|
ব্রিটেইনে বহু-বিবাহ সমস্যা মোকাবেলার আহ্বান লর্ড-সভার সদস্যের
ব্রিটেইনে বহু-বিবাহের সমস্যা
মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন লর্ড-সভার সদস্য ব্যারৌনেস সাঈদা ওয়ারেসী। তার মতে,
‘সাংস্কৃতিক
সংবেদনশীলতায়’
আঘাত দিয়ে ফেলার শঙ্কা থেকেই রাজনীতিকরা গুরুতর এ-সমস্যাটির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে
রাখছেন। শুক্রবার এ-অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধান বিরোধী দল কনসারভের্টিভ পার্টির হয়ে
শ্যাডৌ মিনিস্টার ফর কমিউনিটি কৌহেশনের দায়িত্ব পালনকারী রাজনীতিক ব্যারৌনেস
ওয়ারেসী। সরকার-পক্ষ অবশ্য ব্যারৌনেসের আনীত অভিযোগটি অস্বীকার করেছে।
বিবিসি রেডিও ফৌরের সাথে আলাপে
সাঈদা ওয়ারেসী জানান, বহু-বিবাহের সমস্যাটিকে গুরুত্বের সাথে দেখার ব্যাপারে একটি
ব্যর্থতা তৈরী হয়েছে ব্রিটেইনে। তার মতে,
ব্রিটেইনের পুরুষরা যাতে একের
বেশি
নারী বিয়ে করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ধর্মীয় পদ্ধতির
সকল বিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে
নথি-ভূক্ত করার ব্যাপারটি ভাবা উচিৎ সরকারের। এ-প্রসঙ্গে ওয়ারেসী জানান, একজন ইমাম ও জনা-কয়েক ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে ঘরের
ভিতরে ধর্মীয় পদ্ধতিতে যে-বিয়েগুলো সংঘটিত হয়, সে-বিয়েগুলোকে চার সপ্তার মধ্যে সরকারী নথি-ভূক্ত করার
ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেয়া উচিত। ওয়ারেসীর মতে, এ-ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের
মধ্য দিয়ে কোনো
ব্যক্তি প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায়
দ্বিতীয় বিয়ে করলে তাকে দুই-বিয়ের দায়ে দোষী সাব্যস্ত
করার সুযোগ থাকবে।
বহু-বিবাহের
বিষয়টি
রাজনীতিকরা সচেতনভাবে এড়িয়ে
যাচ্ছেন বলে
ব্যারৌনেস ওয়ারেসী
তাদের সমালোচনা করেন।ওয়ারেসী মনে
করেন,
বহু-বিবাহ রোধের লক্ষ্যে একটি
সাংস্কৃতিক
পরিবর্তন আবশ্যক। এ-প্রসঙ্গে
তিনি মনে করেন,
নীতি-প্রণেতাদের
পক্ষ থেকে এ-মর্মে
স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করতে হবে যে, ব্রিটেইনে একজন পুরুষ
কেবল মাত্র একজন নারীকেই
বিয়ে করতে
পারবে-কোনোক্রমেই একই সাথে একের অধিক নয়।
ওয়ারেসী বলেন,
'যারা এদেশে বাস করেন,
তাদের প্রত্যেকের জন্যই এ-নীতিটি
প্রযোজ্য হতে হবে।'
এদিকে ব্যারৌনেস ওয়ারেসীর
কাছ
থেকে আসা কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতার
অভিযোগটি দ্রুতই নাকচ করে দিয়েছে সরকার। মিনিস্ট্রী
অফ জাস্টিসের একজন মুখপাত্র সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
'ব্রিটেইনে বহু-বিবাহ নিষিদ্ধ;
ব্রিটেইনের
ভিতরে
বহু-বিবাহ ভিত্তিক পরিবার গড়ে তোলার ব্যাপারটি প্রতিরোধ করাটা
সরকারের নীতি।' উল্লেখ্য, বহু-বিবাহের ব্যাপারটি ব্রিটেইনে নিষিদ্ধ হলেও
অন্যদেশ
থেকে বিয়ে করে নিয়ে আসা দ্বিতীয় বা ততোধিক স্ত্রীর জন্য বেনিফিট গ্রহণের সুযোগ
আছে ব্রিটেইনে।
লন্ডনঃ
২১
ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|