|
ব্রিটেইনে
বিদেশী কর্মজীবী
প্রায় ৪০ লক্ষঃ
অধিকাংশ
ইইউর বাইরের
ভিনদেশ থেকে
ব্রিটেইনে আগত
কর্মজীবীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় চল্লিশ
লক্ষ (৪ মিলিয়ন)।
সরকারের পক্ষ
থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব মোতাবেক এ-বিপুল
সংখ্যক
কর্মজীবীর
দুই-তৃতীয়াংশ ইউরৌপীয়ান
ইউনিয়নের
বাইরের দেশগুলো থেকে এসেছেন।
মঙ্গলবার রাতে খবরটি
প্রকাশিত হবার
পর থেকেই অভিবাসন-বিরোধী মহলগুলো থেকে লেবার সরকারের কড়া সমালোচনা
শুরু হয়েছে।
হাউস অফ কমন্স লাইব্রেরী কর্তৃক প্রকাশিত
সর্বশেষ তথ্যে প্রকাশ,
বর্তমানে
ব্রিটেইনে কর্মজীবীর মোট সংখ্যা ৩ দশমিক আট মিলিয়নের অধিক,
যা মোট
কর্মশক্তির ১৩ শতাংশ। ১৯৯৭ সালে
লেবার পার্টির ক্ষমতায়
আসার
সময় বিদেশী
কর্মজীবীর
সংখ্যা ছিলো ২
মিলিয়ন,
বা মোট কর্মশক্তির সাড়ে ৭ শতাংশ। হিসাব-মতে,
বর্তমানে
ব্রিটেইনে কর্মরত বিপুল আয়তন এ-কর্মী-বাহিনীর
দুই-তৃতীয়াংশের জন্ম ইইউর বাইরে। উল্লেখ্য,
ইইউর
নাগরিকদের ব্রিটেইনে কাজ করার জন্য
ওয়ার্ক
পারমিটের প্রয়োজন পড়ে না। সর্বশেষ হিসাব-মতে,
ব্রিটিশরা ইইউর অন্যান্য দেশগুলোতে যে-পরিমাণে
কাজ-কর্ম করে,
ইইউর অন্য
দেশগুলোর লোকেরা তারচেয়ে চারগুণের
বেশি
হারে
ব্রিটেইনে কাজ করে।
আরেকটি
হিসাব-মতে,
২০০৭
সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়-কালে ব্রিটেইনের মোট কর্মজীবীর মধ্যে ব্রিটেইনে
জন্মগ্রহণকারী লোক-জনের সংখ্যা ছিলো ২ কোটি ৫৮ লক্ষ ৬০ হাজার।
এর ঠিক
এক বছরের মাথায় ব্রিটেইনে জন্মগ্রহণকারী কর্মজীবীর সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষের মতো কমে ২
কোটি ৫৫ লক্ষ ৮২ হাজারে এসে দাঁড়ায়।
একই
সময়-কালে ব্রিটেইনের বাইরে জন্ম নেয়া কর্মজীবীর সংখ্যা ৩৬ লক্ষ ৫ হাজার থেকে বেড়ে
৩৮ লক্ষ ১৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের ন্যাশনাল
স্ট্যাটিসটিক্স অফিসের কাছ থেকে পাওয়া উপাত্তের ভিত্তিতে উপরোক্ত সংখ্যাটি প্রকাশ
করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
বিদেশী কর্মজীবীর
সংখ্যা বিষয়ক হিসাব
জনসাধারণ্যে
প্রচার করার কারণে
গত সপ্তাহে
স্ট্যাটিসটিক্স
অফিসের কড়া
সমালোচনা করেছিলো সরকারের উর্ধ্বতন মহল।
লক্ষ্য করার
ব্যাপার,
বিদেশী
কর্মজীবীর সংখ্যাটি প্রকাশের সাথে-সাথেই ব্রিটেইনের অভিবাসন বিষয়ে নেতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গী পোষণকারী মহলগুলো থেকে সরকারের সমালোচনা শুরু করা হয়েছে।
প্রধান
বিরোধী দল কনসার্ভেটিভ পার্টির মতে,
এখন এমন একজন লোকও ব্রিটেইনে নেই,
যিনি প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের ২০০৭ সালের অঙ্গীকারটিতে
এখন বিশ্বাস রাখেন।
উল্লেখ্য,
ক্ষমতায়
আসার কিছু দিন পরে দেয়া বক্তব্যে
'ব্রিটিশ
কর্মীদের জন্য ব্রিটেইনের কাজকর্ম'
নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রাউন।
শ্যাডৌ
ওয়ার্ক
এ্যান্ড
পেনশন মিনিস্টার জেইমস ক্ল্যাপিসন এ-ব্যাপারে বলেন,
পুনঃপুন অঙ্গীকার সত্ত্বেও ইইউর বাইরের লোকেদের অভিবাসন বন্ধ করার ক্ষেত্রে
লেবারদের ব্যর্থ হবার এটি আরেক দফা প্রমাণ।
তিনি
আরও মনে করেন,
এ-কারণেই স্ট্যাটিসটিক্স অফিসের বিরুদ্ধে কটু কথা বলে পুরো ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে
চেয়েছিলো সরকার।
এদিকে সরকার
পক্ষ জানিয়েছে,
ব্রিটেইনের মোট কর্মী সংখ্যার ৯০ শতাংশের অধিক ব্রিটিশ নাগরিক।
উল্লেখ্য,
বিদেশী
কর্মীর সংখ্যা হিসাবে ক্ষেত্রে ব্রিটেনে জন্ম নেয়া মানুষ ও বিদেশে জন্ম নেয়া
মানুষের সংখ্যা হিসাব করে।
পক্ষান্তরে সরকার যেভাবে হিসাব করে,
তাতে কে কোথায় জন্ম নিয়েছেন,
তা নয় বরং ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যাটি হিসাব করা হয়।
এ-হিসাব পদ্ধতি মোতাবেক ব্রিটেইন বাইরে জন্ম নেয়া এবং পরবর্তী জীবনে ব্রিটিশ
নাগরিকত্ব অর্জনকারী একজন ব্যক্তি ব্রিটিশ কর্মী হিসাবে গণ্য হয়ে থাকেন।
লন্ডনঃ ১৯
ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|