|
দালাই লামাকে ভিসা দেয়নি দক্ষিণ
আফ্রিকাঃ চীনের চাপ থাকার দাবী
একটি
সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তিব্বতের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু দালাই লামাকে দক্ষিণ আফ্রিকা
সফরের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। চীনের পক্ষ থেকে আসা চাপের কারণে এ-সিদ্ধান্ত নেয়া
হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দালাই লামাকে ভিসা না দেয়া হলে উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন মহল
থেকে জৌহান্সবাগের সম্মেলনটি বর্জন করার কথা শুনা যাচ্ছে।
এদিকে,
দালাই লামাকে ভিসা না দেয়ার ঘটনায় নির্দিষ্ট কিছু মহল থেকে বিরোধিতা জানানো শুরু
হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম ধর্মগুরু ডেসমন্ড টুটু ইতোমধ্যেই সম্মেলন বর্জনের
ঘোষণা দিয়েছেন। এ-প্রসঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা নির্লজ্জভাবে চীনের চাপের
কাছে নতি স্বীকার করছে। টুটুর দাবী এ-ঘটনায় তিনি অত্যন্ত লজ্জিত ও মর্মপীড়া অনুভব
করছেন। নৌবেল প্রাইজ কমিটীর পক্ষ থেকেও দালাই লামার ভিসা সংক্রান্ত দক্ষিণ আফ্রিকার
সিদ্ধান্তটি অপরিবর্তিত থাকলে সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জৌহানেসবার্গ থেকে
প্রকাশিত সানডে ইনডেপিনডেন্ট পত্রিকাতে দালাই লামাকে ভিসা না দেয়ার পেছনে চীনের চাপ
থাকার কথা বলা হয়েছে। পত্রিকাটির দাবী, দালাই লামাকে ভিসা দেয়া হলে দু-দেশের
মধ্যেকার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারে দূতাবাসের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে
অবহিত করেছে চীন। দালাই লামার একজন মুখপাত্রের পক্ষ থেকে বার্তা-সংস্থা এপির সাথে
আলাপে জৌহানেসবার্গের সিদ্ধান্তে ‘গভীর
হতাশা’
প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আগামী শুক্রবারের সম্মেলনে যোগ দেয়ার চেষ্টা
করছিলেন দালাই লামা। শান্তি সম্মেলনটিতে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকারে অনুষ্ঠিতব্য
ফুটবল বিশ্বকাপের আগেই বর্নবাদের হুমকি মোকাবেলা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবার কথা।
উল্লেখ্য, আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার উন্নয়ন কার্যক্রমে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড়ো ভূমিকা রাখছে চীন।
দক্ষিণ
আফ্রিকা সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছে, দালাই লামাকে ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্তের
পিছনে চীন কোনো ধরণের চাপ দেয়নি। তিনি আরও জানান, দালাই লামাকে নিমন্ত্রণ করার আগে
এ-ব্যাপারে সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সরকারের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগও করা
হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার মনে করে, দালাই লামার মতো ‘হাই-প্রোফাইল’
ব্যক্তিত্ব সম্মেলনে যোগ দিলে সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে তা ভিন্নখাতে
প্রবাহিত হতে থাকবে। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য
ভিন্নখাতে চলে যাবার আশঙ্কা ছাড়া এমনিতে তাদের মধ্যে দালাই লামার ব্যাপারে কোন
বিরোধিতা কাজ করছে না। দালাই লামা এর আগে ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর
করেছিলেন।
উল্লেখ্য, দালাই লামা গত শতকের ষাটের দশক থেকে পাশ্চাত্য শক্তিগুলো সমর্থন-পুষ্ট
হয়ে তিব্বতের জন্য স্বায়তশাসন অর্জনের কথা বলে আন্দোলন করে যাচ্ছে। বেইজিং মনে করে
দালাই লামার এ-কর্মকান্ডের পেছনে বিচ্ছিন্নতাবাদের আকাঙ্ক্ষা লুক্কায়িত আছে।
লন্ডনঃ
২৩ মার্চ ২০০৯ |