London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুরে দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডে সেনা-হত্যাঃ দায়িত্ব স্বীকারে রীয়েল আইআরএ

উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য আততীয়র গুলিতে নিহত ও অপর চারজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করেছে অ্যায়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গুপ্ত সংগঠন রীয়েল আইআরএ। ব্রিটেইনের সাথে শান্তিচুক্তি-পক্ষীয় আইরিশ নেত জেরী এ্যাডামস ও উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের ডেপুটী ফার্স্ট মিনিস্টার মার্টিন ম্যাকগিনিস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে প্রধান মন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডে।

উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট থেকে ২০ মাইল উত্তরপশ্চিমে এ্যান্ট্রিমের ম্যাসেরীনে অবস্থিত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের সদর দপ্তরে শনিবারে আততায়ীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুই সেনা-সদস্যকে। সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত কোনো-কোনো রিপৌর্ট-মতে, আততায়ীরা মেশিনগানে সজ্জিত হয়ে পিৎজ্জা ডেলিভারী দেবার ভ্যানে-করে সেনা-ব্যারাকে প্রবেশ করে এবং গুলি চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুজন সেনা-সদস্যকে নিহত এবং অপর চারজনকে আহত করে। আবার কোনো-কোনো রিপৌর্ট অনুসারে, আততায়ীরা ব্যারাকে প্রবেশ না-করে গাড়ী চালিয়ে যেতে-যেতে গুলি করে।  জানা যায়, আহত চারজনের মধ্যে দুজন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা সেনাদেরকে পিৎজ্জা ডেলিভারী দিতে সেখানে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, নিহত সেনা দুজনেরই বয়স বিশের কোঠায় এবং এরা এ-সপ্তাহে আফগানিস্তানে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এদের একজনের নাম স্যাপার্স প্যাট্রিক এ্যাজিমকার (বাঁয়ে, ২১) এবং অপরজনের নাম মার্ক ক্যুয়িন্সী (ডানে, ২৩)।

শনিবারের এ-হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পরদিন রোরবারে দায়িত্ব স্বীকার করেছে রীয়েল আইআরএ (আইরিশ রেভিউলেশনারী আর্মী)। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১০ এপ্রিলে উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের বিষয়ে আইআরএর সাথে ব্রিটিশ সরকারের শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হলে সংগঠনটির আপোষহীন কিছু সদস্য বেরিয়ে যেয়ে রীয়লে আই আরএ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীন অ্যায়ারল্যান্ডের জন্য তার যুদ্ধ অব্যাহত রাখার সংকল্প ঘোষণা করে।   উল্লেখ্য, রীয়েল আইআরএ হলো আদি আইআরএ থেকে বেরিয়ে আসা একটি সশস্ত্র দল যারা উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপোষে বিশ্বাস করে না।

এদিকে আইআরএর রাজনৈতিক সংগঠন শেনফেইনের নেতা জেরী এ্যাডামাস এবং আই আরএর প্রাক্তন নেতা ও বর্তমানে উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের ডেপুটী ফার্স্ট সেক্রেটারী মার্টিন ম্যাকগিনিস বলেছেন, আমি এক সময় আইরিশ রেভিউলুশনারী আর্মীর সদস্য ছিলাম, কিন্তু আমাদের সে-যুদ্ধ বিগত। তিনি বলেন, যারা শনিবারের হামলার জন্য দায়ী, তারা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তার সেই যুদ্ধটা আবার শুরু করতে চায়। আমি মনে করি এটা করার অধিকার তাদের নেই।  সংবাদ মাধ্যমকে দেয়ে এক আবেগময় সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, রীয়েল আইআরএ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংঘাতে ফিরে যেতে; রাস্তায় সৈন্য দেখতে; আরও চেকপয়েন্ট দেখতে; বাসা-বাড়ীতে রেইড দেখতে এবং মানুষ-জনকে ইন্টারোগেশন সেন্টারে ধরে নিয়ে যাওয়া দেখতে। কিন্তু সেদিন আর নেই। তারা কখনও তা ফিরিয়ে আনতে পারবে না। সকল গণতন্ত্রীর পক্ষে আমি আইআরএর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। একভাবে শিনফেইনের নেতা জেরী এ্যাডামস বলেন, তাদের [রীয়েল আইআর] অভিপ্রায় হচ্ছে ব্রিটিশ সেনাদের রাস্তায় ফিরিয়ে আনতে। তারা সাম্প্রতিক কালের উন্নয়নকে ধ্বংস করতে এবং অ্যায়ারল্যান্ডকে সংঘাতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

ব্রিটিশপন্থী ইউনিয়নিস্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার সোমবার এ্যাসম্বেলী বলেছেন, তারা যেনো ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের উপর প্রত্যাঘাত শুরু না করেন। তিনি বলেন, ইউনিয়নবাদী কমিউনিটির মধ্যে যারা বিক্ষুব্ধ, তাদের সকলের প্রতি অনুরোধ, এ-ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে কর্তৃপক্ষ ও পুলিসের কাছে ছেড়ে দিন

প্রধান মন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এক মন্তব্যে ববলেছেন, উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগমনকে এ-হত্যার ঘটনা রুখতে পারবে না। ঘটনার পিছনে দায়ী ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, এদেরকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। প্রধান মন্ত্রীর কার্য্যালয়-সূত্রে জানা যায়, তিনি সোমবার সকালে উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডে গিয়েছেন এবং তিনি উত্তর অ্যায়ারল্যান্ডের চীফ কনস্টেবল স্যার হিউফ অড্রের সাথে মিলিত হয়ে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সের সদর দপ্তরে সেনা-নিহত হবার ঘটনার স্থলটি পরিদর্শন করেছেন। 

লন্ডনঃ ৯ মার্চ ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 

 

© 2007 Confidence Services Ltd.