|
বিশ্ব-সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সহযোগিতা জরুরীঃ ক্লিন্টন
অর্থনৈতিক
দুর্গতি আর জলবায়ু পরিবর্তনের মত বৈশ্বিক সঙ্কটগুলো মোকাবেলার ক্ষেত্রে
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহবান জানিয়েছেন হিলারী ক্লিন্টন।
শনিবার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র-মন্ত্রী
ইয়াং জিয়িচির
সাথে বৈঠককালে এ-আহবান জানিয়েছেন মার্কিন সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট ক্লিন্টন। চীনের
সাথে আলাপ-আলোচনার সময় মার্কিনীরা সাধারণতঃ
‘মানবাধিকার
লঙ্ঘনের’
ব্যাপারটিকে বড়ো করে সামনে নিয়ে আসলেও, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন হিলারী।
বৈঠকে বসে
চীন-মার্কিন যৌথ কার্যক্রমের গুরুত্ব উল্লেখ করে ক্লিন্টন জানান বিশ্ব-অর্থনীতি,
জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে অনেকগুলো বিষয়েই চীনের সাথে এক সাথে কাজ করার
ব্যাপারটিকে অপরিহার্য মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের মানবাধিকার রেকর্ড প্রসঙ্গে
তিনি জানান এ-বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ অব্যাহত থাকলেও, এ-কারণে দু-দেশের
একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরী হবার কারণ নেই।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর চীনে মানবাধিকারের লঙ্ঘন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
চীনের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
উত্তর কৌরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত করানোর ব্যাপারেও চীনের অধিক যুক্ততার
উপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন ক্লিন্টন। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকেও
চীন-মার্কিন সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপারে জোর দেন হিলারী।
হিলারী
ক্লিন্টনের কাছ থেকে আসা যৌথ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
দেখানো হয়েছে চীনের তরফ থেকেও। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়িচি হিলারীর সাথে
আলাপ-কালে জানান, বিশ্ব বর্তমানে অতি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেইঞ্জের মুখোমুখি। আর
এ-পরিস্থিতিতে দু-দেশের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা ও এক সাথে কাজ করার উপরে গুরুত্ব
দেন তিনি। তিনি আরো মনে করেন বিদ্যমান বাস্তবতার কারনেই চীন-মার্কিন সম্পর্ক
‘নতুন
এক মাত্রায়’
নিয়ে যাবার জন্য এ-ধরনের যৌথ উদ্যোগ নেয়া আবশ্যক।
বিশ্লেষকদের
ধারণা সেক্রেটারী অফ স্টেইট হিসাবে প্রথমবারের মত চীন সফরকালে হিলারী ক্লিন্টন
যে-সব কথা-বার্তা বলেছেন, তা মূলতঃ সামনের দিনগুলোতে ওবামা-প্রশাসনের
পররাষ্ট্র-নীতি কেমন হতে যাচ্ছে, তার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
লন্ডনঃ ২১
ফেব্রুয়ারী ২০০৯ |