London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুর দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

ি গুয়াতানামো বে বন্দী বিনিয়াম মোহাম্মদ

সোমবার দীর্ঘ সাত বছর পর গুয়াতানামো কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ব্রিটেইনে ফিরলেন বিনিয়াম মোহাম্মদ। লন্ডনে পৌঁছানোর পরেই তাকে পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। প্রায় পাঁচ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার বিকালেই বিনিয়াম অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে চলে যান।

মুক্তি লাভের পর মোহাম্মদ জানান যে, কারাগারে বন্দী অবস্থায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছিলো। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগ তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে মার্কিনীদের সহায়তা করেছে। কর্নেল ইভন ব্র্যাডলী আইনজীবী হিসেবে মোহাম্মদের পক্ষে কথা বলেন ও তার মুক্তির জন্য চেষ্টা করেন। মুক্তির পরে দেয়া এক বিবৃতিতে বিনিয়াম মোহাম্মদ বলেন, এ-ঘটনার আগে নির্যাতন শব্দটি আমার কাছে একটি অদেখা বস্তু ছিলো। কখনও কল্পনা করতে পারিনি যে, আমি এর শিকার হবো।

ইথিওপিয়ায় জন্ম গ্রহণ করা ব্রিটেইন নিবাসী বিনিয়াম মোহাম্মদ ২০০২ সালে পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে ইথিওপিয়া কিশোর বিনিয়াম মোহাম্মদ আশ্রয় প্রার্থী হিসেবে ব্রিটেইনে আসেন। তিনি এদেশে বসবাসের অনুমতি লাভ করলেও নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন নি। ব্রিটেইনে থাকা-কালীন সময়ে তিনি কেন্সিংটনে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। বিনিয়াম ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন। ব্রিটেইনে থাকা অবস্থায় তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ২০০১ সালে যখন তিনি পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তান যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখনই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। মোহাম্মদ জানান যে লন্ডনের খারাপ সঙ্গ ত্যাগ ও তালেবানদের কঠোর জীবন-যাপন পদ্ধতি কাছ থেকে দেখার জন্য তিনি আফগানিস্তান যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, বিনিয়াম মোহাম্মদকে ১০ এপ্রিল ২০০২ সালে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ ভুয়া পাসপৌর্ট ব্যবহার করে ব্রিটেইনে ফিরে আসার অভিযোগে গ্রেফতার করেছিলো। জুলাই ২০০২ সালে তাকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সালে মোহাম্মদকে ডার্টী বোমা বিষ্ফোরণের পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিহিত করে ধর্মান্তরিত হওয়া আমেরিকান মুসলিম জোস প্যাডিলার সহযোগী হিসেবে আখ্যা দেয়। ২০০২ সালে মার্কিনীরা প্রথমে তাকে মরক্কোতে নিয়ে যায় ও সেখানে ১৮ মাস আটকে রাখে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে মুক্তি লাভের আগ পর্যন্ত কুখ্যাত গুয়াতানামো বে কারাগারে বন্দী ছিলেন। বন্দী অবস্থায় এ-বছরের প্রথম দিকে তিনি মাস-ব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন।

বিনিয়াম মোহাম্মদের মুক্তির পর কর্ণেল ব্র্যাডলী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, তিনি [মোহাম্মদ] কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজন হারিয়েছেন। তিনি বলেন যে, কারগারের ধকল কাটিয়ে উঠার জন্য মোহাম্মদেরর সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। ব্র্যাডলী আরও জানিয়েছেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় বিনিয়াম মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় ছিলেন না। এদিকে মোহামেদের মুখপাত্র হিসেবে ক্লিভ স্ট্যাফৌর্ড স্মিথ জানিয়েছেন, তার মক্কেল দীর্ঘ সাত বছর দেখতে না পারা বোনের কাছে থাকতে চান। উল্লেখ্য, ক্লিভ স্ট্যাফৌর্ড স্মিথ লিগ্যাল চ্যারিটী রিপ্রাইভ-এর ডাইরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।

পররাষ্ট্র সেক্রেট্যারী ডেইভিড মিলিব্যান্ড বলেছেন যে, মোহাম্মদ ব্রিটেইনে ফিরে আসায় তিনি আনন্দিত। মিলিব্যান্ড বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ওবামার গুয়াতানামো বে বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম এবং আজ বিনিয়াম মোহামেদের ফিরে আসাটাকে আমি সে-লক্ষ্যের প্রথম পদক্ষেপ রূপে দেখতে পাচ্ছি। এদিকে পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র জানান যে, এ্যাটর্নী জেনারেল মোহামেদের নির্যাতনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের যোগসূত্র থাকা সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। মোহামেদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন এ্যাটর্নী জেনারেল লর্ড গৌল্ড স্মিথ বলেন যে, সরকারের স্বচ্ছ-সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আনীত অভিযোগ সমূহকে মারাত্মক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যদি আনীত অভিযোগুলো সত্য হয়, তাহলে উচিত অভিযোগ সুরাহা করা; আর যদি এগুলো অসত্য কিংবা ভুল বোঝা-বুঝি বা অতিরঞ্জন হয়, সে-ক্ষত্রে সত্যটা কী তা জনগণকে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে জানানো শ্রেয়।

লন্ডনঃ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.