London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুর দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

নওরোজে বিবাদ-মীমাংসার ডাক ওবামারঃ সতর্ক প্রতিক্রিয়া ইরানের

ইরানের নবর্বষ সূচনার দিন তথা নওরোজ উপলক্ষ্যে প্রদত্ত এক বার্তায় দুই দেশের মধ্যকার তিন দশকের পুরোনো বিবাদ অবসানের আহবান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তেহরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এ-ব্যাপারে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি সত্যিকার অর্থেই সম্পর্কোন্নয়ন করতে চায়, তাহলে মুখের কথাকে কার্য পরিণত করে দেখাতে হবে। এদিকে, নওরোজ উপলক্ষ্যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেসের পক্ষ থেকেও একটি বার্তা দেয়া হয়েছে। প্রদত্ত বার্তাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদেনেজাদের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার সাড়ে তিন মিনিট দীর্ঘ এক ভিডিও-বার্তাতে ওবামা জানান, তিনি ইসলামী রিপাবলিক অফ ইরানের জনগণ ও নেতৃত্বের সাথে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী। ওবামা জানান 'গঠনমূলক সম্পর্ক' তৈরীতে আগ্রহ হবার কারণেই সরাসরি আলাপে আগ্রহী। ওবামা বলেন, যেসব ইস্যুগুলো পড়ে আছে সেগুলো নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার শুরুর ব্যাপারে তার প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। লক্ষণীয় ব্যাপার, ইরানের সাথে যে-তিনটি বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা চলছে সেগুলোর কোনটির কথাই ভাষণে উল্লেখ করেননি ওবামা। এগুলো হচ্ছেঃ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসের সাথে সম্পর্ক ও ইসরায়েলের ব্যাপারে দেশটির ভয়ানক ব্যাপার। তবে তিনি জানান বিশ্ব-সভায় ইরানের যে-নায্য-স্থান আছে, তার সাথে 'সন্ত্রাস ও অস্ত্র'র ব্যাপারটি ঠিক খাপ খায় না।

খবরে প্রকাশ, ইরানের জনগণের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ওবামার শুক্রবারের ভাষণটির সাথে ফারসী সাব-টাইটেল যুক্ত করা হয়। তার ভাষণটি আরব-বিশ্বের বেশ কয়েকটি টিভি-চ্যানেলেও সম্প্রচার করা হয়। ওবামা বলেন, গত প্রায় তিন দশক ধরে আমাদের দুই জাতির মধ্যেকার সম্পর্কটি চাপ-যুক্ত হয়ে আছে। উভয় জাতিকে একই বাঁধনে বেঁধে রাখা স্বাভাবিক মানবিকতার ব্যাপারটি এ-নওরোজে এসে স্মরণে আসার কথাও উল্লেখ করেন ওবামা। স্মরণ করা যেতে পারে, নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় থেকেই ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের ভাষণটিতেও এ-ধরণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। ওবামার এ-অবস্থান তার পূর্বসুরী জর্জ বুশের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। বুশের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে 'দূর্বৃত্ত রাষ্ট্র' হিসাবে আখ্যায়িত করা হতো।

ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেয়া ভাষণটিতে ওবামা বলেন, 'হুমকি দানের মাধ্যমে এ-প্রক্রিয়াটিকে অগ্রসর করা হবে না। এর পরিবর্তে আমরা এমন ধরনের সংযোগ চাই, যা হবে সততা ও পরষ্পরের প্রতি সম্মাননা প্রদর্শনের ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত।'

এদিকে বারাক ওবামার পক্ষ থেকে আসা সম্পর্ক-উন্নয়নের আহবানটির ব্যাপারে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। প্রেসিডেন্ট আহমেদেনেজাদের মুখপাত্র আলী-আকবর জাবানফেকর সংবাদ-মাধ্যমকে জানান, প্রেসিডেন্ট ওবামার পক্ষ থেকে যে-বক্তব্য এসেছে, তাকে স্বাগত জানায় ইরান। তবে একই সাথে 'পূর্বের ভুলগুলো অনুধাবনের' জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট ওবামার বার্তাটির পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকৃত-প্রস্তাবে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেদিকে তাকিয়ে থাকার কথাও জানিয়েছে তেহরান। আলী-আকবর এ-প্রসঙ্গে বলেন, নিজেদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন-সাধনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জারী করে রাখা অবরোধকে ভুল হিসাবে আখ্যায়িত করে, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহবানও জানান তিনি। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আসা বার্তাটির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরণির প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট পেরেস তার বার্তায় আহমেদেনেজাদ ও তার প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শিশুদেরকে প্রাতঃরাশে পরিশোধিত ইউরেনিয়াম খেতে দেয়া যায় না। পেরেস আরও বলেন, [ইরানী] নেতৃত্বকে তাদের জনগণের বেঁচে থাকার, নারীদের শ্বাস ফেলার, অর্থনীতি বিকশিত হবার সুযোগ দিতে হবে এবং বোমা আর ইউরেনিয়ামের পিছনে সময় ক্ষেপণ বন্ধ করতে হবে। পেরেস প্রশ্ন করেন - 'এটা কি আল্লাহর নামে করা হচ্ছে? আল্লাহ কি তাদের এটাই করতে বলেছেন?'

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদী বিনাশ প্রসঙ্গে আহমেদেনেজাদের কথাবার্তার সমালোচনা করে পেরেস বলেন, ইহুদীদের হলকাস্টের ব্যাপারে কবে থেকে তিনি পণ্ডিত হয়ে উঠেছেন? এ-ব্যাপারে কি জানেন তিনি?

উল্লেখ্য, শুক্রবারের ভিডিও-বার্তাটি ছাড়াও একাধিক উপায়ে ইরানের সাথে সংযোগ-বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে ওবামা প্রশাসন। ওয়াইট হাউস ও স্টেইট ডিপার্টমেন্টের সূত্র-মতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ খামেনীর বরাবরে বারাক ওবামার কাছ থেকে একটি খোলা চিঠি পাঠানোর কথাও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

লন্ডনঃ ২০ মার্চ ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.