমর্থন আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিবিসি
পরিচালিত এক জরীপে জানা যায়, ৮৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন সিংহাসনের উত্তরাধিকারের
ক্ষেত্রে রাজ-পরিবারের নারীদের সমানাধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত। লক্ষ্য করার ব্যাপার,
ব্রাউন এমন একদিনে রাজকীয় কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে বসলেন, যে-দিন রাজতন্ত্রের মধ্যে
বিদ্যমান বৈষম্যগুলো অবসানের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে লিবারেল ডেমৌক্র্যাটিক পার্টির
ইভান হ্যারিস এমপির উত্থাপিত একটি বিল প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবে পাস হতে পারেনি।
এ-প্রসঙ্গে জাস্টিস সেক্রেটারী জ্যাক স্ট্র বলেন, 'এ-ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
একটি সময়-সীমা নির্ধারিত করে দেয়ার ব্যাপারে এমপিরা এখন পর্যন্ত প্রস্তুত নন।' তবে
তিনি একথাও জানান যে, এমপিদের কাছ থেকে আসা 'চাপের' কারণেই বিষয়টি বর্তমানে আগের
তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে সংবাদ-মাধ্যমকে জানানো হয়, হ্যারিস
যে-বিলটি উত্থাপন করেছেন, তার ব্যাপারে সরকারের 'সহানুভূতি' থাকলে এ-ব্যাপারে আইনী
প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবার জন্য সময়ের প্রয়োজন। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সংস্কার বিষয়ে
সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ক্যানাডার মতো দেশেরও সমর্থন
নিতে হবে ব্রিটিশ সরকারকে। উল্লেখ্য, ব্রিটেইনের রানী এ-দেশগুলোরও রাষ্ট্র-প্রধান।
বিবিসি-পরিচালিত এক জরীপে দেখা যায়, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবার ক্ষেত্রে
রাজ-পরিবারের নারীদের বেলায় যে-বৈষম্য চালু আছে, তার অবসান চান ব্রিটেইনের ৮১ শতাংশ
মানুষ। উল্লেখ্য, বর্তমানে বোন বড়ো হলেও বড় ছেলেকেই সিং হাসনের প্রধান
উত্তারাধিকারী হিসাবে ধরা হয়। এছাড়াও ক্যাথলিক বিশ্বাসের কাউকে বিয়ে করলে সিংহাসনের
উওরাধিকার হারানো সংক্রান্ত চলতি নিয়মের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন ৮১ শতাংশ মানুষ। এ-সব
ব্যাপারে পরিবর্তন চাইলেও উওরদাতাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশই রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার
পক্ষেই মত দিয়েছেন।
লন্ডনঃ ২৭
মার্চ ২০০৯ |