|
বাংলাদেশের বিদ্রোহীদের
অস্ত্র সমর্পণ শেষঃ নিহত প্রায় অর্ধ-শতাধিক
বাংলাদেশে
বিডিআর সদরদপ্তর
পিলখানার
দায়িত্ব পুলিস নিয়েছে
বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন।
পুলিস বৃহস্পতিবার
রাতে
সদরদপ্তরের প্রধান গেইট দিয়ে
সদরদপ্তরের
ভিতরে
প্রবেশ করেছে।
উল্লেখ্য
বিদ্রোহী জওয়ানরা বলেছিলেন যে,
শুধুমাত্র পুলিসের কাছেই তারা অস্ত্র সমর্পণ করবেন।
বৃহস্পতিবার পিলখানা থেকে বেরিয়ে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন,
''অস্ত্র সমপর্ণ
করে বিডিআর সদস্যরা ব্যারাকে ফিরে গেছেন।
তারা তাদের অস্ত্র জমা
দিয়ে দু'টি
অস্ত্রাগারের চাবি আমার কাছে হস্তান্তর করেছে।’
তিনি আরো বলেন,
আর কোথাও কিছু রাখা আছে
কি না,
পুলিস তা তল্লাশি করে দেখছে।
পরিস্থিতি শান্ত ও
পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে
প্রধানমন্ত্রীর উপ-তথ্য সচিব
নকিব উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,
‘আর্মড পুলিস ব্যাটালিয়ন
বিডিআর সদরদপ্তরের অস্ত্রাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’
নকিব উদ্দিন আহমেদ জানান,
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল
আবদুল মুহিত,
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন,
স্থানীয় সরকার
প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক,
জাতীয় সংসদের হুইপ
মির্জা আজম ও সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলি,
সাংসদ মেহের আফরোজ চুমকি,
ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল
এবং মাহাবুব আরা গিনি পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে রেডক্রিসেন্টের এ্যাম্বুলেন্সে অবরুদ্ধ
ও আহতদের উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি
আরো জানিয়েছিলেন,
ঢাকার বাইরে বিডিআরের অসন্তোষ
নিরসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা
নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য,
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি ও
উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণের অভিযোগে বুধবার জওয়ানরা বিডিআর সদরদপ্তরে
এ বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটায়। প্রথম দিনের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আরো
বেশ কিছু স্থানের বিডিআর বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিলো।
পিলখানার সদরদপ্তর থেকে
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় আটকে পড়া দেড় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের
মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন নারী ও শিশু।
পরে মুক্তি পাওয়া সামরিক
কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের র্যাবের গাড়িতে করে মিরপুর স্টাফ কোয়ার্টারে
পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সদরদপ্তর থেকে তিন
জন বিদেশী নাগরিকের বেরিয়ে আসার
খবর পাওয়া গেছে।
সীমান্ত রক্ষী
বাহিনীর জোয়ানদের
বিদ্রোহের ঘটনায় দুই দিনে অন্তত অর্ধ শতাধিক সামরিক,
আধা সামরিক ও বেসামরিক
লোক নিহত হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে
প্রকাশ পেয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া
পর্যন্ত বিডিআরের মহা-পরিচালক
মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ সহ তার পরিবারেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ-ব্যাপারে সরকারের তরফ
থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে
বৃহস্পতিবার সকালে কামরাঙ্গীরচর
এলাকার স্লুইস গেইটের ড্রেন থেকে ৬ সেনা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ময়না তদন্তের
পর মৃত দেহগুলো সেনা
কর্মকর্তাদের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এরা হলেন কর্ণেল
আনিসুজ্জামান,
কর্নেল তৌহিদ আকবর,
কর্নেল জাহিদ,
লেঃ কর্নেল সৈয়দ
কামরুজ্জামান,
মেজর মাহবুব ও ক্যাপটেন
মাজহারুল হায়দার।
এদের মধ্যে
ক্যাপটেন মাজহারুল হায়দার
ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান আইজিপির জামাতা।
বিদ্রোহের পর
বৃহস্পতিবার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে
বলেন,
‘এমন কিছু করবেন না যাতে
ধৈর্য্যরে বাধ ভেঙ্গে যায়।
তাহলে দেশবাসীর স্বার্থে
যে কোনো পদক্ষেপ
নিতে আমি বাধ্য হবো।’
তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে
বলেন, ‘আমাকে
বাধ্য করবেন না।‘
তিনি এ-ঘটনাকে
অনাকাঙ্খিত আখ্যা দিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো
মহলের উস্কানিমূলক প্ররোচনা থেকে বিরত থাকার জন্য বিদ্রোহী
জওয়ানদের
আহবান জানান।
এদিকে
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় কোনো
গভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন
খালেদা জিয়া।
পাশাপাশি এ ঘটনায় সরকারকে
সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা।
বৃহস্পতিবার গুলশানে
দলের কার্যালয়ে দেয়া এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে খালেদা জিয়া
বলেন, ‘এ
ঘটনায় আমাদের দেশ,
জাতি এবং প্রতিরক্ষা ও
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার
পিছনে বাংলাদেশকে দুর্বল এবং আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো
সুগভীর চক্রান্ত রয়েছে কি না তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
বিরোধী দলীয় নেতা
সরকারকে সহযোগিতা দিতে নিজের দলের আগ্রহের কথা তুলে ধরে বলেন,
‘সরকারের প্রতি আমার
আহ্বান,
সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে
উঠে জাতীয় স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আমরা দেশের স্বার্থে সব
রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।’
পিলখানা
থেকে পালিয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিডিআর সদস্য ধরা পড়েছে
বলে জানা গেছে।
বিশেষ
বাহিনী
র্যাবের মহাপরিচালক
হাসান মাহমুদ খন্দকার জানিয়েছেন
আটককৃতদের নিরাপদ আশ্রয়ে
রাখার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বিডিআর
সদরদপ্তরের এক নম্বর ফটকের কাছে মোট ১৬ জওয়ানকে আটক করেছে র্যাব।
প্রাচীর টপকে পালিয়ে
যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা
জানান,
আটকের সময় বিডিআর সদস্যরা
সাদা পোশাকে ছিলেন।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার
সিএনএন-আইবিএন টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে জওয়ানদের বিদ্রোহে জামায়াতে ইসলামী জড়িত
রয়েছে বলে উল্লেখ করা
হয়েছে।
নাম উল্লেখ না করে কয়েকটি
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে টিভি প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে,
জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী এই
বিডিআর বিদ্রোহীদের প্ররোচনা দিচ্ছে ও অর্থায়ন করছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা
হয়েছে,
বিদ্রোহীদের অর্থায়নের পিছনের
'মূল
নায়ক'
বিএনপি নেতা সাংসদ সালাউদ্দিন
কাদের চৌধুরী।
কল্যাণ
সরকার
আপলৌডঃ ২৬
ফেব্রুয়ারী, ২০০৯ |