|
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে
বুশকে
জুতো-মারা সাংবাদিকের কারাদণ্ড ইরাকে
যুক্তরাষ্ট্রের
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট
জর্জ
বুশকে জুতো ছুঁড়ে মারা সাংবাদিক মুনতাদার আল জায়েদিকে
তিন বছরের কারদণ্ডে দণ্ডিত
করেছে ইরাকের কেন্দ্রীয় আদালত।
গত ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে বাগদাদ সফরকালে এক
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় বুশের দিকে পায়ের দু-পাটি
জুতো খুলে একের পর এক ছুঁড়ে মেরেছিলেন জায়েদি।
খবরে
প্রকাশ, জায়েদির
বিচারের রায় প্রকাশের দিনটি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মার্কিনী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন
বাগদাদের গ্রীন জৌনের আদালত এলাকা উদ্ধিগ্ন
লোক-জনে
পূর্ণ হয়ে যায়। এ-সময় আইনজীবী,
সাংবাদিক, নিরাপত্তা প্রহরী দল ছাড়াও জায়েদির
পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ী-সহ
কয়েকশো
মানুষ আদালতে এসে হাজির হন। রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে জায়েদিকে
কড়া নিরাপত্তার ভিতর
দিয়ে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। রায় প্রদান-কালে
বিচারক আব্দুলামির হাসান আল-রুবাই জানান,
সাজার মেয়াদ নির্ধারণকালে জায়েদির
তরুণ
বয়সের ব্যাপারটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও বুশের দিকে জুতো ছুঁড়ো মারাটাকে জায়েদির
প্রথম অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। আদালত জায়েদির
কাছে তিনি নিরপরাধ কি-না জানতে চাইলে, তিনি বলেন
'হ্যাঁ। আমার
প্রতিক্রিয়া [জুতো ছুঁড়ো মারা] ছিলো স্বাভাবিক অন্য যে-কোন ইরাকীর মতোই।'
স্মরণ
করা যেতে পারে, ইরাকী প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাগদাদের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনটিতে
উপস্থিত থাকার অনুমতি-প্রাপ্ত হাতে-গোনা কয়েকজন সাংবাদিকের মধ্যে জায়েদি
ছিলেন অন্যতম। বুশের বক্তব্যের এক-পর্যায়ে নিরাপত্তা-প্রহরী বা কক্ষে উপস্থিত
অন্যান্য লোকজন কিছু বুঝে ওঠার
আগেই বুশকে লক্ষ্য করে পরপর দু-পাটি
জুতো নিক্ষেপ করেন জায়েদি।
বুশ অবশ্য এদিক-ওদিক সরে গিয়ে জুতোর আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হন। এ-সময় জায়েদি
চিৎকার করে বুশের উদ্দেশ্যে বলেন, 'এটা হচ্ছে বিদায়ী চুমু, কুকুর কোথাকার।'
মুহূর্তের ব্যবধানে ঘটে
যাওয়া ঘটনার রেশ কাটিয়ে উঠে নিরাপত্তা রক্ষীরা এ-সময় জায়েদিকে
পাকড়াও করে নিয়ে যান। কারাগারে জায়েদীকে ব্যাপক নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয়। বুশকে
জুতো ছুঁড়ে মারারা ঘটনার পর থেকেই আরব-বিশ্ব-জুড়ে
নন্দিত এক নায়কে পরিণত
হন এ-তরুণ
সাংবাদিক।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আদালতের রায় প্রকাশিত হবার সাথে-সাথে বিক্ষোভে
ফেটে পড়েন জায়েদীর
পক্ষে মামলা লড়া ২৫ জন আইনজীবী,
তার আত্মীয়-স্বজন
ও বন্ধু-বান্ধবরা। এ-সময় অনেকে চিৎকার করে বলেন, 'এটা হচ্ছে মার্কিনীদের আদালত।'
তারা বিচারককে উদ্দেশ্য করে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন বলেও খবরে প্রকাশ। জায়েদির
ভাই উদে
সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে
বলেন, 'এটি একটি রাজনৈতিক আদালত। মুনতাদার [আল জায়েদির]
সাথে যুদ্ধাপরাধীর মতো
আচরণ করা হয়েছে। সে-কোনো
সাধারণ কয়েদী নয়।' উদের দাবী,
জায়েদীর বিরুদ্ধে যে-সাজাটি ঘোষণা করা হয়েছে,
তা প্রধানমন্ত্রী মালিকির
দপ্তর
থেকে স্থির করা হয়েছে। রায়
ঘোষণার পর-পর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো জায়েদি
চিৎকার করে বলেন, 'ইরাক দীর্ঘজীবী
হোক।'
সরকার
পক্ষের আইনজীবীরা
জানান,
একজন বিদেশী রাষ্ট্র-প্রধানকে হেনস্থা করার কারণে
ইরাকের দণ্ডবিধি অনুসারে সাজা পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত ছিলো জায়েদির।
কিন্তু জায়েদির আইনজীবীদের
দাবী, ঘটনার সময় বুশ যেহেতু রাষ্ট্রীয় সফরে ইরাকে অবস্থান করছিলেন না,
সেহেতু ক্রিমিন্যাল কৌডের ব্যাপারটি জায়েদির
ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। তার প্রধান আইনজীবী
এহিয়া আল-সাঈদ জানান,
তার মক্কেলের উদ্দেশ্যটি ছিলো 'সম্মানজনক'। সাঈদ বলেন, 'তিনি [জায়েদী] তার অনুভূতির
প্রকাশ ঘটিয়েছেন মাত্র। [সাবেক] মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন ইরাকে সাফল্যের বয়ান দিয়ে
যাচ্ছিলেন, জায়েদী তখন তার পায়ের
নিচ দিয়ে ইরাকীদের
রক্তের ধারা বয়ে যেতে দেখছিলেন।'
জায়েদির
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন,
তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ্যাপীল
করবেন না। তবে তারা বুশ, মালিকি
ও দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার আদালতে নির্যাতনের মামলা দায়ের করার প্রস্তুতির
কথা ঘোষণা করেন।
লন্ডনঃ
১২ মার্চ ২০০৯
|