|
জেএমবির জঙ্গিরা বাংলাদেশে সেনা-হত্যাকাণ্ড
ঘটিয়েছেঃ
বাণিজ্য
মন্ত্রী
বাংলাদেশের
সীমান্তরক্ষী বাহিনী
বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের
ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী
সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর
সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটীগুলোর
সমন্বয়কারী
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ
নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী কর্নেল (অবঃ)
ফারুক খান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ-অফিসে ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদক
ও বেসরকারী টিভি
চ্যানেল এটিএন বাংলার প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ-কালে
ফারুক খান বলেন,
ইতোমধ্যে
বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে জেএমবির সঙ্গে জড়িত
ছিলো।
তিনি বলেন,
ঘটনা তদন্তে কমিটিগুলো
এখন পর্যন্ত যে-সব
তথ্য পেয়েছে তাতে জেএমবির জড়িত থাকার প্রমাণ
পাওয়া গেছে।
তবে এর চেয়ে বেশি কিছু
বলা যাবে না।
এতে তদন্ত কাজে বিঘ্ন হতে পারে।
কিংবা অন্যরা সতর্ক হয়ে
যেতে পারে।
তবে এ-ঘটনায়
জঙ্গীদের
সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে,
এটা তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন।
এদিকে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র ইউকেবেঙ্গলিকে জানিয়েছে,
ঘটনার পর গত সোমবার বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে ছয় জন পলাতক
বিডিআর জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে রাব
সদস্যরা।
বিডিআর-সদস্যদের
সঙ্গে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ফাঁসী হওয়া জেএমবি নেতা বাংলা ভাইয়ের
ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিলো।
এ-ছয়
জনের কাছ থেকেই পিলখানায় নৃশংস সেনা-কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের
ঘটনায় জেএমবির জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য,
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জঙ্গীদের
বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে-অভিযান
শুরু হয়েছিলো, তার
নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা-কর্মকর্তা
ঐ-সময়ে
রাবের
অতিরিক্ত মহাপরিচালক লেঃ
কর্নেল
গুলজার উদ্দিন আহমেদ।
সফল অভিযানের মাধ্যমে
গুলজার বাংলা ভাই ও শায়খ রহমানকে গ্রেফতার করেছিলেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের
মাস খানেক আগে গুলজারকে কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বিডিআরে বদলি করা হয়।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে
যে-সব সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, তাদের
অনেকেই গুলজারের সঙ্গে জঙ্গীদের
গ্রেফতার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
বিডিআর সদর দপ্তরে যে-সব
সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন,
তাদের মধ্যে সবচেয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে কর্নেল গুলজারকে।
লাশ দেখে অন্য সব
কর্মকর্তাকে চেনা
গেলেও গুলজারের লাশ এমনই বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো
যে, কেউ সনাক্ত করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্তমঙ্গলবার
ডিএনএ টেস্ট করে তার লাশ সনাক্ত করা হয়।
যেহেতু কর্নেল
গুলজার জেএমবি নেতা বাংলা ভাই ও শায়খ রহমান-সহ
অন্য জেএমবি সদস্যদের গ্রেফতার করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন সে-কারণে
তাকে এবং অন্য সেনা কর্মকর্তাদের (যারা জঙ্গী
গ্রেফতারে গুলজারের সঙ্গে ভূমিকা রেখেছিলেন) লক্ষ্য করেই জেএমবির
জঙ্গিরা এ-হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন ইউকেবেঙ্গলির
একটি সূত্র ।
তবে
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জঙ্গী
সংশ্লিষ্টতা
ধারণা ছাড়াও আর দুটি ধারণা বিভিন্ন
মহলের মধ্যে সক্রিয় আছে।
এদের মধ্যে একটি অংশের
ধারণা, দীর্ঘদিন
ধরে নিজেদের সংগঠনের ভিতরেই
সেনা-অফিসারদের হাতে নিগৃহীত হতে থাকা বিক্ষুব্ধ
বিডিআর জওয়ানরা নিজেরাই হত্যাকাণ্ডের
ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
অন্য একটি অংশের ধারণা,
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল
করে তোলার লক্ষ্য থেকেই বহিঃশক্তির
মদতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ঘটানো হয়েছে।
২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি
পিলখানায় ৫৯ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
১২ মার্চ
২০০৯ |