|
ব্রিটেইনে সোয়া সাত লক্ষ
অবৈধবাসীঃ লন্ডন স্কুল অফ ইকৌনমিক্স
বর্তমানে
ব্রিটেইনে অবৈধভাবে বাসকারী বিদেশীর সংখ্যা সোয়া সাত লক্ষ। লন্ডন স্কুল অফ
ইকৌনমিক্সের (এল-এস-ই) পক্ষ থেকে পরিচালিত এক গবেষণায় জানা গেছে এ-তথ্য। ২০০৫ সালে
সরকারী হিসাবে যে-সংখ্যা দেখানো হয়েছে, তার চেয়ে উপরে দেয়া সংখ্যাটি ৮১ শতাংশ বেশি।
এদিকে, আলোচ্য সমস্যাটি নিরসনের জন্য অবৈধ অভিবাসীদেরকে কাজের অনুমতি-দানের পক্ষে
যুক্তি প্রদর্শন করছেন লন্ডন মেয়র। তবে তার দল ও বিভিন্ন মহল থেকেই এ-ধরণের যুক্তির
বিরোধিতা করা হচ্ছে।
রোববার
রাতে বিবিসির প্যানোরোমা অনুষ্ঠানে দেয়া এক তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমানে ব্রিটেইনে
বর্তমানে যে-বিপুল সংখ্যক অবৈধ বিদেশী বাস করছেন, তাদেরকে বর্তমান হারে নিজ-নিজ
দেশে ফেরত পাঠাতে হলে ৩৪ বছর সময় লাগবে। এছাড়াও এর পেছনে খরচ হবে ৮ বিলিয়ন ডলার।
হৌম অফিস জানিয়েছে, ২০০৫ সালে তারা যে-হিসাব দিয়েছিলেন, তা ছিলো একটি অনুমান এবং
এটিকে কোনোভাবেই শেষ কথা হিসাবে ধরে নেয়া যাবে না। উল্লেখ্য, হৌম অফিস তখন
জানিয়েছিলো, ব্রিটেইনে চার লক্ষ ৩০ হাজার অবৈধ অভিবাসী বাস করছেন।
এদিকে,
লন্ডন মেয়র বরিস জনসন বলেছেন, বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর সমস্যাটি নিরসনের
ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য সমাধান হচ্ছে এদের সকলকেই সরকারীভাবে কাজ-কর্মের অনুমতি দান
করা। এছাড়া তিনি মনে করেন, পর্যায়ক্রমে এদের সকলকে নাগরিকত্ব প্রদান করাটাই হচ্ছে
সব দিক থেকে যৌক্তিক। নিজ-বক্তব্যের সমর্থনে জনসন বলেন, যদি লোকেরা [ অবৈধ
অভিবাসীরা] এখানে থেকেই থাকে এবং আমরা তাদেরকে বহিষ্কার করে দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে
সমাজের বাকী অংশের জন্য ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে অবদান রাখাটাই হবে তাদের জন্য
নৈতিক। উল্লেখ্য, জনসনের গত কিছু দিন থেকেই অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে এ-ধরণের মন্তব্য করে
যাচ্ছেন যা তার দল কনসার্ভেটিভ পার্টির অবস্থানের বিপরীত। উল্লেখ্য, গত বছর কেন
লিভিংস্টৌনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হবার আগে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের মন্তব্যের জন্য
একজন কড়া বর্ণবাদী হিসাবে বিভিন্ন মহলের কাছে সমালোচিত হতেন জনসন।
এদিকে
জনসনের যুক্তির বিপক্ষে কড়া যুক্তি এসেছে তার নিজ দলের শীর্ষ-মহল থেকে। কনসার্ভেটিভ
পার্টির শ্যাডৌ ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ড্যামিয়েন গ্রীনের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের
এমনেস্টি প্রদানের ব্যাপারটি আখেরে ব্রিটেইনের জন্য ক্ষতিকর হবে। তার মতে, এ-ধরণের
উদ্যোগের মাধ্যমে বস্তুতঃ অবৈধ অভিবাসনকেই উৎসাহিত করা হবে।
জনসনের
প্রস্তাবের বিরোধিতা এসেছে মাইগ্রেশন ওয়াচ নামের সংস্থার পক্ষ থেকেও। সংস্থার
চেয়ারম্যান স্যার এন্ড্রু গ্রীন মনে করেন, বর্তমানে ব্রিটেইনে স্মরণ-কালের ভয়াবহ
মন্দা পরিস্থিতি চলেছে। এ-অবস্থায় অবৈধ অভিবাসীদেরকে কাজ-কর্মের সুযোগ দেয়াটা
সমীচিন হবে না বলে জানান গ্রীন। তবে তার বক্তব্যের বিরোধিতা করা বক্তব্যও দেয়া
হয়েছে বিভিন্ন মহ্ল থেকে। স্ট্রেইঞ্জার্স ইনটু সিটিজেন্স নামক সংগঠনের মুখপাত্র
অস্টিন আইভারিফের মতে অবৈধ অভিবাসীরা ব্রিটেইনকেই শেষ-স্থল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
তারা শিকড় ছেড়ে ব্রিটেইনে এসেছেন। তাদের সন্তানেরা ব্রিটেইনের স্কুলগুলোতেই যাচ্ছে।
ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ফিল উল্যাসও অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদানের ধারণার
বিরোধিতা করেছেন।
লন্ডনঃ ৯
মার্চ ২০০৯ |