|
ফিলিস্তিনীদেরকে
ভূমি ছাড় নয়ঃ নেতানিয়াহুর হুমকি
ইসরায়েল থেকে
ক্ষমতায়
গেলে অধিকৃত ভূমি ফিলিস্তিনীদের হাতে ছেড়ে না দেয়ার ব্যাপারে হুমকি জারী করছেন
ইসরায়েলে বিরোধী দলীয় নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দাবী,
ভূমি ছেড়ে দেয়া হলে, তা শেষ পর্যন্ত
‘জঙ্গীবাদীরা
হাতিয়ে নিয়ে নিবে’।
উল্লেখ্য, আগামী সপ্তাহে
অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হবার সমূহ সম্ভাবনা থাকার কারণে
নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
বুধবার
দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু জানান,
ফিলিস্তিনীদের সাথে ভূমি ফিরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত শান্তি-আলোচনাতে
বসার পরিবর্তে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেবেন। কড়া জায়নবাদী
রাজনীতিক নেতানিয়াহু তার পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক
শান্তির’
পরিকল্পনা হিসাবে
চিহ্নিত করেছেন। লিকুদ পার্টির নেতা ও সাবেক এ-প্রধানমন্ত্রীর
সর্বশেষ বক্তব্যটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর হিসাবে ধরে নেয়া
হচ্ছে। ওবামা প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেল দীর্ঘদিন থেকেই
ইসয়ায়েলীদের ভূমি-দখল নীতির বিরোধিতা
করে আসছেন। ২০০১ সালের তিনি এ-ব্যাপারে একটি বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিলেন।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে সে-সময় থেকে ধরলে প্রায় পাঁচ লক্ষ ইহুদী পশ্চিম তীর ও পূর্ব
জেরুজালেমে বসতি স্থাপন করেছেন।
নেতানিয়াহু আরও
জানিয়েছেন,
পশ্চিম তীর-সহ অধিকৃত পুরো এলাকা থেকে কিছু
বসতি প্রত্যাহার করার ব্যাপারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক যে-অংঙ্গীকার
করেছেন, তা
মান্য করার ব্যাপারেও তিনি নিজেকে বাধ্য মনে করবেন না।
উল্লেখ্য গত সপ্তাহে হারতেজ
পত্রিকার সাথে আলাপেও নেতানিয়াহু একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন,
[ভূমি ফিরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত] এ-বুঝাপড়া
অকার্যকর ও অগুরুত্বপূর্ণ।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
নির্বাচনী জনমত-জরীপগুলোতে বেশ
খানিকটা এগিয়ে থাকা লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহু নির্বাচনী বিজয় নিশ্চিত করার
অভিপ্রায় থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এ-ধরণের কথা-বার্তা বলছেন।
উল্লেখ্য ,
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামাসের রকেট
হামলাকে অজুহাত হিসাবে দেখিয়ে দেশের ভিতরে ফিলিস্তিন-বিরোধী মনোভাব উসকে দেয়ার
ক্ষেত্রে প্রধানতম ভূমিকা রেখেছেন নেতানিয়াহু।
গতমাসে তিনি জানিয়েছিলেন
ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দানের পরিবর্তে অন্য ‘মডেল’
নিয়েও কথাবার্তা বলার মতো অবকাশ আছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে
সিরিয়ার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া গোলান মালভূমি ফিরিয়ে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন
নেতানিয়াহু।
কাদিমা ও লেবার পার্টির ক্ষমতাসীন জোট
জানিয়েছে, ‘শান্তি-চুক্তির’
ব্যাপারে সিরিয়ার সাথে বুঝাপড়া
সম্ভব হলে গোলানের উপর থেকে অধিকার ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে তারা রাজী আছেন।
লক্ষ্য করার বিষয়,
এবারের নির্বাচনী মৌসুমে ইসরায়েলের
কোনো দলের পক্ষ থেকেই ফিলিস্তিনী ভূমিতে বসতি-স্থাপনের বিরুদ্ধে তেমন কোনো কথা বলা
হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে জায়নবাদী আদর্শ-পুষ্ট
বসতি-স্থাপনের স্বপক্ষের আন্দোলনকারীরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিজেদের অবস্থান
জোরদার করার লক্ষ্যে সরকারের উপরে চাপ জোরালো করেছেন।
লন্ডনঃ ৪ ফেব্রুয়ারী
২০০৯ |