London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুর দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

প্রেসিডেন্ট ওবামার আহবান উড়িয়ে দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু খামেনী

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে থেকে আসা শুক্রবারের আহবানটি শনিবার উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী। তার মতে, ওবামার তরফ থেকে সম্পর্কোন্নয়নের আহবান জানানো হলেও ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের নীতিমালার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ইরানের জাতীয় দিবস নওরুজ উপলক্ষ্যে প্রচারিত এক ভিডিও-বার্তাতে দু-দেশের মধ্যেকার তিন-দশক মেয়াদী বিবাদ মীমাংসার আহবান জানিয়েছিলেন ওবামা। শনিবার এ-আহবানের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে ভাষণ দিতে গিয়ে খামেনী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের মধ্যে ইরান সংক্রান্ত নীতিমালাতে কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে না তেহরান। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদেনেজাদও ওবামার আহবানের ব্যাপারে একই ধরণের বক্তব্য দেন। খামেনী জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যদি ইরানের প্রতি শত্রুতার অবসান না ঘটায় এবং বিদেশ-নীতিতে 'সত্যিকারের পরিবর্তন' না আনে তাহলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু তার ভাষনে বলেন, 'তারা [মার্কিনীরা] পরিবর্তনের স্লৌগান দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কাজের বেলায় কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।'

ওবামার ভিডিও-বার্তার সমালোচনা করে খামেনী জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কীভাবে নববর্ষে জনগণকে অভিনন্দন করার সাথে-সাথে একই বার্তাতেই সন্ত্রাসবাদ দমন বা পরমাণু কর্মসূচির জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করতে পারেন। খামেনীর আরও অভিযোগ, পূর্বসুরীর [জর্জ বুশ] সাথে তুলনা করলে ওবামার কথাবার্তাতেও কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। ক্ষুব্ধ খামেনীর প্রশ্নঃ তিনি (ওবামা) প্রথম দিন থেকেই ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানকে অপমান করছেন। আপনি যদি বলতে চান যে, পরিবর্তন এসেছে, তাহলে কোথায় সে-পরিবর্তন? সে-পরিবর্তন কোথায়? কোথায় কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করুন।' উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ধর্মবাদীদের ক্ষমতা দখলের পরে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের জিম্মি করার ঘটনার পরিণতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

শনিবারের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের বেশ কিছু অভিযোগের ফিরিস্তি পেশ করেন। এ-প্রসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, ১৯৮০-১৯৮৮ সাল ব্যাপী ইরাক-ইরান যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন-দান, ১৯৮৮ সালে ইরানী বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও খামেনীর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের নিজস্ব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে এবং ইরানের ভিতরেই জাতিগত সংঘাতে উস্কানী দিচ্ছে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে খামেনী জানান, ঔদ্ধত্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সারা পৃথিবীতেই ঘৃণিত হচ্ছে।'

ইরানের উপরে মার্কিন অবরোধের ব্যাপারটি এক-অর্থে ইতিবাচক হয়েছে বলেও দাবী করেন খামেনী। তিনি বলেন, অবরোধের ফলে আমাদের লাভ হয়েছে। আমাদেরকে এজন্য আমেরিকানদের সমর্থন দিতেই হয়। অবরোধ জারী করা না হলে প্রগতি ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের যে-পর্যায়ে ইরান আজ অবস্থান করছে, তা সম্ভব হতো না বলেও দাবী করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু।

লন্ডনঃ ২১ মার্চ ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.