|
ঢাকায়
একুশে বইমেলা শুরুঃ অনুবাদ-কর্মে জোর দিলেন শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রোববার একুশের বইমেলা শুরু হয়েছে ঢাকায়। ঢাকার
বাংলা
এাকাডেমী
প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া বাংলাদেশের সর্বাবৃহৎ এ-বইমেলা চলবে গোটা ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে
পরিচিত করে দিবার লক্ষ্যে অনুবাদের উপর গুরুত্ব দেবার জন্য
বাংলা
এাকাডেমীর
প্রতি আহবান জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা বলেন, 'বাংলা ভাষায় অনেক ভালো লেখা হয়েচ্ছে, কিন্তু সে-সব বই বিশ্বের দরবারে
উপস্থাপন করতে পারছি না। এর কারণ, আমাদের বইয়ের ভালো অনুবাদ হয় না।' তিনি আরও বলেন,
'বাংলা-সাহিত্যের অনুবাদ-কর্ম ছাড়াও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাহিত্য সাহিত্য-কর্মেরও
অনুবাদ প্রয়োজন।' এজন্য বাংলা
এাকাডেমীকে
সব ধরণের সহযোগিতা দেবার অঙ্গিকার করেন শেখ হাসিনা।
শ্রবণ ও বাক
প্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারা-ভাষা চালু করার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'শ্রবণ
প্রতিবন্ধীদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ইশারা ভাষা চালু করা হবে, আমি আশা
করবো সরকারী গণ-মাধ্যমের মতো বেসরাকারী গণ-মাধ্যমগুলোও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে।'
একুশে ফেব্রুয়ারী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, 'একুশে ফেব্রুয়ারী ইতিহাস বিশ্ববাসীকে
জানাতে হবে। কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, 'আপনারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী
হিসাবে দেখবেন না। আমি বঙ্গবন্ধু-কন্যা। সবার পরামর্শ নিয়েই দেশের সার্বিক উন্নয়ন
করতে চাই।'
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
শেষে বইমেলার বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নেয়া হয়েছিলো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে অতীতের মত
এবারও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো বদল হয়নি বলে মত প্রকাশ করলেন মেলায় আসা ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান সম্মান শ্রেণীর চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা।
তিনি ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন, 'আগে দেখেছি প্রধানমন্ত্রী থাকা-কালে খালেদা জিয়ার মেলায়
আগমন উপলক্ষ্যে ছাত্রদল বড়ো শৌডাউন দিতো, এখন সে-জায়গায় শৌডাউন দিচ্চে ছাত্রলীগ।'
এতো কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে কামরাঙ্গির চরের বাসিন্দা
কবিরুদ্দিন সস্ত্রীক মেলায় এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পারেননি বদরুদ্দিন বা
তার স্ত্রী, তবে প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা গাড়ীটি দেখতে পেয়েছেন। এতেই খুশী তারা।
মেলার সার্বিক
পরিস্থিতিতে খুশী আগামী প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী ওসমান গণি। ইউকেবেঙ্গলিকে তিনি
বলেন, 'অন্যান্যবারের চেয়ে এবারকার মেলা অনেক বেশি সুশৃঙ্খল। এটা দেখে ভালো লাগছে।
এবার প্রথমবারের মতো মেলায় বাংলা
এাকাডেমীর
মূল প্রাঙ্গণের বাইরেও স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবার স্টল শুরু হয়েছে টিএসসির রাজু
ভাষ্কর্য থেকে।
ঢাকা থেকে
মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান
১ ফেব্রুয়ারী
২০০৯ |