|
এইডস
প্রসঙ্গে
অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য পৌপেরঃ ক্ষুদ্ধ হেলথ-এজেন্সীগুলো
মরণ-ব্যাধি
এইডস প্রতিরোধের ব্যাপারে অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য করার মধ্য দিয়ে নতুন করে বিতর্কের
জন্ম দিয়েছেন রৌমান ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পৌপ ষোড়শ বেনেডিক্ট। ছয়-দিন
ব্যাপী আফ্রিকা সফরের শুরুর দিনটিতে পৌপের কাছ থেকে আসা বক্তব্যটির নেতিবাচক প্রভাব
পড়তে পারে বলে শঙ্কিত হতে শুরু করেছে ঘাতক এইডস মোকাবেলায় জড়িত হেলথ-এজেন্সীগুলো।
পৌপ
পদ-প্রাপ্তির পরে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার পথে থাকা অবস্থায় বেনেডিক্ট জানান,
আফ্রিকা মহাদেশে বর্তমানে এইডসের যে-প্রাদুর্ভাব চলছে, তা মোকাবেলায় শারীরিক
সম্পর্কের ক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করাটা কোনো কাজে আসবে বলে তিনি মনে করেন না।
বেনেডিক্টের আরও ধারণা, শারীরিক সম্পর্কের সময় পুরুষের নিরোধক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে
এইডস সংক্রান্ত বিপদের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ভ্যাটিকান থেকে ক্যামেরুন অভিমুখে
উড়ে যাবার সময় বিমানে বসে সাংবাদিকদের সাথে এইডসের প্রকোপ বিষয়ে আলাপ-কালে পৌপ
বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতি একটি ট্র্যাজেডী-বিশেষ, যা থেকে শুধুমাত্র অর্থ-ব্যয় করে
উত্তরিত হওয়া যাবে না, যা থেকে শুধুমাত্র কনডম বিতরণের মাধ্যমে উত্তরিত হওয়া যাবে
না।' উল্লেখ্য, এইডস প্রকোপ মোকাবেলায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকা এবং
যৌন-সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'বিশ্বস্ত' থাকাকে উতসাহিত করে ক্যাথলিক চার্চ। তবে
ক্যাথলিক চার্চে এহেন অবস্থানের ব্যাপারে সংগঠনের ভিতর থেকেই দিন-দিন বিরোধিতা
বাড়ছে।
উল্লেখ্য, পৌপ এমন এক সময়ে এইডস প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্কিত উক্তিটি করলেন, যখন
হেলথ-এজেন্সীগুলো সাব-সাহারান আফ্রিকাতে এইচআইভি ও এইডসের বিস্তার রোধে সার্বক্ষণিক
কাজ করে যাচ্ছে। এ-অঞ্চলটিতে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে আনুমানিক ২২ মিলিয়ন।
এদিকে
হেলথ-এজেন্সীগুলো মনে করছে এইডসের বিস্তার রোধের ব্যাপারে আন্তরিক হলে পৌপ যে-সব
উক্তি করেছেন, তা কখনও বলতে পারতেন না। ট্রীটমেন্ট একশন ক্যাম্পেইন ইন সাউথ
আফ্রিকার ডাইরেক্টর অফ পলিসী রেবেকা
হৌডস সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, 'পৌপ যদি আন্তরিক হতেন, তাহলে লোকের
কাছে কনডম পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারটি কীভাবে সহজতর করা যায় এবং এর সর্বোত্তম
ব্যবহার-বিধি কীভাবে জানানো যায় তাতে আলোকপাত করতেন।' রেবেকা মনে করেন, কনডম
ব্যবহারে বিরোধিতা দেখানোর মধ্য দিয়ে পৌপ বুঝিয়েছেন, আফ্রিকানদের জীবনের চেয়ে তাঁর
কাছে ধর্মীয় গোঁড়ামীটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বেনেডিক্ট অবশ্য ২০০৫ সালে পৌপ পদে বসার
পর থেকেই এইচআইভি ও এইডসের বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে নানান সময়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ-হীন
বিতর্কিত কথাবার্তা বলে যাচ্ছেন।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পৌপের কাছে থেকে আসা সর্বশেষ দফা এইডস সংক্রান্ত বক্তব্যের
নেতিবাচক একটি প্রভাব আফ্রিকা মহাদেশ-জুড়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। এখানে উল্লেখ্য, সারা
বিশ্বের এইচআইভি বহনকারী ৩২ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে ৬৭ শতাংশের বাস
আফ্রিকাতে। আবার ইসলাম ও ইভানজেলিক্যাল চার্চগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে রৌমান ক্যাথলিক
ধর্মানুসারীর সংখ্যা দ্রুততম গতিতে বাড়ছে মহাদেশটিতে। এদের কাছে হেলথ-এজেন্সীগুলোর
আপ্রাণ চেষ্টার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ধর্মগুরুর কথা-বার্তাই প্রধান হয়ে ওঠে কি-না, তা
নিয়েই মূলতঃ আশঙ্কার মধ্যে আছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৭ মার্চ
২০০৯ |