|
একুশের
প্রথম প্রহরে
লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে
মুখে অমর গান, হাতে পুষ্প-স্তবক
আর নানা বর্ণের ব্যানারে শোভিত হয়ে
লন্ডনের ওয়াইটচ্যাপেলের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারে
দাঁড়িয়ে শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে গভীর শ্রদ্ধার সাথে বায়ান্নের ভাষা শহীদদের
স্মরণ
করেছে ব্রিটেইনের
বাঙালী।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে
এবার রাত দশটা সাড়ে দশটার দিক থেকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জড়ো হতে
শুরু করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে। এছাড়া আসতে শুরু করেন সকল বয়েসের নারী-পুরুষ।
মা-বাবাদের সাথে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক শিশুকেও দেখা যায় শহীদ মিনারে।
বাঙালীরা ছাড়াও এবার
লন্ডনের একুশে উদযাপনের ক্ষণটিতে সমবেত হয়েছিলেন ভিন্ন বর্ণ ও ভিন্ন ভাষা-ভাষী বেশ
কিছু মানুষ। এদের অনেক এসেছিলেন
বাঙালী বন্ধুদের সাথে। আবার অনেক এসেছিলেন
মধ্য-রাতে আলতাব আলী পার্কে শতো-শতো মানুষের সমাবেশ দেখে।
শহীদ মিনার বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য
অর্পণের
লক্ষ্যে সমবেত সংগঠনগুলো
সুশৃঙ্খলভাবে
সারিবদ্ধ হয়ে
লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে একুশের প্রথম প্রহরটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ-সময় একুশের
গানে আর নানান
স্নৌগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আলতাব আলী পার্ক। বিভিন্ন
সাংস্কৃতিক সংগঠনের
কর্মীরা একুশের গান, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে সমবেত জনতার মনোযোগ কেড়ে নেন। রাত বারোটা
এক মিনিটে নিরাপত্তা রক্ষীরা পথ ছেড়ে দিলে সংগঠনগুলো ফুলের গুচ্ছ আর ব্যানার নিয়ে
শহীদ বেদীর দিকে এগিয়ে যেয়ে বায়ান্নর ভাষা শহীদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু
করেন। আর সমবেত জনতা নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে
বাঙালী জাতির জীবনের মহত্তর অর্জনের
লড়াইয়ে প্রাণ বিসর্জন দেয়া ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। এ-সময় অনেককেই মৃদু কন্ঠে
গাইতে শুনা যায়ঃ
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী'
ও 'সালাম
সালাম হাজার সালাম'-এর
মতো
গানগুলো।
এবার লন্ডনের একুশের প্রথম প্রহর
উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতাটি ছিলো
বিগত বছরগুলোর তুলনায়
অনেক সুশৃঙ্খল।
তবে বাংলাদেশীয়
একটি
রাজনৈতিক দলের
যুক্তরাজ্য শাখার লোকজন
তাদের জীবিত ও মৃত নেতার নামে ধ্বনি তুলে একুশ উদযাপনে সমবেত মানুষ-জনের বিরক্তির
উদ্রেক করেন। এদের
স্লৌগানের
আগে-পরে বিভিন্ন সংগঠন-সহ
সাধারণ মানুষ-জনের অনেককে একাত্তরের রাজাকার-আলবদর-সহ
যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে
স্লৌগান
দিতে
দেখা
যায়।
লন্ডনঃ
২১
ফেব্রুয়ারী ২০০৯ |