|
গণহত্যায় জড়িত
থাকার দায়ে প্রাক্তন নাজি প্রহরী অভিযুক্ত জার্মানীতে
দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধকালে নাজি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের প্রহরীর ভূমিকাতে থাকা অবস্থাতে ২৯
হাজার মানুষের হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ততার দায়ে এক ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে
অভিযুক্ত করেছেন জার্মানী। খবরে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী
ব্যক্তিটি ফিরত পাঠানোর জন্য ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাবে বার্লিন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিটি অবশ্য গণহত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোহ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার জার্মানীর মিউনিখে সরকারী কৌঁসুলীরা জন ডেমিয়ানিয়ুক (৮৮) নামের একজন
ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাইকারীভাবে ইহুদী নিধন-যজ্ঞে অংশ নেয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
উত্থাপন করেন। পরবর্তী জীবনে গাড়ী-নির্মাণ কারখানায় শ্রমিকের কাজ করা এ-ব্যক্তিটি
১৯৪৩ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হিটলারের বাহিনী কর্তৃক অধিকৃত
পৌলান্ডের সোবিবর বধ্যভূমিতে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করতেন। মিউনিখের আদালতের
হিসাব-মতে ডেমিয়ানিয়ুক কর্মকালে সোবিবরে কমপক্ষে ২৯ হাজার ইহুদীকে হত্যা করা
হয়েছিলো। আদালত জানিয়েছেন, ডেমিয়ানিয়ুককে এ-বিপুল সংখ্যক নরহত্যার সাথে যুক্ততার
দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে
যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডের শহরতলীতে বসবাসরত ডেমিয়ানিয়ুক
অবশ্য গণহত্যাতে যুক্ত থাকা সংক্রান্ত অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য,
জন্মগতভাবে উক্রানীয় ডেমিয়ানিয়ুক ১৯৫২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসাবে
জীবন-যাপন করছেন। ১৯৫৮ সালে তিনি সে-দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ইহুদী নিধন-যজ্ঞে
যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ডেমিয়ানিয়ুক সংবাদ-মাধ্যমকে জানান, তিনি দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের সময় সৌভিয়েত বাহিনীর পক্ষে কাজ করেন এবং ১৯৪২ সালে জার্মান বাহিনীর
হাতে ধরা পড়েন। উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধে যুক্ত থাকার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হবার জন্য
১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ইসরায়েল পাঠিয়ে দিয়েছিলো। সে-সময় মার্কিন বিচার
বিভাগের পক্ষ থেকে ডেমিয়ানিয়ুককে পৌলান্ডের ত্রেবলিঙ্কা বধ্যভূমিতে আইভান দ্য
টেরিবল নামে পরিচিত হয়ে ওঠা নৃশংস ঘাতক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিলো। ট্রিবলিংকাতে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাড়ে আট লক্ষ ইহুদীকে হত্যা করা হয়েছিলো। ডেমিয়ানিয়ুক
অবশ্য সাত বছর ইসরায়েলে আটক থাকার পরে ছাড়া পেয়ে যান। ইসরায়েলের আদালত তখন জানায়,
ট্রিবলিংকাতে আইভান দ্য টেরিবল নামে পরিচিত হয়ে ওঠা ব্যক্তিটি ডেমিয়ানিয়ুক ছিলেন
না।
ইসরায়েলে
থেকে ছাড়া পেয়ে যাবার পরে ১৯৯৮ সালে ডেমিয়ানিয়ুক তার মার্কিন নাগরিকত্বও ফেরত পেয়ে
যান। তবে একই সময়ে মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে নতুন একটি অভিযোগ
উত্থাপন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ডেমিয়ানিয়ুক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নাজি
ক্যাম্পের প্রহরী হিসাবে কাজ করেছিলেন। ১৯৫০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও
নাগরিকত্ব গ্রহণের সময়ে ভূয়ো তথ্য দেয়ার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের
সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলো আদালত। ২০০৫ সালে মার্কিন আদালতের পক্ষ থেকে
ডেমিয়ানিয়ুককে তার নিজ-দেশ উক্রাইন, বা জার্মানী-পৌলান্ডের যে-কোন এক দেশ ফিরত
পাঠিয়ে দেয়ার রুলিং জারী করা হয়। কিন্তু আদালতের রুলিং চ্যালেইঞ্জ করার মাধ্যমে
বছরের পর বছর পার করে দিতে সক্ষম হন তিনি। তবে গত বছর মার্কিন আদালতে
এাপীল
বাতিল হয়ে যাবার পরে ডেমিয়ানিয়ুককে বিচারের জন্য উপরোক্ত দেশগুলোতে নিয়ে যাবার পথ
উন্মুক্ত হয়ে যায়।
বুধবার
মিউনিখের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণাটির মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ডেমিয়ানিয়ুক
বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবার পথটি প্রশস্ত হয়। উল্লেখ্য, যুদ্ধের পরে কিছুদিন
মিউনিখের একটি শরনার্থী শিবিরে কিছু দিন বাস করেছিলেন ডেমিয়ানিয়ুক।
লন্ডনঃ ১১
মার্চ ২০০৯ |