|
পাকিস্তানে প্রধান
বিচারপতিত্ব
ফিরে পাবেন
ইফতিখার চৌধুরীঃ
জয়ী বিরোধীরা
বিরোধীদের
তুমুল আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত সামরিক শাসক পারভেজ মুশাররফের আমলে প্রধান
বিচারপতি-সহ
পদচ্যুত সকল বিচারককে স্বপদে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তান সরকার। প্রধান
বিরোধী দল মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে সরকারী ঘোষণাটিকে আন্দোলনের বিজয় হিসাবে আখ্যায়িত
করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তানে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে কড়া
উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
সোমবার
পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানী এক ঘোষণায় জানান,
চলতি মাসের শেষ নাগাদ মুশাররফের হাতে পদচ্যুত প্রধান বিচারপতি ইফতিখার চৌধুরীকে
স্বপদে ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বর্তমান
প্রধান বিচারপতি আব্দুল হামিদ ডোগার পদত্যাগ করবেন আগামী ২১ তারিখ। চৌধুরী ছাড়াও
মুশাররফের আমলে বরখাস্ত হওয়া সকল বিচারককেই পদে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এদিকে,
সরকারের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণাটিকে করে আন্দোলনে বিজয়ী হবার আমেজ তৈরী হয়েছে
পাকিস্তানের বিরোধী শিবিরে। সরকারী ঘোষণার মাধ্যমে দাবী আদায়ের ব্যাপারে নিশ্চিত
হবার কারণে রাজধানী ইসলামাবাদে বিরোধীদের আয়োজনে সোমবার অনুষ্ঠিতব্য মহা-রালীটিও
বাতিল করেছেন মুসলিম লীগ নেতা নাওয়াজ শরিফ। উল্লেখ্য, শরিফ ও অন্যান্য
বিরোধী-নেতারা বিচারপতিদের পদে ফিরিয়ে আনার দাবীতে আইনজীবীদের সাথে মিলে আন্দোলন
করে যাচ্ছিলেন। সোমবার রালী
মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা নিজেদের পূর্ণ শক্তিমত্তা প্রদশর্নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পক্ষান্তরে রালী
নস্যাৎ করে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক ধড়-পাকড়ের রাস্তা অবলম্বন করে ক্ষমতাসীনরা।
সোমবার
সরকারের পক্ষ থেক আসা ঘোষণাটির পরে শরিফ বলেন, 'আমরা বলেছিলাম আমরা [বরখাস্ত হওয়া]
বিচারকদের পদে ফিরিয়ে আনবো এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবো। আল্লাহের
ইচ্ছাতে আমরা তা অর্জনে সমর্থ হয়েছি।' সরকারের বিরুদ্ধে অর্জিত বিজয়কে 'মর্যাদার
সাথে' উদযাপনের জন্য সমর্থকদের প্রতি আহবান জানান। শরিফ আরও বলেন, 'এখন থেকে
ইনশাল্লাহ জাতির ভাগ্য পরিবর্তিত হতে থাকবে।'
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণাটি রাজনৈতিক উত্তেজনার
প্রশমন ঘটানো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র-সহ পাকিস্তানের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য স্বস্তির
বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন দূত রিচার্ড
হলব্রুক সোমবারের ঘোষণাটিকে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারীর 'রাষ্ট্রনায়কোচিত'
সিদ্ধান্ত হিসাবে আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, ধর্মবাদী জঙ্গীদের সাথে লড়াই নিয়ে
এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকা দেশটির সরকার ও বিরোধী পক্ষের উত্তেজনাকে নিজেদের
স্বার্থের জন্য হানিকর মনে করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
লন্ডনঃ ১৬
মার্চ ২০০৯ |