|
ব্রিটেইনের
বিয়ের হারঃ এ-যাবৎকালের
সর্বনিম্নে
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে
ট্যাক্স-ব্রেইক প্রায় না থাকা,
বিচ্ছেদের মীমাংসা অত্যন্ত ব্যয়-বহুল হয়ে পড়া এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানাদির পেছনে গড়
ব্যয় ২০ হাজার পাউন্ডে যেয়ে ঠেকার ব্যাপারটিকে মিলিয়ে ব্রিটেইনে অন্যতম প্রধান দুই
অঞ্চল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিয়ের হার রেকর্ড-বন্দী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে
গেছে।
বৃহস্পতিবার ব্রিটেইনের অফিস ফর
ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স প্রদত্ত হিসাবে জানা যায় সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ড ও
ওয়েলসে বিয়ের সংখ্যা ১৮৯৫ সালে রেকর্ড গ্রহণ শুরু করার পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এছাড়াও বিয়ের বয়েস বেড়ে
যাওয়া যাওয়া এবং ঈশ্বর-সাক্ষী রেখে বিয়ে করার প্রবণতা কমে যাবার খবরও পরিবেশন করেছে
ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স।
হিসাবে প্রকাশ, ২০০৭ সালে
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিয়ে হয়েছে সর্বমৌট ২ লক্ষ ৩১ হাজার চারশো পঞ্চাশটি, যা ২০০৬
সালের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
আর ১৯৮১ সালের সাথে
তুলনা করলে ৩৪ শতাংশ কম।
উল্লেখ্য, বিয়ে বিষয়ক
রেকর্ড রাখার সাল, অর্থ্যাৎ ১৮৯৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ২ লক্ষ ২৮ হাজার দুশো
চারটি বিয়ে সংঘটিত হয়েছিলো।
সে-সময়কার মোট জনসংখ্যার
সাথে তুলনা করলে বর্তমানে বিয়ের হার অত্যন্ত নিম্ন বলেই মনে হবে।
সরকারী হিসাবানুসারে ২০০৭ সালে
ষোল বছরের উর্ধ্ব প্রতি ১ হাজার পুরুষের মধ্যে বিয়ে করেছিলেন মাত্র ২১ দশমিক ৬ জন।
নারীদের ক্ষেত্রে এ-হার
ছিলো ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
মাত্র এক বছর আগে, ২০০৬
সালে পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে এ-হার ছিলো যথাক্রমে ২৩ ও ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।
ব্যতিক্রমধর্মী হিসাবও
পাওয়া গেছে ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের কাছ থেকে।
জানা গেছে, ২০০৭ সালে ৮০
বা তদুর্ধ্ব বয়সের ৩০ জন পুরুষ জীবনে সর্ব-প্রথমবারের মতো বিয়ে করেছিলেন। একই বয়সের
২০ জন নারীও সেবার বিয়ে করেছিলেন।
২০০৭ সালে যে-বিয়েগুলো হয় তার
মধ্যে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪০টি বিয়ে ছিলো উভয় পক্ষের জন্য প্রথম বিয়ে, যা মোট বিয়ের
সংখ্যার ৬২ শতাংশ।
আর ১৮ শতাংশ বিয়ে ছিলো
উভয় পক্ষের জন্য পুনর্বিয়ে।
২০০৭ সালে পুরুষের বিয়ে
গড় বয়স ছিলো ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের সমান।
নারীদের ক্ষেত্রে এটি
ছিলো ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০০৬ সালে নারীদের
ক্ষেত্রে এ-বয়স ছিলো গড়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
১৯৯১ সাল থেকে ধরলে ২০০৭
সাল এসে নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ের গড় বয়স বেড়েছে চার বছর।
এদিকে বিয়ের ক্ষেত্রে ২০০৭ সালে
সিভিল বিয়ের হার (১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৬০ টি) পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ( ১ লক্ষ ৫৮
হাজার ৩৫০ টি ) কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।
ঈশ্বর সাক্ষী রেখে
চার্চে যেয়ে বিয়ে করার হারও কমে গেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস।
২০০৭ সালে চার্চে বিয়ে
হয় সর্বমোট ৭৭ হাজার ৪৯০ টি, যা ২০০৬ ও ১৯৯১ সালের তুলনায় যথাক্রমে সাড়ে চার ও
পঁচিশ শতাংশ কম।
এর বিপরীতে ২০০৭ সালে হৌটেল,
স্টেটলী হৌমস ও ঐতিহাসিক ভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে ৯৯ হাজার ৭৬০ টি, ২০০৬ সালের
তুলনায় এ-সংখ্যা ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা বিয়ের জন্য
ট্যাক্স-ব্রেইকের সুবিধা উধাও হয়ে যাওয়া ছাড়াও বিচ্ছেদের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবার
সাথে বিয়ের সংখ্যা কমে যাবার সম্পর্ক আছে।
বিশেষ-করে, বিচ্ছেদ হলে
নারীরা আর্থিকবভাবে বেশি লাভবান হয়ে বলে পুরুষদের মধ্যে যে-একটি বদ্ধমূল ধারণা
রয়েছে, তার সাথে বিয়ের ব্যাপারে পুরুষের মধ্যে অনাগ্রহ বেড়ে যাবার সম্পর্ক আছে বলে
মনে করা হচ্ছে।
নারীদের মধ্যে ক্যারিয়ার বিষয়ে
সচেতনাতা বেড়ে যাবার সাথেও বিয়ে সংখ্যা কমে যাবার সম্পর্ক আছে বলে মনে করছেন অনেক
বিশেষজ্ঞ।
ধারণা করা হচ্ছে, চলমান ক্রেডিট
ক্র্যাঞ্চের পরিনতিতে পুরো ব্রিটেইনেই বিয়ের সংখ্যা আরও কমে যাবার সম্ভাবনা আছে।
লন্ডনঃ ১৩
ফেব্রুয়ারী ২০০৯ |