|
বিএনপির করতে পারবেন না যাজকরাঃ সিদ্ধান্ত চার্চ অফ
ইংল্যান্ডের
ব্রিটেইনের
শীর্ষ বর্ণবাদী দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সদস্য হবার ব্যাপারে যাজকদের
উপরে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চার্চ অফ ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার চার্চের
আইন-সভা হিসাবে বিবেচিত সিনডের ভৌটে বিএনপিতে যোগদান নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত
প্রস্তাবটি বিপুল ব্যবধানে জয়যুক্ত হয়েছে। এহেন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করার
দিনটিতেই অবশ্য বর্ণবাদ-প্রীতির অভিযোগে চার্চকে অভিযুক্ত করেছেন বর্ণগত সংখ্যালঘু
সম্প্রদায় থেকে আসা সংগঠনেরই কয়েক-জন ছোটো-খাটো ধর্মগুরু।
মঙ্গলবার
লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারে অনুষ্ঠিত সিনডের বার্ষিক অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বিএনপিতে
যোগদান থেকে যাজকদের বিরত রাখা সংক্রান্ত সিনডের ভৌটে সর্বমোট ৪শো আঠারো জন সদস্যের
মধ্যে ৩শো বাইশ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভৌট দেন। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভৌট পড়ে ১৩
টি। ২০ জন সিনড সদস্য ভৌট-দানে বিরত থাকেন। বাকী সদস্যরা অধিবেশনে হাজির ছিলেন না।
উল্লেখ্য, বছরে সর্বমোট দু-বার সিনডের অধিবেশন বসে।
ভৌটের
আগে এসৌসিয়েশন অফ চীফ পুলিস অফিসার্সের অনুকরণে ‘বর্ণগত
সমতা সমুন্নত রাখার দায়িত্বের সাথে বিরোধাত্মক অবস্থান সম্পন্ন’
সংগঠনের সাথে সম্পর্ক না রাখার পক্ষে আলোচনাতে অংশ নেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে চার্চ
অফ ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে বিএনপিকে ভৌট না দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানানো
হয়েছিলো।
এদিকে,
বিএনপি-বিরোধী অবস্থান নেয়ার দিনটিতে বর্ণগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েক জন যাজকের
কড়া সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে চার্চ অফ ইংল্যান্ড। বিএনপির সাথে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ
করা সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপনকারী যাজক বাসান্তা গ্ন্যানাডস
বলেন ‘আমার
অভিজ্ঞতা বলে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে চার্চ উদাসীনতা
প্রদর্শন করে।' উত্থাপিত প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি জানান,
বিএনপি-বিরোধী প্রস্তাবটি পাস করানো অত্যন্ত জরুরী। এ-প্রসঙ্গে আশঙ্কা ব্যক্ত করে
গ্ন্যানাডস
আরও বলেন, 'এটা করা না হলে এমন এক সময় আসবে, যখন বিএনপি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠবে
এবং দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ না করে দৌর্বল্য প্রদর্শনের দায়ে অভিযুক্ত হবে চার্চ।'
সংখ্যালঘু অপর
এক যাজক রেভারেন্ড রৌস হাডসন উইলকিন্স বলেন, 'আমরা জানি যে এই [বর্ণবাদী] মনোভাব
এখানে [চার্চ অফ ইংল্যান্ডে] বিরাজ করে।' বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ দেখাতে গিয়ে তিনি
জিজ্ঞেস করেন, 'এ-চেম্বারে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হাতেগোনা কয়েক জন মাত্র
লোক দেখা যাচ্ছে কেনো?' উইলকিন্স আরও বলেন, 'চার্চের অধীনস্থ প্যারিস এবং ডিওসিসগুলোতে
বর্ণবাদের চাপা একটা আভাষ টের পাওয়া যায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ পরিষদের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তটির মধ্য দিয়ে
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্ত অবস্থান গ্রহণ না করার ব্যাপারে সংগঠনের ভিতরে
জমে থাকা ক্রোধ কিছুটা হলেও প্রশমনে সমর্থ হয়েছে চার্চ অফ ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
স্মরণ করা যেতে, পারে গত বছরের শেষ দিকে ইন্টারনেটে বিএনপির ১২ হাজার সদস্যের
নাম-ধাম সম্বলিত যে-তালিকা ফাঁস হয়ে গিয়েছিলো, তাতে চার্চ অফ ইংল্যান্ডের জনা
পাঁচেক সদস্যও ছিলেন। চার্চ অবশ্য জানায়, বিএনপির সাথে যুক্ত হবার আগেই তারা
চার্চের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
১০
ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|