|
হলৌকাস্ট
নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্রিটিশ ধর্মগুরুকে বহিষ্কার আর্জেন্টিনার
দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ-কালে নাজিদের হাতে
প্রাণ হারানো ইহুদী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সংখ্যা নিয়ে
প্রশ্ন তোলার দায়ে গত কিছু দিন ধরে তুমুল সমালোচনার মধ্য থাকা ব্রিটিশ ধর্মগুরু
রিচার্ড উইলিয়ামসনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। বৃহস্পতিবার
রাতে এ-ঘোষণাটি দেয়া হয়েছে। খবরে প্রকাশ, উইলিয়ামসনকে দশ দিনের মধ্যে আর্জেন্টিনা
ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা
হয়,
ধর্মগুরু উইলিয়ামসন
যে-ধরণের কথাবার্তা বলেছেন,
তা আর্জেন্টিনার সমাজকে গভীরভাবে
আহত করেছে। রৌমান ক্যাথলিক এ-ধর্মগুরুর বক্তব্যকে
‘এ্যান্টি-সেমেটিক’
বা ইহুদী-বিদ্বেষী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
আর্জেন্টিনাতে থাকা অবস্থাতে নিজের ‘সত্যিকারের
দায়িত্ব’
পালনেও ব্যর্থ হয়েছেন উইলিয়ামসন। আর্জেন্টিনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে,
ধর্মগুরুর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যকার সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক
ও সামাজিক শান্তি
ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের
বাইরে লা রেসা
নামের একটি টাউনে একটি ক্যাথলিক সেমিনারী পরিচালনা করতেন উইলিয়ামসন। হলৌকাস্ট
বিরোধী বক্তব্যের দায়ে গত সপ্তাহের শুরুতে লাতিন আমেরিকার ক্যাথলিক সৌসাইটী
অফ সেইন্ট
টেন্থ
পিউস লা রেসা
সেমিনারী থেকে উইলিয়ামসনকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ,
বহিষ্কারের আদেশ ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যেই সেমিনার ত্যাগ করেছেন বিতর্কিত এ-ধর্মগুরু।
স্মরণ
করা যেতে
পারে, জানুয়ারী মাসের শেষ দিকে সুইডেনের একটি টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধে ইহুদীদের
প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত উক্তি করেন উইলিয়ামসন। তার
দাবী-মতে,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
৬০ লাখ
নয় বরং লাখ তিনেক ইহুদী প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়াও ইহুদীদের পুড়িয়ে মারার জন্য নাজিদের
উদ্ভাবিত গ্যাস চেম্বারের অস্তিত্বের
কথা অস্বীকার করেছেন
ক্যাথলিক এ-ধর্মগুরু।
বক্তব্য
প্রকাশিত হওয়ার
পর থেকেই বিভিন্ন মহল
থেকে কড়া সমালোচনার মধ্য পড়েন উইলিয়ামসন। এর মধ্যে আবার ক্যাথলিকদের শীর্ষ
ধর্মগুরুর পৌপ ষোড়শ বেনেডিক্ট
উইলিয়ামসনের উপর থেকে
বহুদিনের পুরোনো
‘এক্সকমিউনিয়ন’
তুলে নেয়ার ঘোষণা
দেওয়ার কারণে
পুরো ব্যাপারটি জটিলতর হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, এক্সকমিউনিকেইট
করা হলে একজন যাজক গীর্জার কাজে অংশ নিতে পারেন না।
পৌপের
সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভ্যাটিকানের সাথে জার্মানীর কূটনীতিক টানা-পোড়েন তৈরী হয়।
উল্লেখ্য, উইলিয়ামসন যে-ধরণের কথা-বার্তা বলেছেন,
তা জার্মানীতে যুদ্ধাপরাধ সমর্থনের সমতুল্য হিসাবে গণ্য হয়। পরে অবশ্য চাপের মুখে পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে
আসেন পৌপ। তিনি জানান,
এক্সকমিউনিকেইট সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার সময় উইলিয়ামসনের হলৌকাস্ট-বিরোধী বক্তব্য জ্ঞাত ছিলো না ভ্যাটিকান। পরে ভ্যাটিকানের পক্ষ
থেকে নাজিদের ইহুদী নিধন-যজ্ঞকে ‘ঈশ্বরের
বিরুদ্ধে অপরাধ’
হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। উইলিয়ামসন অবশ্য অনলাইনে নিজস্ব ব্লগের মাধ্যমে জানান,
নাজিদের গণ-হত্যার ব্যাপারে নতুন করে পড়াশুনা করে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত
পরিবর্তনে রাজী আছেন
তিনি। তবে এ-জন্য অনেক সময় লাগবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
লন্ডনঃ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ |