|
ওবামার নিষেধাজ্ঞা
‘ছেলেমানুষী’
হিসাবে উড়িয়েছেন আহমেদিনেজাদ
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার
কাছ
থেকে আসা সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা
ঘোষণাকে ‘ছেলেমানুষী’
হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। উল্লেখ্য,
বৃহষ্পতিবার ওবামা জানিয়েছেন ইরানের বিরুদ্ধে জারী থাকা নিষেধাজ্ঞাটি তিনি আরও এক
বছরের জন্য বর্ধিত করবেন।
উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞা বর্ধিত করার ব্যাখ্যা করে ব্যাখ্যা করে ওবামা জানান ইরান এখন
পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি এখন পর্যন্ত
‘ব্যতিক্রমধর্মী
হুমকি’
হয়ে বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে পরমাণু কর্মসূচিকে ইরান মূলতঃ পরমাণু অস্ত্র
তৈরীর ঢাল হিসাবে ভাব হিসাবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার ব্যাপারে মত
প্রকাশ-কালে আহমেদিনেজাদ শুক্রবার জানান, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরানের
উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি একে
‘ছেলেমানুষী’
ও ‘বড়ো
ধরণের একটি ভুল’
হিসাবে চিহ্নিত করেন। আহমেদিনেজাদ বলেন, 'আমাদের কাউকে দরকার নেই ... আমরা নিজেদের
সামর্থ্যের উপরে নির্ভর করছি। তিনি আরও বলেন, 'সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায়, ইরানী জাতির
উন্নয়নের ক্ষেত্রে গতির সঞ্চার হয়েছে।'
স্মরণ
করা যেতে পারে, ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওবামা জানাচ্ছেন পরমাণু কর্মসূচি-সহ অন্যান্য
বিষয়ে তিনি ইরানের সাথে বৈঠকে বসতে আগ্রহী। ওবামার এ-অবস্থান তার পূর্বসুরী জর্জ
বুশের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। বুশ তার আট বছরের শাসনামলে ইরানকে পুরোপুরি
বয়কটের নীতি অবলম্বন করেছিলেন। সর্বশেষ ঘোষণায় ওবামা জানিয়েছেন পরমাণু প্রকল্পে
ইউরেনিয়াম পরিশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করা না হলে ইরানকে নতুন করে অবরোধের সম্মুখীন হতে
হবে। উল্লেখ্য, পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে ইরানের সাথে বেশ কিছু দিন থেকেই
পাশ্চাত্যের সমস্যা চলছে। ইরানের দাবী, তার পরমাণু কর্মসূচি বেসামরিক
উদ্দেশ্য-প্রণোদিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নের্তৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের দাবী, এর
পিছনে ইরানের সামরিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে।
ওবামার
পক্ষ থেকে সর্বশেষ যে-ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, সে-ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে সর্তক
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, সংলাপে বসার ব্যাপারে
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে
তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে। এদিকে সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে, ওবামার তরফ থেকে ইরানের
উপরে জারী থাকা অবরোধ দীর্ঘায়িত করার ব্যাপারে যে-ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা পশ্চিমা
জ্বালানী কৌম্পানীগুলোকে দেশটিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে নতুন করে ভাবিত করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার পরে ইরানের হাতে আছে গ্যাসের সবচেয়ে বড়ো মজুত।
লন্ডনঃ
১৪ মার্চ ২০০৯ |