|
সেনা-প্রধানের মৃত্যুর জের ধরে
প্রেসিডেন্টকে হত্যা
গিনি-বিসাউয়ে
বোমা
বিস্ফোরণে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউর সেনাপ্রধানের মৃত্যুর জের ধরে
সেনাসদস্যরা দেশটির প্রেসিডেন্ট জোবাও বারনার্ডো ভীয়িরাকে হত্যা করেছে। সেনাবাহিনীর
মুখপাত্র জামোরা ইন্ডুটা সংবাদ-মাধ্যমকে জানান, নিহত সেনাপ্রধান তাগমে ন্যা ওয়াইয়ির
ঘনিষ্ঠ সৈনিকেরা প্রেসিডেন্টের বাসভবন আক্রমণ করলে সেখান থেকে পালিয়ে যাবার সময়
দেশটির প্রেসিডেন্ট নিহত হন। সামরিক মুখপাত্রটির মতে প্রেসিডেন্ট ভীয়িরা ছিলেন
‘তাগমে
ন্যা ওয়ায়ির হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অন্যতম।‘
খবরে প্রকাশ, সেনাপ্রধান জেনারেল ন্যা ওয়ায়ি রোববার রাতে রাজধানী বিসাউয়ে রকেট
বিস্ফোরণ ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সমৃদ্ধ এক সশস্ত্র আক্রণে নিহত হন। দেশটির
প্রধানমন্ত্রী কার্লৌস গৌমেসের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা লুইস সাঙ্কা প্রেসিডেন্টের
মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছন, কিন্তু তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গত বছর
অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টারী নির্বাচনের প্রেসিডেন্টের দলের ঘোষিত বিজয় নিয়ে সংঘাতের
সূত্র ধরে গেলো নভেম্বর বিদ্রোহী সেনারা রাজধানীতে প্রেসিডেন্ট ভীয়িরার বাসভবনে গুলি
চালালে প্রেসিডেন্টে দেহরক্ষী দলের এক সদস্য নিহত হন।
এদিকে, আফ্রিকান ইউনিয়নে
চেয়ারম্যান জ্যাঁ পিং সোমবার প্রেসিডেন্ট ভীয়িরা হত্যার ঘটনাটিকে একটি
‘অপরাধ
কর্ম’
হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জ্ঞাপন করেন। প্রেসিডেন্ট ভীয়িরার ডাক-নাম উল্লেখ করে
আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন,
‘আজ
সকালে গিনি-বিসাউ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নিনো ভীয়িরার হত্যার খবর শুনে আমি গভীর
আঘাত পেয়েছি।‘
তিনি বলেন,
‘আফ্রিকান
ইউনিয়ন ও আমি নিজে এ-অপরাধ কর্মের কঠোর নিন্দা করছি।
পিংয়ের মতে, নভেম্বরের
নির্বাচনে পর যখন শান্তি প্রচেষ্টা চলছিলো, ঠিক সে-সময় এ-হত্যাকাণ্ড একটি সাংঘাতিক
ঘটনা।
এদিকে ব্রিটেইন ও
নেদারল্যান্ডসের অনারারী কনস্যুলার জ্যাঁ ভান ম্যানীন জানান,
‘বিসাউ
সম্পূর্ণ শান্ত। এখানে কোনো লড়াই কিংবা গুলাগুলি নেই।‘
গিনি-বিসাউর সংবিধানের উল্লেখ করে তিনি জানান,
‘সংবিধান
মোতাবেক প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট দেশের নেতা হিসেবে
তিন মাসের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং এ-মেয়াদ-কালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হবে।‘
‘কিন্তু
বিষয় হলো, নভেম্বরে আমাদের নির্বাচন হয়েছে এবং পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট খুবই নবীন
এবং তার অভিজ্ঞতাও অল্প। আমরা নিশ্চিত নই, তিনি সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে পারবেন
কি-না।‘
তবে সেনা-বাহিনীর ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন,
‘শত্রু
তার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, হয়তোবা এটি [হত্যাকাণ্ড] নতুন সমাধানের শুরু।‘
এদিকে গিনি-বিসাউর
সেনাবাহিনী এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, তারা দেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা
দেখাবে এবং তা মান্য করে চলবে। তারা জনগণকে শান্ত থাকার আহবান জানায়।
লন্ডন অফিসঃ ২ মার্চ ২০০৯ |