|
গাজাতে হামাসের
হত্যা-নির্যাতন সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ এআইর
গাজাতে
সাম্প্রতিক ইসরায়েলী হামলার আগে-পরে হামাসের হত্যা-নির্যাতনের ব্যাপারে নতুন করে
তথ্য প্রকাশ করেছে
এামনেস্টী
ইন্টারন্যাশনাল। শুক্রবার
এামনেস্টী
জানিয়েছে,
হামাসের পক্ষ থেকে গাজাবাসীর উপরে যেসব সহিংসতা চালানো হয়েছে, তার মধ্যে আছে অপহরণ,
উদ্দেশ্যমূলক অবৈধ হত্যা, প্রহার ও খুনের হুমকি। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে
এামনেস্টীর পক্ষ থেকে প্রথম দফা হামাস-বিরোধী তথ্য প্রচার করা হয়। হামাস সে-সময়
এামনেস্টীর
তথ্যের কড়া বিরোধিতা করেছিলো।
এামনেস্টী
ইন্টারন্যাশনাল
জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষে
‘দালালী’
এবং হামাসের বিরোধিতা ও সমালোচনার দায়ে গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে কমপক্ষে দু-ডজন
ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছে হামাস। এছাড়াও বেশ কিছু মানুষকে পায়ে গুলি করা, হাঁটু
গুঁড়ো করে দেয়া বা প্রহার করা হয়েছে।
এামনেস্টীর
দাবী, তাদের বক্তব্যের পক্ষে
‘অখণ্ডনীয়
প্রমাণাদি’
মজুত আছে। হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী ও মিলিশিয়াদের দ্বারা মানবাধিকারের ভয়াবহ লংঘন
সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনটি। এছাড়াও গাজা সিটি-ভিত্তিক
প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান পত্রিকা জানিয়েছে,
ইসরায়েলী অভিযান শুরুর পর থেকে হামাস ৩২ জন ফিলিস্তিনীকে হত্যা এবং
ডজন-ডজন মানুষকে গুলি বা প্রহার করেছে।
শুক্রবার গার্ডিয়ানের
প্রতিবেদনে গাজাতে হামাসের নির্যাতন সম্পর্কে
মোওয়াফফাক আলামি
(৩৬)
নামের একজন গাজাবাসীর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। গাজাতে ওয়ান ভয়েস নামের একটি সংগঠনের
কর্মী আলামি বলেন,
'স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার ব্যাপারে জনগণ ভয় পাচ্ছে।'
জর্জ বুশের মতো হামাসও
‘যারা
আমাদের পক্ষে নেই তারা আমাদের বিপক্ষে’
নীতির অনুসরণ করে যাচ্ছে
বলে অভিযোগ করেন আলামি।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ফাতাহ পার্টিকে বিতাড়িত করে গাজা দখল নেয়ার পর থেকে অন্য
কতগুলো সংগঠনের সাথে-সাথে ওয়ান ভয়েসের অফিসেও তল্লাশী চালিয়ে কম্পিউটার-সহ অন্যান্য
সামগ্রী জব্দ করে হামাস। এছাড়াও এক-পর্যায়ে এসে অফিসটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রস্তাবনার ব্যাপারে মাঠ-পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার ব্যাপারটি
উদ্বুদ্ধকরণের কাজ করে ওয়ান ভয়েস। গাজা হামাসের দখলে আসার পর থেকে অনেকগুলো সামাজিক
সংগঠনকে বন্ধ করে দেয়া হয়। প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে,
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক সংগঠনগুলোর উপরে বিধি-নিষেধের
বেড়াজাল কঠোরতর করেছে হামাস।
এামনেস্টীর
পক্ষ থেকে শুক্রবার দেয়া তথ্যের ব্যাপারে হামাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে
কয়েক দিন আগে প্রথমবার
এামনেস্টীর
বক্তব্য আসার পর হামাসের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছিলো। হামাসের মুখপাত্র
ফৌজি বারহুম
তখন
বার্তা-সংস্থাকে বলেন,
‘এ-গল্পগুলো বিভ্রান্তিকর এবং মিডিয়ার দ্বারা চতুরভাবে সাজানো।’
হামাসের পক্ষ থেকে অবশ্য ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করা সন্দেহভাজন
‘দালালদের’
খোঁজে তল্লাশী চালানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে।
লন্ডনঃ
১৩ ফেব্রুয়ারী,
২০০৯ |