|
তুষারে মুড়ে গেছে লন্ডন-সহ পুরো ব্রিটেইনঃ স্বাভাবিক জীবন
ব্যাহত
ঊনিশ
বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রার তুষারপাতের পরিণতিতে রাজধানী লন্ডন-সহ ব্রিটেইনের
প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন-জীবন অচল হয়ে পড়েছে। রোববার সন্ধ্যার দিকে শুরু হয়ে সোমবার
এ-খবর লেখা পর্যন্ত তুষারপাত অব্যাহত আছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে সামনের কয়েক দিন
তুষার জনিত দুর্যোগ চলতে থাকবে।
আবহাওয়া
অফিস আগে থেকে সতক বার্তা দেয়া হলেও তুষারপাতের মাত্রা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে
দাঁড়াবে, সে-ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিশ্চিত কোনো ধারণা ছিলো না। সারা রাতের
তুষারপাতের পরে সপ্তাহ শুরুর প্রথম দিনটিতে ঘরের বাইরে বেরুবার মুখে দেখা দেয় মূল
সমস্যা। তুষারের কারণে যান-চলাচলের ক্ষেত্রে আগের রাত থেকেই সৃষ্ট বিঘ্ন চূড়ান্ত
রূপ নেয় সকালে। বাস, টিউব, ট্রেইন-সহ জন-যাতায়াতের সকল মাধ্যম প্রায় বা পুরোপুরি
বন্ধ হয়ে গেলে মিলিয়ন-মিলিয়ন মানুষ অফিস গমনের পরিবর্তে বাড়ী-ঘরেই অবস্থান করেন।
দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই গণহারে অফিস কামাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে মিডিয়া। এছাড়াও
প্রাথমিক হিসাবে অফিস কামাই-জনিত ক্ষতির অঙ্ক কমপক্ষে এক বিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে
বলে জানা গেছে।
এদিকে
ভারী তুষারপাতের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের কাছে দিনটি হয়ে দাঁড়ায়
আনন্দময় এক ছুটির দিন। ইউকেবেঙ্গলি টীমের সদস্যরা লন্ডনের বিভিন্ন স্থানেই
শিশু-কিশোরদের মনের আনন্দে বাড়ীর আঙ্গিনা ও বাড়ীঘরের সামনে বন্ধ হয়ে যাওয়া
রাস্তা-ঘাটে তুষার নিয়ে খেলতে দেখেছেন। এছাড়াও তুষারপাত উদযাপন উপলক্ষ্যে সাধারণত
দিনের বেলায় খালি পড়ে থাকা পাড়ার পাবগুলোতে দেখা গেছে নানান বয়েসী নারী-পুরুষের
ভীড়। পাবলিক বাস, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ী বা টিঊব সার্ভিস না খুললে মঙ্গলবার
অফিস-আদালতে যাবার ব্যাপারটি নিয়ে অনেককে আশঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা যায়।
লন্ডনের
বাইরে ইংল্যান্ডের সকল অংশ থেকেই তুষারপাত-জনিত দুর্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রায় সকল এলাকাতেই তুষারপাত অব্যাহত
থাকার খবর পাওয়া গেছে। ওয়েলসের একটি স্থান থেকে উদ্ধার-কর্মীরা তুষারের স্তুপ থেকে
দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করছেন। তুষারের মধ্যে নিঁখোজ হয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খুঁজতে
যেয়ে দেহ দুটি খুঁজে পান উদ্ধার-কর্মীরা।
লন্ডনঃ
২ ফেব্রুয়ারী ২০০৯
|