|
অভিবাসনকারী বির্তকে কড়া
সমালোচনায় ব্রিটিশ
ইমিগ্রেশন মিনিস্টার
অভিবাসনকারী সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের কারণে
দেশের পরিসংখ্যান বিষয়ক
প্রতিষ্ঠান অফিস ফর ন্যাশনাল
স্ট্যাটিস্টিকস
(ওএনসি) সমালোচনার পরিণতিতে
নিজেই কড়া
সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন
ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ফিল উল্যাস।
পার্লামেন্টের
এমপিদের পক্ষ থেকে
উল্যাসের আচরণকে ‘সীমানা
লঙ্ঘন’
হিসাবে আখ্যায়িত করা
হয়েছে।
সম্প্রতি অভিবাসন সংক্রান্ত ওএনএস-প্রকাশিত
দু-দফা পরিসংখ্যানের সমালোচনা করে
উল্যাস জানিয়েছিলেন,
এর জন্য কাজ করা পরিসংখ্যানবিদেরা ‘অশুভ’
উদ্দেশ্য দ্বারা
পরিচালিত হয়েছিলেন।
ওএনএসের
পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে ব্রিটেইনে বিদেশে জন্ম
নেয়া কর্মীর সংখ্যা
বেড়ে চলেছে।
পক্ষান্তরে দেশে জন্ম নেয়া
কর্মীর সংখ্যা যাচ্ছে
কমে।
এছাড়াও ওএনএস এর
হিসাব-মতে,
বর্তমানে ব্রিটেইনে বাসকারী প্রতি নয়জন মানুষের
মধ্যে একজনের জন্ম
ব্রিটেইনের বাইরে।
ওএনএস
প্রকাশিত
পরিসংখ্যানের
সমালোচনার কারণে উল্যাসের
সমালোচনা করে বুধবার কমন্স পাবলিক
এাডমিনিস্ট্রেন
কমিটীর এমপিরা জানান, ইমিগ্রেশন মিনিস্টার তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওএনএসের অতি
গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ধ্বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও উল্যাস ভুলভাবে
রাজনৈতিক কারনে ওএনএস এর কার্যক্রমকে প্রভাবিতকরতে চেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন এমপিরা।
ওএনএস এর অন্যতম পরিসংখ্যানবিদ ক্যারেন ডানেল সংবাদ-মাধ্যমকে জানান, উল্যাস
যে-ধরণের কথাবার্তা বলেছেন, তা সংস্থার জন্য 'সহায়ক হয়নি’।
প্রদত্ত বক্তব্যের
ব্যাখ্যা শুনার জন্য উল্যাসকে বুধবার কমন্স পাবলিক
এাডমিনিস্ট্রেন
কমিটীর সামনে ডেকে নেয়া হয়।
সেখানে কমিটীর
চেয়ারম্যান
ও লেবার এমপি টনি
রাইট তার বক্তব্যে ফিল উল্যাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
'পরিসংখ্যানবিদদের সাথে কথাবার্তা বলার ব্যাপারটি মন্ত্রীদের
পক্ষে একেবারেই ঠিক
একটি কাজ,
কিন্তু এটি [
উল্যাসের সমালোচনা] একটি রাজনৈতিক আক্রমণে
পরিণত হয়েছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন,
'রাজনৈতিক যুক্তিমালার সহায়ক বা বিরোধী হবার ব্যাপারটি
পরিসংখ্যানবিদদের
কাজের মধ্যে পড়ে না।'
উল্যাস অবশ্য কমিটিকে
জানান, ওএনএসকে
সমালোচনা
করার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন।
তার দাবী ওএনএস এর
পরিসংখ্যান দুটি বিভ্রান্তকরভাবে
জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে,
যা
তার মতে,
অপরিহার্যভাবেই বিভ্রান্তি ও প্রোপাগান্ডা তৈরীতে
সহায়ক হবে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, অর্থনৈতিক মন্দার মওসুমটিতে দেশী কর্মী কমে যাবার হিসাবটি
প্রকাশিত হবার কারণে ক্ষমতাসীন দলের বিব্রতকর অবস্থা সামাল দেয়ার লক্ষ্য থেকেই
ওএনএসের কড়া সমালোচনার পথ ধরছেন উল্যাস।
উল্লেখ্য,
লেবার পার্টির সরকার বর্তমানে
‘ ব্রিটিশ জবস ফর
দ্য ব্রিটিশ ওয়ার্কার্স’
শ্লৌগানটিকে সামনে রেখে বিরোধী
দলের কাছ থেকে আসা অভিবাসন বিষয়ক সমালোচনাগুলো সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।
প্রধান বিরোধী দল
কনজারভেটিভ পার্টির দাবী ক্ষমতাসীনদের অভিবাসন-বিষয়ক নীতিমালা দেশের স্বার্থ-
বিরোধী।
লন্ডনঃ
২৬
মার্চ ২০০৯
|