|
বিশ্বে কর্ম-হীন হবে ৫
কোটির বেশি মানুষঃ
আইএলও মহা-পরিচালক
চলমান
অর্থনৈতিক দুর্গতির পরিণতিতে
চলতি বছরে সারা দুনিয়াতে ৫
কোটির বেশি মানুষের কর্মহানির আশঙ্কা ব্যক্ত
করেছেন
শ্রম ও শ্রমিক
বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গেনাইজেশনের (আইএলও)
মহা-পরিচালক খুয়ান সোমাভিয়া। আইএলওর পক্ষ থেকে বুধবারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,
পরিস্থিতি একেবারে খারাপের দিকে চলে গেলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কর্মচ্যুত মানুষের
সংখ্যা এমনকি ৫১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভয়াবহ এ-পরিস্থিতির হাত থেকে রেহাই পাবার
লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত প্রয়াসের উপরে গুরুত্বারোপ করেছে আইএলও।
আইএলওর
গ্লৌবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ২০০৯ শীর্ষক প্রতিবেদনের হিসাব-মতে, বিশ্বব্যাপী
কর্মহানির হার ২০০৮ সালের ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০৯ সালে ৭ দশমিক এক শতাংশে ঠেকতে
পারে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বৈশ্বিক কর্মহীনতার হার ছিলো ৫ দশমিক সাত শতাংশ। এছাড়াও
সংস্থাটি জানিয়েছে পরিস্থিতি এখন যতোটা খারাপ দেখাচ্ছে, শেষমেশ ততোটা খারাপ না
হলেও, এ-বছর সারা বিশ্বে কমপক্ষে ৩০ মিলিয়ন মানুষ কাজ-কর্ম হারাবেন। বছরের বাকী
মাসগুলো নিয়ে সর্বোচ্চ-মাত্রার আশাবাদী চিত্র ধরে নিয়েও বৈশ্বিক কর্মহানির সংখ্যা
১৮ মিলিয়নের নিচে নামাতে পারেনি আইএলও।
আইএলওর
হিসাব-মতে, বিশ্ব-অর্থনীতির চলমান সঙ্কটের পরিণতিতে ‘উন্নয়নশীল’
নামে পরিচিত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে আবার সাব-সাহারান
আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হবার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
২০০৮ সালের শেষে অবশ্য উত্তর আফ্রিকা (১০ দশমিক তিন শতাংশ) ও মধ্যপ্রাচ্যে (৯ দশমিক
চার শতাংশ) কর্মহীনতার হার লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও গত বছর মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব
ইউরোপ ও সাবেক সৌভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোতে কর্মহীনতার হার ছিলো ৮ দশমিক আট শতাংশ।
সাব-সাহারান আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতে ছিলো যথাক্রমে ৭ দশমিক নয় শতাংশ ও ৭ দশমিক
তিন শতাংশ। সারা দুনিয়ার মধ্যে কর্মহীনতার
ঝুঁকি মোকাবেলাতে সেরা সাফল্য দেখিয়েছিলো
পূর্ব-এশিয়া। এ-অঞ্চলটিতে কর্মহীনতার হার ছিলো মাত্র ৩ দশমিক আট শতাংশ।
পরিস্থিতির উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে সোমাভিয়া বলেন,
'অনেকগুলো সরকার পরিস্থিতির ব্যাপারে সচেতন আছে এবং নানা রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে,
তবে বিশ্ব-মন্দা সামাল দিতে চাইলে অধিক হারে সিদ্ধান্তমূলক ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক
উদ্যোগের ব্যাপারটি একান্ত প্রয়োজন।' বিদ্যমান পরিস্থিতিকে
‘বৈশ্বিক
কর্ম-সঙ্কট’
হিসাবে আখ্যা দেন সোমাভিয়া। তার মতে, বর্তমান সময়ে এসে বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচন
কর্মসূচির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। আর মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়টি হয়ে পড়ছে দুর্বল।
লন্ডনঃ ২৯
জানুয়ারী ২০০৯
|