|
বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেঃ
রেমিট্যান্স কমছে
বিশ্ব
অর্থনীতির চলমান মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ ভালোভাবেই পড়তে শুরু
করেছে। রপ্তানি-খাত
থেকে এখন আর আগের মতো বৈদেশিক মুদ্রা দেশটিতে আসছে না। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স
প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের ৫৫ হাজার শ্রমিকের ওয়ার্ক
পারমিট বাতিল করে দিয়েছে। দু দেশের সরকারের মধ্যে এ-নিয়ে
দেন-দরবার চলছে। কিন্তু খুব বেশি লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই
বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিকরা ফিরে আসছে ঢাকায়। শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে প্রায়
১০০ জন শ্রমিক ফিরে এসেছেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে পড়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। শনিবার ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদকের
সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য ও চামড়া-সহ
বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে বিশ্ব মন্দার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিশ্ব
অর্থনীতির সঙ্কট দিন-দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি-খাতে এর
নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মন্দার কারণে আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে
যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তেমনটি হলে অনেক লোক চাকরী হারাবে। সামাজিক নিরাপত্তা
হুমকির মুখে পড়তে পারে। সরকার বিশ্ব মন্দা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণের জন্য এ-মাসেই
সর্বদলীয় টাস্কফোর্স গঠন করবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০০৮-০৯ অর্থ-বছরে (আগামী জুন পর্যন্ত) বাংলাদেশের
অর্থনীতিতে বিশ্ব মন্দার প্রভাব খুব একটা পড়বে না। আগামী ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে
(জুলাই মাসের পর থেকে) অর্থনীতি বড়ো ধরণের সঙ্কটে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আব্দুল
মুহিতের দাবী, সরকার এখন থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের
প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং বিশ্ব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে
দেশটির রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড়ো খাত নিট পোশাক রপ্তানিকারকরা বিশ্ব অর্থনীতির
মন্দার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের কাছে ১০ শতাংশ বিশেষ আর্থিক সুবিধা চেয়েছেন।
শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিট পোশাক
প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সরকারের কাছে এ-সহায়তা চেয়েছে। একই সঙ্গে
তারা মন্দা মোকাবেলার জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং গ্যাস ও
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতেও সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে
শিল্পমালিকদের সংগঠনটি।
রপ্তানি
উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাসে (জুলাই ২০০৮) নিট
পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৮৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। জানুয়ারী মাসে সে-প্রবৃদ্ধি
২১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে জুলাই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানিতে
প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জানুয়ারী মাসে সে-প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৬৬
শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারী মাসে
প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রায় ৮৬ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেলন। ফেব্রুয়ারী
মাসে তা কমে ৭৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স
প্রবাহ আরও কমবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষটরা।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
১৪ মার্চ
২০০৯
|