|
জানুয়ারীতে প্রায় ছয় লক্ষ কর্মহানি
যুক্তরাষ্ট্রেঃ
সামনে আরও খারাপ
শুধুমাত্র
জানুয়ারী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সর্বমোট পাচঁ লক্ষ আটানব্বই হাজার কর্মহানি
হয়েছে। দেশটির লেবার ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এ-তথ্য দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একই
সাথে জানিয়েছে,
পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার সমূহ-সম্ভাবনা
আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডিপার্টমেন্টের হিসাবে প্রকাশ, জানুয়ারী মাসকে ধরে অর্থনৈতিক
মন্দা-পরিস্থিতি শুরুর দিনগুলো থেকে এ-পর্যন্ত কর্মহানির
মোট সংখ্যা ৩ দশমিক ছয় মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ৩ দশমিক এক মিলিয়ন মানুষ পূর্ণ-কালীন
কাজ-কর্ম
না পেয়ে খন্ড-কালীন
চাকুরী যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা
শুরু হয়েছে বলে সরকারীভাবে
ধরে নেয়া হয়েছে। শতকরা হিসাবে ধরলে কর্মহানির
হার আগের বছরের ডিসেম্বর মাসের ৭ দশমিক দুই শতাংশ থেকে থেকে বেড়ে জানুয়ারী মাসে এসে
৭ দশমিক ছয় শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কর্মহানির
এ-হার ১৯৯২ সালের পরে সর্বোচ্চ। হিসাবে প্রকাশ, গত নয়মাসের প্রত্যেক তিন মাসেই
অর্ধ-মিলিয়ন করে কর্মহানির
ঘটনা ঘটেছে।
জানা
গেছে, আশির
দশকের সূচনাতে যুক্তরাষ্ট্রে যে-মন্দার
ঘটনা ঘটেছিলো, তার
তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই
খারাপ হয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন,
সামনের মাসগুলোতে কর্মহানির
ঘটনা আরও বেড়ে যাবার সমূহ-সম্ভাবনা
আছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অর্থনীতি বাঁচিয়ে তোলার জন্য যতো
বড়ো পদক্ষেপই গ্রহণ
করা হোক না কেনো, অন্তত চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত কর্মহানি
রোধ হবার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
ক্রেডিট
রেটিংস, রিস্ক ও এনালাইসিস বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মুডিস ইকৌনমির অর্থনীতিবিদ মার্ক
জ্যান্ডি
সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যবসা
প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভীতির মধ্যে আছে এবং টিকে থাকার সংগ্রাম করছে।’
তার মতে যুক্তরাষ্ট্র-জুড়ে
এখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সরকারের নীতি-নির্ধারক মহলের পক্ষ থেকে ব্যাপক
উদ্যোগ গ্রহণ করা
না হলে পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকবে। ইকৌনমিক পলিসী
ইন্সটিটিউটের
প্রেসিডেন্ট লরেন্স মিশেল বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন,
‘এটা
হচ্ছে কটি ভৌতিক শৌ,
যা আমরা এখন প্রত্যক্ষ করছি।’
অর্থনীতিবিদের হিসাব-মতে এ-বছরের দ্বিতীয়-অর্ধে আরও দু-মিলিয়ন কর্মহানির
আশঙ্কা
আছে।
লন্ডনঃ
৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|