|
সিরিয়ায়
ফিলিস্তিনী হামাস-নেতার সাথে ব্রিটিশ এমপিদের সাক্ষাত
ব্রিটেইনের
কমন্স সভার দুই এবং লর্ডস সভার দুই সদস্য হামাস নেতার সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং
'সঠিক শান্তি অর্জনের' লক্ষ্যে হামাসকে বয়কট করার নীতি পরিহার করার আবেদন জানিয়েছেন
ব্রিটিশ সরকারের কাছে।
ব্রিটিশ লেবার
দলীয় এমপি ক্লেয়ার শটের নেতৃত্বে চার সদস্য-বিশিষ্ট একটি
ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে হামাস-নেতা খালেদ মেশালের
সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাত-শেষে সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমপি
ক্লেয়ার শট বলেন, 'আমরা [শান্তির দিকে] অগ্রগতির জন্য হামাসের সাথে কথা বলতে চাই,
কারণ হামাস ফিলিস্তিনী জনগণের একটি বড়ো অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে।' তিনি
জানান, হামাসের সাথে কথার সূচনা করলে কাঙ্খিত সঠিক শান্তির
পথে দ্রুততার সাথে অগ্রসর হওয়া যাবে।
ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ন ও
যুক্তরাষ্ট্র সাথে সহমত হয়ে ব্রিটেইন বলেছে, ইসরায়েলকে স্বীকার না করা পর্যন্ত
হামাসের সাথে কোনো কারবার চলতে পারে না। তবে, এখনও পর্যন্ত হামাস নেতৃত্ব ইসরায়েল
রাষ্ট্রটির কোনো বৈধতা আছে বলে স্বীকার করেনি। লক্ষ্য করার বিষয়, কয়েক মাস আগে
কতিপয় ইউরৌপীয় রাজনীতিক হামাস নেতৃত্বের সাথে মিলিত হলেও, তার কোনো প্রচার হয়নি।
বিপরীত দিকে, শনিবারের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের সাথে
সাক্ষাতকারটি বেশ জোরে-শোরেই প্রচার করা হয়েছে।
রয়টার্স
জানায় কমন্স সভার দুই লেবার সদস্য ও লর্ডসভার দুই পীয়ার ছাড়াও হামাস নেতার সাথে
একজন আইরিশ ও একজন স্কটিশ পার্লামেন্টারিয়ানও উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, আগামী
সপ্তায় গ্রীস ও ইতালীর পার্লামেন্টের পক্ষ থেকেও কয়েকজন হামাস নেতৃবৃন্দের সাথে
সাক্ষাতে মিলিত হবেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক-কালে
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজায় ইসরায়েলী হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে
পাশ্চাত্যে যে-গণ-সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে, তারই প্রতিফল হিসেবে ইউরৌপীয়
রাজনীতিকদের মধ্যে ফিলিস্তিন তথা হামাসের ব্যাপারে মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছে।
উল্লেখ্য, এ-সময়-কালে হামাস-নেতা খালেদ মেশালও পশ্চিমা
দুনিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছেন তাদের নিয়ন্ত্রিত গাজার উপর থেকে বয়কট প্রত্যাহার
করে নিতে।
সম্প্রতি মিশরের
মধ্যস্থতায় পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণকারী ফাতাহ ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের মধ্যে
জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে একমত হবার পর মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যপারে আশাবাদ
সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ফিলিস্তিনের পার্লামেন্টারী নির্বাচনে হামাস
বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করলেও পশ্চিমা বিশ্ব হামাসের রাজনৈতিক অবস্থানকে
সন্ত্রাসবাদী আখ্যায়িত করে অস্বীকৃতি জানায়। পরের বছর পশ্চিমা সমর্থন-প্রাপ্ত
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ সংগঠনকে হামাস-সদস্যরা গাজা থেকে বিতাড়িত করে।
ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ-মুক্ত ফিলিস্তিনের দুই অংশের মধ্যে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর
নিয়ন্ত্রণ করছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফাতাহ এবং বহু দূর্ববর্তী ভূমধ্যসাগর-ঘেঁষা
গাজা অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। মাঝখানে 'ইসরায়ী ভূমি' রেখে কীভাবে পশ্চিম-তীর ও
গাজা এক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে ক্রিয়া করবে সেটি রাজনীতিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের
কাছে একটি শক্ত প্রশ্ন।
লন্ডনঃ ১৫ মার্চ ২০০৯
|