|
ঢাকায় বাংলা
একাডেমী বইমেলাঃ
আপন আলোয় মেলেছে পাখা
ভাষার মাসটি
ঘিরে ঢাকায় বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড়ো
বইমেলা।
১
ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে এ-মেলা ইতোমধ্যে
সপ্তাহ অতিক্রম করেছে।
ক্রমশঃ
জমে উঠছে বইমেলা।
সব বয়সের
মানুষের ভীড়ে মুখরিত এখন বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গন।
মেলার
শুরু দিকে কিছুটা অগোছালোভাব থাকলেও প্রথম সপ্তাহ পার করার মধ্য দিয়ে মেলা ফিরেছে
তার আপন মেজাজে।
ইউকেবেঙ্গলির জন্য বইমেলা নিয়ে প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামানঃ
শিশুদের জন্য
বিশেষ সময় নির্ধারণ
৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারী
বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ
‘শিশু
প্রহর’
হিসাবে ঘোষণা
দিয়েছিলেন।
এ-দুদিন
সকাল
১১টা থেকে বেলা
৩টা পর্যন্ত শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্য
করার মতো।
এছাড়া,
৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮টায় মেলা-প্রাঙ্গণে
শিশুদের চিত্রাঙ্কণ
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যা বেলা ১১টা
পর্যন্ত চলে।
প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ডঃ
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
শিশু-প্রহরে
শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা ছাড়া কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারেননি।
মেলা শুরু হওয়ার
প্রথম শুক্রবার হাজারো বইপ্রেমীর পদচারণায় একাডেমী প্রাঙ্গন ছিলো মুখরিত।
প্রবেশের
দুটি
ফটকে সৃষ্টি হয়
মানুষের দীর্ঘ সারি।
এ-সারি
দীর্ঘ হতে-হতে
টিএসসির কাছে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি
সারি
চলে যায় দোয়েল
চত্বর কার্জন হলের দিকে,
অন্য
সারিটি
রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগের দিকে যাদুঘর ছাড়িয়ে যায়।
রাত ৯টা
পর্যন্ত মেলা ছিল দর্শকদের আনাগোনায় সরগরম।
বিক্রি
হয়েছে আগের ৫ দিনের চেয়ে দ্বিগুণ।
শুক্রবার
মেলায় এসেছিলেন লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল,
সৈয়দ
শামসুল হক,
সেলিনা হোসেন,
ইমদাদুল
হক মিলন প্রমুখ।
চলছে মেলার
সেমিনারে গবেষকদের প্রবন্ধ পাঠ
বাংলা একাডেমীর
আয়োজনে প্রতিদিন গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে
‘সম্ভাবনার
বাংলাদেশ’
শীর্ষক সেমিনার।
দেশের
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা বিষয় নিয়ে বরেণ্য গবেষক ও শিক্ষাবিদরা প্রবন্ধ
উপস্থাপন ও আলোচনা করেছেন।
৯
ফেব্রুয়ারী
পর্যন্ত মোট ৮টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রবন্ধ
উপস্থাপন করেছেন যথাক্রমে মনসুর মুসা,
মইনুদ্দীন
খালেদ,
সোনিয়া নিশাত
আমিন,
শাইখ সিরাজ,
করুণাময়
গোস্বামী,
গোলাম সারোয়ার,
সঞ্জীব
দ্রং,
গালিব আহসান খান,
আবদুল
ওয়াহাব,
শাহদীন মালিক
প্রমুখ।
দলবাজি কিছুটা
কমেছে
গতবারের মতো
বইমেলার এবারকার শুরুটাও হয়েছিলো গতানুগতি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির মধ্য
দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে ছিলো ছাত্রলীগের ব্যাপক
‘শৌ-ডাউন’
আর মিছিল।
রাজনৈতিক
স্টলের সংখ্যাও নেহাত কম ছিলো না।
কিন্তু
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন
শেষে পাল্টে গেছে মেলার চেহারা।
অমর একুশে
গ্রন্থমেলার বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে দলীয় সাইনবোর্ডে যারা তৎপরতা শুরু করেছিলেন,
তাদের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।
একাডেমীর
মূল মঞ্চের প্রবেশ-পথের সামনে
শেখ মুজিবুর রহমান বিষয়ক গবেষক পরিচয়দানকারী শেখ উজ্জ্বলের নামে
টাঙ্গানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সম্বলিত
ব্যানারটি ৫ ফেব্রুয়ারী
বিকেলে নামিয়ে ফেলেছে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ।
একই
ব্যক্তির নাম প্রদর্শন করে একাডেমী প্রাঙ্গণে বরাদ্দ নেয়া
‘বঙ্গবন্ধু
রিসার্চ সেন্টার’
স্টলের
ব্যানারও নামিয়ে ফেলা হয়েছে।
এরপর থেকে
এ-প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (৯ ফেব্রুয়ারী)
এ-দুটি স্টল বন্ধ ছিলো।
বাংলা
একাডেমীর মহাপরিচালক ডঃ
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ ইউকেবেঙ্গলিকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর
দপ্তর থেকে এ-ব্যাপারে কড়া নির্দেশ পাঠানোর পর একাডেমী কর্তৃপক্ষ
কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।’ বিষয়টিকে
সাধুবাদ জানিয়েছে মেলায় আগত অনেক দর্শক ও লেখককে।
মেলায় বই
কিনতে আসা পাঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রের নৃ-বিজ্ঞান
বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রতিকা রানী রায় ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
‘গতবারের
চেয়ে এবারের মেলা অনেক বেশি গোছানো।
বিশেষ করে
মেলার বাইরে স্টল বরাদ্দ দিয়ে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ বিবেচনাপ্রসূত কাজ করেছেন।
এবারের
মেলায় প্রবেশে দীর্ঘ
সারি
থাকলেও বেশি দেরী হচ্ছে না মেলায় প্রবেশ করতে।’
আব্দুল
মতিন -
যাকে সবাই ভাষা মতিন হিসাবে জানে -
সোমবার এসেছিলেন
মেলায়।
স্টলে-স্টলে ঘোরার মতো
শারিরক অবস্থা এ-ভাষা
সৈনিকের নেই,
তবু প্রাণের
টানেই ছুটে এসেছেন একাডেমী-প্রাঙ্গনে।
উচ্ছসিত
কন্ঠে ইউকেবেঙ্গলিকে বললেন,
‘এই-যে
এক সাথে এতো-এতো বাংলা বই বিক্রি হচ্ছে,
মানুষ
আসছে,
এসবই ভাষা ও
দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এই ধারাটা
যদি আরো শক্তিশালী হয়,
তবে কোনো
দিন
বাংলাদেশকে কেউ পরাধীন করতে পারবে না।’
একজন লেখক
-যে
কতো
শক্তিশালী হতে পারেন, তার জ্বলন্ত উদাহরণ মোহাম্মদ জাফর
ইকবাল।
শুধু
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
লিখেই বিশাল
খ্যাতি অর্জন
তিনি করেননি।
তার সাথে
রয়েছে সম-কালীন
রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রত্রিকায় লেখা তার বিভিন্ন প্রবন্ধ।
বিশেষ
করে রাজাকার ও শিক্ষা প্রসঙ্গে জাফর ইকবালের লেখা সাধারণ মানুষকে ভীষণভাবে নাড়া
দিয়েছে বলে মনে করে মেলায় আসা গৃহিনী আসমা মেহজাবীন
মুন্নির।
তাই মেয়ের
অটোগ্রাফের খাতা এগিয়ে দিতে-দিতে নিজের জন্যও একটি অটোগ্রাফ
চাইলেন।
আসছে নতুন বই
বাংলা একাডেমীর
তথ্যমতে,
১ ফেব্রুয়ারী
থেকে ৯ ফেব্রুয়ারী মোট বই এসেছে প্রায়
৬৭২টি।
২০০৬ সালে
মেলার প্রথম ৭ দিনে এ-সংখ্যা
ছিলো ৪৫৪,
২০০৭ সালে ৩৮২
এবং ২০০৮ সালে এসেছিল প্রায় ৫৬২টি।
সে-হিসাবে
প্রথম ৭ দিনে এবারের মেলায় গতবারের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি।
তুলনামুলক
কম বই আসার কারণ হিসাবে পাঠসূত্রের
স্বত্বাধিকার
রাজিব নূর
ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
‘এখনও
অনেক সময় পড়ে আছে।
আগেভাগে
মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
তবে এতো বড়ো
একটা জাতীয় নির্বাচন চলে গেলো,
তার পর-পরই
আবার উপজেলা নির্বাচন;
এসবের প্রভাব পড়েছে।
তবে পনেরো
তারিখের মধ্যে ৭০ শতাংশ বই মেলায় চলে আসবে।’
সময়
প্রকাশক ফরিদ আহমেদ এবারের বই মেলায় সময়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন,
‘এবার
হুমায়ুন আহমেদের নতুন বই ছাড়াও বেশ কিছু ভালো বই প্রকাশ করতে পেরে ভালো লাগছে।’
তার মধ্যে
উল্লেখ্যযোগ্য হলো
হুমায়ূন আহমদের
মিসির
আলী! আপনি কোথায়? (উপন্যাস);
রাবেয়া খাতুনের
একদা রূপকথার
রাজ্যে (ভ্রমণকাহিনী);
ধ্রুব এষের
টিকটিকি
(উপন্যাস);
আনোয়ারা
সৈয়দ হকের সন্দেহ
(উপন্যাস);
ইমদাদুল হক মিলনের
ভালোবাস সমগ্র (উপন্যাস);
ফরিদুর রেজা সাগরের
কিশোর সমগ্র (শিশুসাহিত্য);
মুহম্মদ জাফর
ইকবালের
ইকারাস
(কল্পবিজ্ঞান);
জাকারিয়া স্বপনের
কাগজের অভিশাপ
(কল্পবিজ্ঞান);
আমীরুল ইসলামের ছড়া যখন ফুড়ুৎ
(ছড়া);
বুলবুল ওসমানের নন্দনতত্ত্বের
গোড়ার কথা (গবেষণা)।
এগিয়ে আছে কবিতা
মেলায় সর্বাধিক
প্রকাশিত বইয়ের ধারার মধ্যে কবিতা উল্লেখযোগ্য।
মেলায় ইতোমধ্যে
যেসব কবির কাব্যগ্রন্থ চলে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ শামসুল
হক,
আল মাহমুদ,
নির্মলেন্দু গুণ,
রফিক আজাদ,
মহাদেব
সাহা,
আসাদ চৌধুরী,
মোহাম্মদ
নুরুল হুদা,
দিলওয়ার,
নাসির
আহমেদ,
জুয়েল মাজহার,
হেনরী
স্বপন,
শামীম রেজা প্রমুখ।
প্রতিবারের মতো এবারও কবিতার বই বেশি।
এ-ব্যাপারে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ডঃ
সৈয়দ
মোহাম্মদ শাহেদ ইউকেবেঙ্গলিকে হেসে বলেন,
‘বাংলাদেশে
কবি বেশি,
এ-কারণে
কবিতার বইও বেশি বের হয়।’
উন্মাদের
স্টলে আহসান হাবিব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অসংখ্য উন্মাদ ভক্তকে অটোগ্রাফ দিয়ে।
ইউবেঙ্গলিকে আহসান হাবিব বলেন,
‘আমাদের
বইমেলায় জ্ঞান-ভিত্তিক প্রকাশনা খুব কম।
সস্তা
বাজারমুখী প্রকাশনাই বেশি।
ফলে
পাঠকের চেতনার মানও খুব বেশি সামনে এগুচ্ছে না।’
কবিতার বই বেশি
বের হলেও পাঠকের আগ্রহ কিন্তু জনপ্রিয় কবিদের কাব্যগ্রন্থের দিকেই।
নির্মলেন্দু গুণকে
তাই ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে অটোগ্রাফ আর ভক্তের সাথে কথা বলে।
ইউকেবেঙ্গলিকে এ-ব্যস্ততার
মাঝে বললেন,
‘বই
মেলা আমাদের অনেক অনৈক্য বিভেদকে ঐক্যে পরিণত করে।
এ-শক্তি
থেকে এগিয়ে যাবার সাহস নিতে হবে।’
মেলায়
নির্মলেন্দু গুণের তিনটি কাব্যের পাশাপাশি একটি ছড়া গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
এগুলোর
মধ্যে রয়েছে,
‘জন্ম
দিও বঙ্গে’
(বিভাস
প্রকাশনী),
‘ছড়াবড়া’
(মিজান
পাবলিশার্স) ও
প্রেমের
কবিতা (কথাকলী)।
সৈয়দ শামসুল হক
লিখেছেন এবার ৪টি কাব্যগ্রন্থ।
এগুলো
হচ্ছে ‘ধ্বংসস্তূপে
কবি ও নগর’
(ইত্যাদি
গ্রন্থ প্রকাশ),
‘ভস্ম
যদি সর্বাঙ্গে আমার’
(অনন্যা),
‘কবিতা
সমগ্র-২’
(চারুলিপি),
‘নির্বাচিত
১০০ কবিতা’
(অন্যপ্রকাশ)।
আল
মাহমুদের প্রকাশিত
কাব্যগ্রন্থের নাম
‘প্রেমপত্র
পল্লবে (অনন্যা)।
রফিক
আজাদের
প্রকাশিত
কবিতার বই
‘অন্তরঙ্গ
দীর্ঘশ্বাস’
মেলায় এনেছে
গ্রন্থপ্রকাশ।
মহাদেব
সাহার ‘অক্ষরে
বোনা স্বপ্ন’
(অন্যপ্রকাশ)।
কবি
মুহম্মদ নুরুল হুদার রয়েছে দুটি কবিতার বই
‘ষাট
বছরের কবিতা’
(লেখা
প্রকাশনী) ও
‘আমার
সাহস নেই সুন্দরকে টোকা মেরে উড়িয়ে দেবার’
(সিদ্দিকীয়া
পাবলিকেশন্স)।
আসাদ
চৌধুরীর কবিতার বই এসেছে
‘বাতাস
যেমন পরিচিত’।
কবি
দিলওয়ারের
‘দুই
মেরু,
দুই ডানা’।
নাসির
আহমেদের ‘স্বপ্নে
পাওয়া’।
জুয়েল
মাজহারের
‘মেগাস্থিনিসের
হাসি’।
শামীম
রেজার ‘ব্রহ্মাণ্ডের
ইশকুল’।
হেনরী
স্বপনের ‘খাবারের
সহজ রেসিপি’।
মফস্বলের
কবি ও প্রথা-বিরুদ্ধ
কবিতা
এবারের বইমেলাতেও
লিটলম্যাগ কর্নারে বসেছে ঢাকা-সহ
সারা দেশে থেকে প্রকাশিত প্রায় ১শো
লিটলম্যাগ ও তাদের সম্পাদক লেখকদের আড্ডা।
আজিজ
মার্কেট থেকে প্রকাশিত লোক-এর
স্টলে বসা কবি আশিক আকবর ইউকেবেঙ্গলিকে ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন,
‘বইমেলার
মাঝে বড়ো স্ক্রীনে
এ-রকম শব্দ করে সিনেমা প্রচার করা হচ্ছে,
কোন রুচিতে এটা
করা হচ্ছে বুঝলাম না।’
তবে নিজের
কবিতা নিয়ে বেশ সচেতন
তিনি।
সচেতন
যেমন নিন্দুকদের কাছ থেকে তেমন অধিক সচেতন অতি বলিয়েদের হতেও।
আশিক আকবর
বললেন,
‘প্রতিষ্ঠান
বিরোধিতা
মানে বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে প্রতিষ্ঠান-হীনতার
দিকে যাত্রা শুরু করা।
আমরা
লিটলম্যাগ শুরু করেছিলাম সে-দর্শন
চর্চার জায়গা থেকে।
সেখান
থেকে লিটলম্যাগ অনেক দুরে সরে এসেছে।’
ঢাকা ছাড়াও
এবারের গ্রন্থমেলায় রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা শহর থেকে প্রকাশিত কবিতার বই নিয়ে
এসেছেন অনেক তরুণ কবি।
তাদের
সাধারণ স্থান লিটলম্যাগ প্রাঙ্গণ।
তবে
কেউ-কেউ তাদের বই উঠিয়েছেন বিভিন্ন স্টলে।
রাজশাহী
থেকে তরুণ
কবি সোহেল মাহমুদ এসেছেন তার
‘এই
শহরে আজ’
কবিতার
বইটি নিয়ে।
মেলার
প্রথম দিনেই তিনি বাংলাদেশ গণিত ফাউন্ডেশনে তার বইগুলো উঠিয়েছেন।
বিক্রিও
হচ্ছে মোটামুটি।
অনুভূতি
জানতে চাওয়া হলে বলেন,
‘ঢাকার
বাইরে যেসব লেখক আলাদাভাবে বই প্রকাশ করে থাকেন,
মেলায় তাদেরকে আরও বেশি করে সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।
অনেক
প্রতিভাবান লেখক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সারা দেশে।
আয়োজন করা
যেতে পারে তাদেরকে নিয়ে প্রতিযোগিতারও।
এবারের
মেলায় এটি আমার প্রথম বই।
মেলায়
বইটি আনতে পেরে ভালো লাগছে।’
যুদ্ধপরাধীদের
বিচার চাই
বইমেলায় চলছে গণ
স্বাক্ষর
সংগ্রহ।
উপলক্ষ্য
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জনমত গঠন করা।
‘একাত্তুরের
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে গণ
স্বাক্ষর’
এ-ব্যানারে
ইতোমধ্যে
সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ মানুষের
স্বাক্ষর
গ্রহণ করেছে আয়োজকেরা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে
স্বাক্ষর
করতে- করতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে আগত মেলার দর্শক সানি ইউকেবেঙ্গলি বলেন,
‘বর্তমান
সরকারকে জনগণের
ভৌট
দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
যদি সরকার
এ-থেকে সরে দাঁড়ায় তবে দেশের মানুষের সাথে আওয়ামী লীগ বেঈমানী
করবে।’
ঢাকা থেকে
মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান
আপলৌডঃ
১০
ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|