London:

Home

Archive

Contact

About us

সম্পাদকীয়

কলাম

সাক্ষাতকার

সাময়িকী

ঘুর দেখি লন্ডন

পাঠকের কলম

কী-কখন-কোথায়

পত্র-পত্রিকা

 রেডিও

টেলিভিশন

ফটো-গ্যালারী

মুক্তি পেয়েছেন পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক কাদীর খান

পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আব্দুল কাদীর খান ইসলামাবাদ হাই কৌর্টের রায়ে গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেছেন । ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি বিক্রির স্বীকারোক্তি প্রদান করা কাদীর খান ২০০৪ সাল থেকে গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন। গৃহবন্দীত্বের পূর্বে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান-বিষয়ক উপদেষ্টার পদে কর্মরত ছিলেন।

খবরে প্রকাশ, ৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ আসলামের রায়ে আব্দুল কাদীর খান মুক্তি লাভ করেছেন। এ-আদেশের ফলে এখন থেকে কাদীর খান অতিথিদের সাথে দেখা করতে পারবেন। এছাড়া তিনি বাড়ীর বাইরেও যেতে পারবেন। তবে তাকে কর্তৃপক্ষের কাছে অবশ্যই রিপৌর্ট করতে হবে। উল্লেখ্য, খান ইসলামাবাদের বাইরে যেতে চাইলে তাকে ৪৮ ঘন্টা আগে যথাযথঃ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জানা গেছে, খানের নিরাপত্তার জন্যই এ-বিষয়টি রাখা হয়েছে।

মুক্তি পাওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় খান সাংবাদিকদের বলেন, এটা আনন্দের বিষয়। আল্লাহ্‌র আশীর্বাদে রায়টি সঠিক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ-রায়ের কারণেই আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। খান জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য যা করেছেন তার জন্যে তিনি গর্বিত। এদিকে আব্দুল কাদীর খানের এ্যাডভৌকেইট আলি জাফর স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, যেহেতু কৌর্ট বলেছে, তিনি কোনো পারমাণবিক বিস্তার কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নন, তাই তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। সুতরাং তিনি একজন স্বাধীন নাগরিক।

উল্লেখ্য, আব্দুল কাদীর খান ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী এক টেলিভিশন বক্তব্যে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছিলেন। খান তার বক্তব্যে আরও স্বীকার কএছিলেন যে তিনি একটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক প্রযুক্তি পাচারকারী দলের সদস্য। উল্লেখ্য, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ পরের দিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারী এক ঘোষণায় জানান, এহেন অন্যায় কাজ করা সত্ত্বেও জাতীয় হিরো আব্দুল কাদীর খানকে তার দেশের জন্য রাখা পূর্ববর্তী অবদানের কারণে ক্ষমা করা হয়েছে কিন্তু তার চলচল নিয়ন্ত্রণের জন্য কাদীর খানকে গৃহবন্দী করে রাখা হবে।

পারভেজ মুশাররফ ৫ অগাস্ট ২০০৫ সালে কিয়োডো নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে কাদীর খানের পারমাণবিক প্রযুক্তি পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে ঘটনাটি সত্য হিসেবে নিশ্চিত করেন। কিন্তু জুলাই ২০০৮ সাল তদন্ত চলা-কালে দেয়া সাক্ষাতকারে আব্দুল কাদীর খান পূর্বের দেয়া সমস্ত স্বীকারোক্তি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ জাতীয় স্বার্থের কারণে তাকে বলির পাঁঠা বানিয়েছিলেন। আব্দুল কাদীর খান পালটা অভিযোগ করে বলেন যে, ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় পারমাণবিক প্রযুক্তি পাচারের সাথে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ জড়িত ছিলেন।

এদিকে মার্কিন সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট হিলারী ক্লিন্টন জানান, তিনি খানের মুক্তির সিদ্ধন্তের বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। ওয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, যে-সব কারণে খান গৃহবন্দী ছিলেন সে-সব কারণের সাথে তিনি-যে আর সম্পৃক্ত নন, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হতে চায়। গত বছর জাতিসংঘের পরমাণু বিষয়ক ওয়াচডগের এক রিপৌর্টে জানানো হয়েছে যে, কাদীর খানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরীর নীল-নকশা ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ায় পাচার করা হয়েছে এবং বিশ্বের ১২টি দেশে তারা তৎপর রয়েছে।

লন্ডনঃ ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.