|
মন্দাগ্রস্ত প্রাইভেইট
স্কুল
সরকারী করা হবেঃ স্কুল মিনিস্টার জিম নাইট
অস্তিত্ব
বাঁচানোর তাগিদে অর্থনৈতিক মন্দার আঘাতে জর্জর ইংল্যান্ডে এবার বিলাস-বহুল
প্রাইভেট-স্কুলগুলো পর্যন্ত সরকারী হয়ে যাবার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। শনিবার সরকারী
সূত্র থেকে এ-তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছ এবং এ-ব্যাপারে সম্মতি দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের
ধারণা, এ-পরিস্থিতি চলতে থাকলে
আগামী ভর্তি মওসুমে এমনিতেই হাজারো সমস্যাতে ধুঁকতে থাকা স্টেইট স্কুলগুলোর
উপরে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন
বরাদ্দের ব্যাপারটিকে ঘিরে নতুন এক চাপ তৈরি হবে।
শনিবার
স্কুল
মিনিস্টার জিম নাইট জানান,
মন্দা-জনিত কারণে সমস্যার মধ্যে পড়ে যাওয়া ফী-চার্জিং
স্কুলগুলো যদি
এাকাডেমী
হিসাবে নিবন্ধিত হতে চেয়ে আবেদন করে, তাহলে সে-আবেদন
বিবেচনা করা হবে। জানা গেছে,
মন্ত্রীর কাছ থেকে এ-ব্যাপারে বক্তব্য আসার আগেই মূলতঃ
এক্ষেত্রে কাজ শুরু
হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে
সর্বমোট পাঁচটি
প্রাইভেট স্কুল সরকারের একাডেমী স্কীমে যোগ দিয়ে ফেলেছে।
অপর একটি
স্কুলও সহসাই একাডেমীতে
রূপান্তরিত হবে বলে জানা গেছে।
মিডিয়া জানিয়েছে, যে-সব এলাকাতে
প্রাইভেট স্কুলের সংখ্যা বেশি, সে-সব
এলাকাতে
এাকাডেমী
স্কিমে যোগ দেয়ার প্রতিযোগিতাও বেশি।
উল্লেখ্য
এাকাডেমী
স্কিমে যোগ দিতে
চাইলে প্রাইভেট
স্কুলগুলোকে বেতন-ফী
কমানোর সাথে-সাথে
ভর্তি ও পাঠদানের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল কারিকুলাম অনুসরণের
অঙ্গীকার
করতে হবে।
তবে এসব
স্কুল সরকারের কাছ থেকে অনুদান পেলেও স্টাফ নিয়োগ ও নিজস্ব ক্যারিকুলাম অনুসরণের
ক্ষেত্রে স্টেইট স্কুলগুলোর তুলনায় অধিক স্বাধীনতা ভোগ করবে বলে জানা গেছে।
সরকারী
অর্থ ব্যবহারের পরেও রূপান্তরিত
স্কুলগুলোকে অধিক স্বাধীনতা দেয়ার পক্ষে কী যুক্তি কাজ
করছে, তা
স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের
মতে,
মূলতঃ
ধনী ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের সন্তান-সন্ততিদের জন্য পড়াশোনার
খোলা থাকা ইংল্যান্ডের
প্রাইভেট স্কুলগুলোর মধ্যে সরকারী একাডেমীতে
রূপান্তরিত হবার চেষ্টার
সাথে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার ব্যাপারটি সরাসরি
জড়িত। পরিস্থিতি
ব্যাখ্যা করে
এান্থনী
সেলডন নামের একজন প্রাইভেট স্কুল প্রধান শিক্ষক শনিবার গার্ডিয়ান পত্রিকাকে জানান,
এটা ‘পছন্দ করে বেছে নেয়া’ সিদ্ধান্ত নয়
বরং অনেক প্রাইভেট স্কুলের জন্য ‘একমাত্র বিকল্প’।
এতো
দিন ধরে সাধারণ ঘরের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বার বন্ধ করে রাখা প্রাইভেট স্কুলগুলোকে
এখন সরকারের তরফ
থেকে সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্তটিকে অনেকে ‘বেইল আউট’ হিসাবেই বিবেচনা করছেন।
অনেকের ধারণা,
সরকারের পক্ষ থেকে
যেভাবে
এাকাডেমীতে
রূপান্তরের
মাধ্যমে উচ্চবিত্তদের
স্কুলগুলোকে বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে,
তা শেষ পর্যন্ত
নানান সমস্যায় জর্জরিত স্টেইট স্কুলগুলোর উপরে নতুন করে চাপ তৈরী করবে।
বিশেষ-করে,
বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাইভেট
স্কুলগুলোর হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর জন্য স্টেইট স্কুলগুলোতে আসনের ব্যবস্থা করাটা
একটি বড়ো ধরণের
চ্যালেইঞ্জ হয়ে
উঠতে পারে বলে আশঙ্কা
করা
হচ্ছে। বিভিন্ন
লৌকাল অথরিটী
জানিয়েছে,
যে-সব
পরিবারের শিশুরা সাধারণতঃ
প্রাইভেট স্কুলে যায়,
তাদের মধ্যে স্টেইট
স্কুলমুখী হবার প্রবণতা
ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অডিট কমিশনের
গত মাসের একটি হিসাবেও এ-তথ্যের
সত্যতা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য
ইংল্যান্ডে প্রাইভেট স্কুলগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লক্ষ, যা মোট স্কুলগামী
শিক্ষার্থীর সংখ্যার সাত ভাগ।
লন্ডনঃ
১ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ |