London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুরে দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

ব্রিটেইনে রাসায়নিক বা জীবাণু বোমা হামলার আশঙ্কা করছে  সরকার

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পরিণতিতে ব্রিটেইনের উপরে রাসায়নিক বা জীবাণু হামলার আশঙ্কা পূর্বের তুলনায় অধিকতর প্রকট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার প্রকাশিত একশো চুয়াত্তর পৃষ্ঠা দীর্ঘ বহুল-আলোচিত 'ইউনাইটেড কিংডম'স স্ট্র্যাটেজী ফর কাউন্টারিং ইন্টারন্যাশনাল টেরৌরিজম'  শীর্ষক সরকারী প্রতিবেদনটিতে সম্ভাব্য হামলাকারীদের আর্দশিক ভিত্তি ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবেলার কৌশলাদি-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

পরিস্থিতির ব্যাপারে সতর্কতা ব্যক্ত করে ব্রিটিশ হৌম সেক্রেট্যারী জ্যাকী স্মিথ জানান, ব্রিটেইনের ভিতরেই জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা ষড়যন্ত্রীরা শপিং সেন্টার, স্টেডিয়াম, নাইট ক্লাব বা সিনেমা হলগুলোতে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তার দাবী, সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিক, জীবাণু, রেডিওলজিক্যাল এবং নিউক্লিয়ার জাতীয় দ্রব্যাদি অনেকটা সহজলভ্য হয়ে পড়েছে; এমনকি এ-দ্রব্যাদি কখনও-কখনও ইন্টারনেটেও কিনতে পাওয়া যায়। স্মিথের আশঙ্কা, এ-সমস্ত দ্রব্য জংগীবাদের হাতে পড়াটা বিচিত্র কিছু নয়। সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে স্মিথ জানান 'সেলফ-স্টার্টিং' সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক বা আল-কায়দার মতাদর্শ দ্বারা উদ্ধুদ্ধ হয়ে আছেন এমন ব্যক্তিদের দ্বারা আক্রান্ত হবার ঝুঁকির মধ্যে আছে ব্রিটেইন।

প্রতিবেদনে প্রকাশ, 'যারা [ব্রিটেইনের] সমন্বিত মূল্যবোধগুলোকে বর্জন করে বা দূর্বল করে এবং কমিউনিটীর সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। এ-লক্ষ্যে প্রিভেন্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম (পিভিই) কর্মসূচির অধীনে বছরে ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করবে। হৌম সেক্রেট্যারী জ্যাকী স্মিথ এ-প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, যারা রাডিক্যাল চিন্তা-ভাবনা লালন করে, তাদেরকে অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে একই সাথে তিনি বলেন, 'আমরা এ-ধরণের দৃষ্টিভঙ্গীর দিকে নীরবে চেয়ে থাকবো না। আমরা সকলে আমাদের সমন্বিত মূল্যবোধগুলোর জন্য উঠে দাঁড়াবো। 'যারা এগুলোকে ধূলিস্মাৎ করে দিতে চায়, তাদেরকে জমিন ছেড়ে দেয়া হবে না' বলেও জানান স্মিথ।  সদ্য-প্রকাশিত  প্রতিবেদনে জানানো হয়  পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রের  প্রতিষ্ঠান এবং মূল্যবোধকে  তাচ্ছিল্য করার মাধ্যমে উল্লেখিত মহলের পক্ষ থেকে আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে; বর্ণ, ধর্ম বিশ্বাস, জন-জাতিয়তা, লিঙ্গ বা যৌন-অবস্থানের ভিত্তিতে  অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যকে নস্যাৎ করতে চাইছে।  

সরকারী প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকার  যে-উদ্যোগ নিচ্ছে, তার ফলে যে-সব সংগঠন কমিউনিটী-সংহতির ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরী করছে তাদের ঝুঁকি বুঝতে পারাটা স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য সহজ হবে। ব্রিটেইনে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্মিথ জানান, আল-কায়দা ও তালেবানের সাথে যুক্ত গ্রুপগুলো যেভাবে পাকিস্তানের গোত্র-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রভাব বিস্তার করছে, তার কী ধরণের প্রভাব ব্রিটেইনের উপরে পড়বে, সে-ব্যাপারে সরকারের মধ্যে বড়ো ধরণের উদ্বেগ বিরাজ করছে। কনটেস্ট টু  নামে পরিচিত হওয়া সরকারী প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ব্রিটেইনের মাটিতে সক্রিয় আছে এমন কিছু 'টেরর সেলকে' পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ও নির্দেশনা পাঠানো হয়। এছাড়াও ব্রিটেইনের ভিতরে অপারেশন চালানোর চক্রান্তকারীদের অনেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য পাকিস্তান গেছে এবং পাকিস্তান থেকে ব্রিটেইনে এসেছে।

ফিলিস্তিন সঙ্কট এবং সমাজ-ব্যবস্থাতে কিছু সংখ্যক মুসলিমের আত্মীকৃত  হবার সমস্যাকেও ব্রিটেইনে জঙ্গীবাদ বিকাশের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে।

লন্ডনঃ ২৪ মার্চ ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.