|
ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে
যাচ্ছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট
ধর্ষণের
দায়ে অভিযুক্ত হতে চলেছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশে কাটসাভ। ১৯৯০ এর দশকে
পর্যটন মন্ত্রী থাকা অবস্থাতে একজন স্টাফকে ধর্ষণের দায়ে অভিযোগ উত্থাপিত হতে চলেছে
কাটসাভের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি ধর্ষণের অভিযোগ আছে। উল্লেখ্য,
আলোচ্য অভিযোগগুলো মাথায় নিয়েই বছর দুয়েক আগে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।
সোমবার
ইসরায়েলের বিচার-মন্ত্রী ড্যানিয়েল ফ্রীডম্যান জানান, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপরোক্ত
স্টাফ ছাড়া আরও দুজন নারীর পক্ষ থেকে কাটসাভের বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগগুলো
আদালতে তোলা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কাটসাভের বিরুদ্ধে আরও ছয়জন নারীর পক্ষ থেকে
আনা অভিযোগও বিচারকরা শুনবেন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সাত বছরের মেয়াদ-পূর্তির
দু-সপ্তাহ আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন কাটসাভ। সে-সময় বলা হয়েছিলো, কাটসাভ যদি যৌন
হয়রানীর কিছু অভিযোগ স্বীকার করে নেন, তাহলে তাকে কারাগারে যেতে হবে না। গত বছর
এপ্রিল মাসে তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে এ-বিষয়ক বুঝাপড়া থেকে সরে আসেন। কাটসাভের দাবী,
তার বিরুদ্ধে যে-সব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো তাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ঠ
নয়। রোববার কাটসাভের আইনজীবী জিয়ন আমির এক টিভি-সাক্ষাৎকারে জানান, কাটসাভকে দোষী
করার মতো প্রমাণাদি প্রসিকিউরেটরদের হাতে নেই। তিনি আরও জানান, সাবেক প্রেসিডেন্টের
বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। আমিরের দাবী, কাটসাভ শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে নিদোর্ষ
প্রমাণিত হবেন।
ইসরায়েলের এটর্নী জেনারেল মেন্যাহেম মাজুজ জানিয়েছেন, কাটসাভের বিরুদ্ধে কখন
আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ-পত্র উত্থাপিত হবে, তা এখন পর্যন্ত স্থির করা হয়নি। ইসরায়েলী
আইনানুসারে ধর্ষণের সাজা সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাবাস। স্মরণ করা যেতে পারে,
প্রেসিডেন্ট থাকার শেষ দিনগুলোতে কাটসাভ বলেছিলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধ-স্পৃহার
শিকার। এছাড়াও তিনি জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলী মিডিয়াগুলো তার বিরুদ্ধে বিষাক্ত, ভয়ানক
মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কাটসাভের দাবী, তিনি বর্ণবাদের শিকারে পরিণত
হয়েছেন। উল্লেখ্য, কাটসাভ হচ্ছেন ইরানী বংশোদ্ভূত একজন ইসরায়েলী।
২০০৬ সালে কাটসাভের
পক্ষ থেকে এটর্নী জনারেলের বরাবরে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই তার
বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো একের পর এক সামনে আসতে থাকে। অভিযোগে কাটসাভ জানান, তিনি একজন
নারীর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার এবং এ-নারীটিই পরে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
কিন্তু তদন্ত শুরু হবার পরে পুরো ঘটনা কাটসাভের বিরুদ্ধে যেতে শুরু করে।
বিচার-মন্ত্রী জানান, এটর্নী জেনারেল এবং স্টেইট প্রসিকিউরেটররা এ-মর্মে একমত
হয়েছেন যে, কাটসাভের বিরুদ্ধে যে-সব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা যথেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য।
এছাড়াও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপনের ব্যাপারে যথেষ্ঠ প্রমাণ সরকারের হাতে আছে বলে
জানিয়েছেন।
লন্ডনঃ ৯ মার্চ ২০০৯
|