|
তালেবানের সাথে অস্ত্র-বিরতিতে পাকিস্তান
সরকারঃ উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র
সমস্যা-সঙ্কুল
উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের সৌয়াত উপত্যকার তালেবানের সাথে নতুন রফা হয়েছে
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের। শনিবার ইসলামাবাদ জানিয়েছে তালেবানের সাথে সর্বশেষ বুঝাপড়ার
মধ্য দিয়ে স্থায়ী একটি অস্ত্র-বিরতিতে পৌঁছাবার বাস্তবতা তৈরী হয়েছে। তবে সোয়াতের
তালেবানদের সাথে গত কয়েকদিন ধরে পাক-কর্তৃপক্ষের যে-ধরণের বুঝাপড়া চলছে, তাতে
দেশটির প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র অস্বস্তির মধ্যে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাটিতে মার্কিনীরা অনেক দিন থেকেই কড়া সামরিক হামলা
চালু রেখেছে।
তালেবানের সাথে
সমঝোতা প্রসঙ্গে সোয়াতের মালাকান্দের কমিশনার ও সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি সৈয়দ
মোহাম্মদ জাভেদ সংবাদ-মাধ্যমের সামনে বলেন, 'একটি স্থায়ী অস্ত্র-বিরতির ব্যাপারে
তারা [তালেবান] অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন এবং আমাদের পক্ষ থেকেও আমরা একই রকম করবো।'
শনিবার তালেবান কমান্ডার মওলানা ফাজলুল্লা ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতাটি
সাধিত হয়েছে। ধর্মবাদীদের সাথে পাক-মার্কিন বাহিনীর সংঘাতে গত ১৮ মাসের সংঘাতে
সোয়াতে কমপক্ষে ১ হাজার দুশো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও প্রাণের ভয়ে ঘরবাড়ী
ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন লাখ পাঁচেক মানুষ। উল্লেখ্য, সংঘাত নিরসনের চেষ্টাতে মরীয়া
পাক-কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে সোয়াতে শারিয়া আইন চালু করার ব্যাপারে তালেবানদের সাথে
ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ইসলামাবাদ থেকে ১শো মাইল দূরের সোয়াত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য
পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি স্থান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
হিংসা-হানাহানির কারণে এলাকাটি এড়িয়ে চলছেন পর্যটকরা। বর্তমানে সোয়াতে আনুমানিক ৩
হাজার জঙ্গীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে ১২ হাজার সেনা।
এদিকে,
তালেবানদের সাথে পাক কর্তৃপক্ষের সমঝোতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনে অস্বস্তি
বিরাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সোয়াতে শরীয়ার ব্যাপারে শুরু থেকেই আপত্তি
জানিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এ-ধরণের উদ্যোগের ফলে আখেরে তালেবান ও আল
কায়দাই লাভবান হবে। গত সপ্তাহে বারাক ওবামার বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্রুক ইসলামাবাদে
পাক-প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সাথে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ-ব্যাপারে
মার্কিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সোয়াতে শরীয়ার ব্যাপারে তালেবানদের সাথে রফা হয়ে গেলেও
জারদারি এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কাগজে স্বাক্ষর করেননি। আফগানিস্তানে সামরিক
অভিযান পরিচালনাকারী অপর বড়ো দেশ ব্রিটেইনের পক্ষ থেকেও সোয়াতের তালেবানদের সাথে
শারিয়া বিষয়ক সমঝোতার ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রিটেইন দীর্ঘদিন
থেকেই ইরাকের পরিবর্তে আফগানিস্তানে যুদ্ধ-জয়ের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বারাক
ওবামাও নির্বাচনের আগে আফগানিস্তানের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন।
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ-ব্যাপারটিকে আরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
আফগানিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন কমান্ডারদের পক্ষ থেকেও সামরিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তালেবান ও আল কায়দাকে পরাস্ত করার পক্ষে
কথা-বার্তা বলা হচ্ছে।
এমতাবস্থায়
ইসলামাবাদের সাথে তালেবানের শারিয়া বিষয়ক চুক্তি বা স্থায়ী অস্ত্র-বিরতি বিষয়ক
বুঝাপড়াকে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা বিশ্ব কীভাবে নেয়, সেদিকে নজর রাখতে শুরু করেছেন
পর্যবেক্ষরা। উল্লেখ্য, আফগান-সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে মার্কিন
হামলায় বেসামরিক প্রাণাহানির সংখ্যা বাড়তে থাকার পরিণতিতে পাকিস্তানের জনগণ দিনকে
দিন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। অনেকের ধারণা, জনমত সামাল দেয়ার চেষ্টা থেকেই
জারদারি সরকার তালেবানীদের সাথে বুঝা-পড়ার মাধ্যমে সোয়াতে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা
শুরু করেছে।
লন্ডনঃ ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|