|
কর্মহীনের সংখ্যা
২
মিলিয়নাধিকঃ
বেনেফিট-গ্রহীতাও
বেড়েছে প্রচুর
অর্থনৈতিক
মন্দার পরিণতিতে ব্রিটেইনে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দু-মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। দ্য অফিস
ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্সের (ওএনএস) পক্ষ থেকে বুধবার এ-তথ্য জানানো হয়েছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছ থেকে বেনিফিট গ্রহীতার সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়ে
যাবার তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে, কর্মহীনতা বৃদ্ধির সংখ্যাটিকে ঘিরে
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে কঠোরতম ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধান বিরোধী দল
কনসার্ভেটিভ পার্টির নেতা ডেইভিড ক্যামেরৌন।
ওএনএস
জানিয়েছে, বর্তমানে ব্রিটেইনে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়তে-বাড়তে বর্তমানে ২ দশমিক
শূন্য তিন মিলিয়নে ঠেকেছে। কর্মহীন মানুষের এ-সংখ্যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২০০৮ সালের শেষ তিন মাসের তুলনায় এ-বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মহীনের সংখ্যা বেড়েছে ১
লক্ষ ৬৫ হাজার। এদিকে চাকুরী-বাকুরীর খোঁজে আছেন এমন লোকেদের পক্ষ থেকেও সরকারী
বেনেফিট গ্রহীতার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবার খবর দিয়েছে ওএনএস। জানা গেছে,
শুধু-মাত্র ফেব্রুয়ারী মাসেই এ-ধরণের লোকের সংখ্যা জানুয়ারী মাসের তুলনায় বেড়েছে ১
লক্ষ ৩৮ হাজার চারশো। ১৯৯০ এর দশকের প্রথম দিকে মন্দা চলা-কালে একবার
বেনিফিট-গ্রহীতার সংখ্যা কোনো এক মাসে পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার
বেড়েছিলো। বুধবারের হিসাবটি প্রকাশ হবার আগে পর্যন্ত এ-সংখ্যাটি ছিলো রেকর্ড।
হিসাব-মতে, গত বারোমাসে ব্রিটেইনে বেনেফিট-গ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬ লক্ষ।
সর্বশেষ
খবরটির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত-কালে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনিটরী পলিসী
কমিটীর সদস্য ডেইভিড বেঞ্চফ্লাওয়ার সংখ্যাগুলোকে ‘সত্যিকার
অর্থেই ভয়াবহ’
হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
তার আশঙ্কা সামনের দিনগুলোতে কর্ম-সংস্থানহীনতার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বেনেফিট-গ্রহীতা কর্মসংস্থানহীনের সংখ্যা বৃদ্ধির হার
হচ্ছে ৪ দশমিক তিন ভাগ, যা ১৯৯৯ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। তবে ইন্টারন্যাশনাল লেবার
অর্গানাইজেশনের (আইএলও) হিসাব-মতে, কর্মহারা হলেও সরকারের কাছ থেকে বেনিফিট গ্রহণ
করছেন না এমন লোকেদের হিসাবের মধ্যে নেয়া হলে ব্রিটেইনে বর্তমানে কর্মহীনতার হার
সাড়ে ৬ শতাংশ।
এদিকে
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা-কালে বুধবার কমন্স সভাতে গর্ডন ব্রাউনকে
তীব্রতম ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডেইভিড ক্যামেরৌন। কমন্স 'কৌয়েশ্চন টাইম' পর্বে
বক্তব্য রাখার সময় ব্রাউনকে 'সম্পূর্ণ মেকি' একজন মানুষ হিসাবে আখ্যায়িত করেন
ক্যামেরোন। ব্রাউন এ-সময় তার বিপরীত দিকের আসনে বসেছিলেন। পরে স্পীকার ব্রাউনের
উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত শব্দ দুটি প্রত্যাহারের জন্য ক্যামেরোনকে নির্দেশ দেন। টৌরী
নেতার মতে, ব্রাঊন যা বলেন এবং তার সরকার যা করে, তার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান বিরাজ
করে। নিজ বক্তব্য দান-কালে ব্রাউন বলেন, কর্মহীনদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করার
প্রত্যয় নিয়েই তিনি রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করেছেন। এছাড়াও ব্রাউন জানিয়েছে,
বর্তমানে ফ্রান্স ও জার্মানীর মতো দেশগুলোতে কর্মহীনতার হার ব্রিটেইনের চেয়ে বেশি।
লন্ডনঃ ১৮ মার্চ
২০০৯
|