|
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে
ফ্রান্স ও জার্মানীকে রাজী করাতে
ব্যর্থ ব্রিটেইন
আয়কর
কমানো ও জনগণের ব্যয়-প্রবণতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিমজ্জমান পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে গতি
সঞ্চারের চেষ্টায় ফ্রান্স ও জার্মানীকে পাশে পেতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রিটেইনে। আগামী
এপ্রিলে মাসে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসাবে শনিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত
সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক থেকে ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের প্রতি
প্রত্যাখানটি জানানো হয়েছে।
গর্ডন
ব্রাউনের প্রস্তাবের ব্যাপারে মত-প্রদান করে জার্মানীর চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল
জানান, নতুন করে আরেক দফা ‘ফিস্ক্যাল
স্টিমুলাস’
প্রদানের ব্যাপারটির বর্তমানে কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া তিনি আরও জানান, যদি তেমন
কোনো উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন হয়, তাহলে জার্মানী তা নিজের দায়িত্বেই করবে।
এক্ষেত্রে জি-২০ এর কোনো ভূমিকার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। ডাউনিং
স্ট্রীটে ব্রাউনের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য-দানের সময় মার্কেল অবশ্য জানান জি-২০ এর
পক্ষ থেকে গঠনমূলক একটি ফল আসার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। উল্লেখ্য, জি-২০ এর দেশগুলো
বিশ্বের গোটা অর্থনীতির ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মার্কেল আরও জানান, জার্মানী
ইতোমধ্যে মোট জিডিপির ৪ দশমিক দুই শতাংশ বরাদ্দ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে এবং এ-হার
ব্রিটেইনের চেয়ে অনেক উচ্চ বলেও জানান তিনি। জার্মানীর চ্যান্সেলর মনে করেন নতুন
প্রস্তাবে সম্মতি দেয়ার আগে ইতোমধ্যে গৃহীত উদ্যোগের ফল কেমন হয়, তা দেখার জন্য
অপেক্ষা করাটা প্রয়োজন। তবে ব্রিটেইনের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবনার ব্যাপারে দেশের
পার্লামেন্টে আলোচনা করার ব্যাপারে আশ্বাস দেন মার্কেল।
জার্মানী
গত জানুয়ারী মাসে ৫০ বিলিয়ন ইউরৌর স্টিমুলাস প্যাকেইজ ঘোষণা করেছে। অবকাঠামো
উন্নয়ন, শিক্ষাখাত ও নতুন গাড়ী ক্রয়ে অনুদান-সহ প্রত্যেক শিশুর জন্য একশো ইউরৌ
খরচের মাধ্যমে এ-বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করা হবে।
মার্কেলের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনা গেছে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান
লাগার্দে। ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট সাসেক্সের হৌরশ্যামে জি-২০ এর অর্থমন্ত্রীদের এক
সভাশেষে জানান পরিস্থিতির পরিবর্তনের ব্যাপারে যৌথ-উদ্যোগ নিয়ে কথা-বার্তা হয়েছে
সভাতে। তবে একই সাথে তিনি জানান, নতুন করে ব্যয়- প্রবণতা বাড়ানো সংক্রান্ত
প্রস্তাবটি বিবেচনার আগে জি-২০ এর দেশগুলো নিজেরা যে-সব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোর আগে
মূল্যায়ন হওয়া দরকার।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জার্মানী ও ফ্রান্সের কাছ থেকে আসা বক্তব্যের মধ্য-দিয়ে সঙ্কট
নিরসনের ব্যাপারে ব্রাউনের উদ্যোগটি বলতে গেলে এক-কথায় ভেস্তে গেলো। উল্লেখ্য,
ব্রাউনের প্রস্তাবনাটির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও সায় আছে।
ব্রাউনের মতো ওবামাও মনে করছেন বৈশ্বিক অর্থনীতি বাঁচাতে হলে ধনী দেশগুলোর মধ্যে
অধিকতর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে, জার্মানী ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আসা
বক্তব্যকে টেনে এনে প্রধান বিরোধী দল কনসার্ভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে কড়া সমালোচনা
করা হয়েছে। শ্যাডৌ চ্যান্সেলর জর্জ অসবৌর্নের মতে এ-থেকেই প্রমাণিত হয় যে, জি-২০
নেতৃত্বকে নিজের চিন্তার পক্ষে আনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।
লন্ডনঃ ১৪
মার্চ ২০০৯
|