|
শিক্ষাকে
বাজারী পণ্যে পরিণত করা
থেকে
রুখে দাঁড়ানঃ
ছাত্র ফ্রন্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র ফ্রন্টের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১০
ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ থেকে ছাত্র ফ্রন্টের
বছরব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয়।
'বিশ্বায়ন
ও মুক্তবাজারের নামে শিক্ষাকে বাজারী পণ্যে পরিণত করা রুখে দাঁড়ান এবং ছাত্র
রাজনীতির আদর্শবাদী ধারাকে শক্তিশালী করুন' এ-স্লৌগানকে সামনে রেখে ছাত্র ফ্রন্ট
রজতজয়ন্তী বর্ষের উদ্বোধনী সমাবেশের আয়োজন করে। জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের
মাধ্যমে রজতজয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক
দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটীর আহবায়ক খালেকুজ্জামান এবং ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয়
সভাপতি ফখরুদ্দিন কবির আতিক।
এর আগে রজতজয়ন্তী কমিটীর
সাংস্কৃতিক উপ-কমিটীর আহবায়ক মাহমুদুজ্জামান বাবুর নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও
গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
রজতজয়ন্তী
উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রথম সাধারণ সম্পাদক আকম
জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ-প্রধান খালেকুজ্জামান ও বাসদের
বর্ধিত ফোরামের সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ।
অনুষ্ঠানটি
পরিচালনা
করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফখরুদ্দিন কবির আতিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
খালেকুজ্জামান তার বক্তব্যে ডঃ কুদরত-এ-খুদা কর্তৃক প্রণীত শিক্ষানীতির সমালোচনা
করে বলেন,
'ডঃ
কুদরত-এ-খুদা কর্তৃক প্রণীত শিক্ষানীতির আলোকে যে-ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতির ঘোষণা দেয়া
হয়েছে, তাতে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করার গণআকাঙ্খা পূরণ হবে না।’
তিনি
ক্ষমতাসীন
দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার কথা
উল্লেখ করে বলেন,
'এটা কতোখানি আশ্বাস আর কতোটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।'
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২০১০ সালের মধ্যে ১০০ ভাগ শিশুর প্রাথমিক
শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
খালেকুজ্জামান তার বক্তব্যে তথ্য দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৪,১৯৯টি
গ্রামে কোনো বিদ্যালয় নেই
ও গত
৩৭ বছরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৪০৭টি।’
তিনি তার
বক্তব্যে
প্রাইমারী
এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (PEDP)
এক সমীক্ষার তথ্য উদ্ধৃত
করে জানান, ৫ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনকারীদের মধ্যে ৬৯%
বাংলা সংবাদপত্রের হেড লাইন সঠিকভাবে পড়তে পারে না; ৮৭% সাধারণ গণিতের
যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করতে পারে না এবং ৭২% শর্ট কম্পৌজিশান লিখতে পারে না।
তিনি
সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘এ-দূরবস্থা কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান কিভাবে
উন্নীত করা সম্ভব হবে?’
খালেকুজ্জামানের বক্তব্যের পর ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জনার্দন দত্ত নান্টু
সংগঠনের বছরব্যাপী কর্মসূচির রূপরেখা উপস্থাপন করেন। রূপরেখাটিতে সভা-সমাবেশ ছাড়াও
স্বাক্ষর-সংগ্রহ, স্মারক-লিপি পেশ প্রভৃতি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে একটি
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে হাইকৌর্ট, প্রেসক্লাব, দৈনিক
বাংলা, গুলিস্থান ও ঢাকা
মেডিকেল হাসপাতাল হয়ে শহীদ
মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বার্তা
প্রেরক,
ইমরান
হাবিব রুমন
আপলৌডঃ ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯ |